করোনায় ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

'বাবা আমি চাকরি পেলে তোমাকে আর কষ্ট করা লাগবে না’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হোসেন মারা গেছেন৷ সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যেই পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সুমন৷ হাতে টাকা না থাকায় ছেলেকে ভর্তি করতে জমি বিক্রি আর বন্ধক রাখেন বাবা৷ ছেলেকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের স্বপ্ন৷ পড়াশোনা শেষ করে বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবে-এমন স্বপ্ন ছিল সুমনের৷ কিন্তু করোনার থাবায় সে স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
সুমন হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হোসেন মারা গেছেন৷ সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যেই পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সুমন৷ হাতে টাকা না থাকায় ছেলেকে ভর্তি করতে জমি বিক্রি আর বন্ধক রাখেন বাবা৷ ছেলেকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের স্বপ্ন৷ পড়াশোনা শেষ করে বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবে-এমন স্বপ্ন ছিল সুমনের৷ কিন্তু করোনার থাবায় সে স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় ঝিনাইদহে নিজ বাড়িতে সুমনের দাফন সম্পন্ন হয়৷ মোবাইল ফোনে সুমনের বাবা আমির হোসেনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের৷ 
আমির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার আর কিচ্ছু নেই। তাকে ছাড়া কী করে বাঁচবো৷ আমাদের আশা-ভরসা ছিল সুমন। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি৷ বাবা-মায়ের আগে, সন্তানের চলে যাওয়া যে কত কষ্টের, তা বলে বোঝাতে পারবো না৷'
সুমন হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন৷ করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন সুমন৷
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পড়াশোনা শেষ করে সুমনের ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার স্বপ্ন ছিল৷ এজন্য সরকারি চাকরির পড়াশোনা করতেন।
সুমনের বাবা কৃষি কাজ করেন৷ নিজে পড়াশোনা না জানলেও ছেলেদের পড়াশোনা করে মানুষ করতে সংগ্রাম করেছেন তিনি৷ সুমনের বাবা আমির হোসেন বলেন, 'আমার বাড়ি আর জমি মিলে এক বিঘা পরিমাণ আছে৷ ছেলেকে ভর্তি করতে জমি বিক্রি আর বন্ধক দিয়েছি৷ ভাবলাম ছেলে চাকরি পেলে সংসারের অভাব দূর হবে৷’
তিনি আরও জানান, সুমন আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলতো 'বাবা আমি চাকরি পেলে তোমাকে আর কষ্ট করা লাগবে না৷'
সুমনের ছোট ভাই সুজন হোসেন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী৷
জানতে চাইলে সুজন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভাইয়ার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট হবে৷ আমাকে সব সময় ভালো করে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিতো৷'
সুমনের অসুস্থতার খবর বিভাগের শিক্ষকরা জানতে পারেন তার মৃ্ত্যুর দুদিন আগে৷ বিভাগের উদ্যোগে কিছু আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফারহানা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সুমনের অসুস্থতার সম্পর্কে প্রথমে আমরা অবগত ছিলাম না৷ দুদিন আগে আমাদের জানানো হয়৷ এতো কম সময়ে বিভাগের উদ্যোগে সামান্য কিছু অর্থ সংগ্রহ করেছি৷'
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সুমনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা যায় কি-না, সে ব্যাপারে বিভাগ এবং হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব৷' 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছে৷ এটি আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক৷'
সুমনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি আরও বলেন, 'আমি সমাজের সবার প্রতি আহ্বান করবো যে, এ ধরনের সংগ্রামী পরিবারের পাশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই যেন দাঁড়ায়৷ এটি মানবিক এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ৷'

Comments

The Daily Star  | English
national election

Human rights issues in Bangladesh: US to keep expressing concerns

The US will continue to express concerns on the fundamental human rights issues in Bangladesh including the freedom of the press and freedom of association and urge the government to uphold those, said a senior US State Department official

10m ago