লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৫

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে গতকাল সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারী প্রথমে টেমস নদীর ওপর ওয়েস্টমিনিস্টার সেতুতে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের সীমানার ভেতরে ঢুকে ছুরি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। দেশটির পুলিশ এই ঘটনাকে ‘ইসলামপন্থী সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে গতকাল সন্ত্রাসী হামলায় পাঁচ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারী প্রথমে টেমস নদীর ওপর ওয়েস্টমিনিস্টার সেতুতে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের সীমানার ভেতরে ঢুকে ছুরি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। দেশটির পুলিশ এই ঘটনাকে ‘ইসলামপন্থী সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যে জায়গায় হামলা হয়েছে তার ঠিক পাশেই লন্ডনের বিখ্যাত বিগ বেন টাওয়ার ও ওয়েস্টমিনিস্টার সেতু। এই জায়গাটি দেখতে প্রতি বছর লাখো পর্যটক ভিড় করেন।

সেতুর ওপর পথচারীদের চাপা দেওয়ার পর পার্লামেন্টের বাইরের রেলিংয়ের সাথে হামলাকারীর গাড়িটি ধাক্কা লাগে। হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে পার্লামেন্ট ভবনের সীমানার ভেতরে ৪৮ বছর বয়সী এক পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় দায়িত্বরত আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসুস্থ ও বিকৃত রুচির’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

হামলার পর জরুরি বৈঠক করেছে ব্রিটেনের মন্ত্রীসভা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মে তার ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনের বাইরে বলেন ব্রিটেনজুড়ে সতর্ক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে। বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পার্লামেন্ট অধিবেশন বসার কথাও জানান তিনি। এসময় তিনি কালো পোশাকে ছিলেন।

মে বলেন, “আমরা একসঙ্গে অগ্রসর হবো এবং সন্ত্রাসের কাছে নত হবো না। ঘৃণা ও অপশক্তি আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।”

হামলার সময় পার্লামেন্টের ভেতরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তখন যৌথ অধিবেশন চলছিল। ব্রিটেনের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয় গুলির শব্দ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি রূপালি রঙয়ের গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্ট থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি সদস্যরা পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটকা পড়েন।

দেশটির শীর্ষ সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তা মার্ক রাউলি জানান, নিহত পাঁচ জনের মধ্যে এক জন পুলিশ কর্মকর্তা। বাকি চার জন সাধারণ মানুষ। হামলার কারণ সম্পর্কে ইসলামি জঙ্গিবাদকে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে রাউলি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না জানালেও বলেন, তদন্তকারীদের বিশ্বাস তারা হামলাকারীর পরিচয় উদঘাটন করে ফেলেছেন।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বোমা হামলার বর্ষপূর্তির দিন লন্ডনে হামলা হলো। ইউরোপজুড়ে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার পর ২০১৬ সালের ২২ মার্চ ব্রাসেলসে জোড়া বোমা হামলায় ৩২ জন নিহত হয়েছিলেন।

Click here to read the English version of this new

Comments