ব্রহ্মপুত্রের চরে বিষমুক্ত সবজি চাষ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদীর বুকে ২০টি চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বিষমুক্ত সবজি চাষ করছে। সেই সবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে আশানুরূপ আয় করছেন চরের মানুষ। এসব পরিবারের অধিকাংশই ভূমিহীন।
চরাঞ্চলের এসব মানুষ বসতভিটার উঠানে স্বল্প পরিসরে লাউ, সিম, বরবটি, করল্লা, মরিচসহ নানা রকমের শাক উৎপাদন করছেন। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে চরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি একটি সংস্থা। সংস্থাটি চরের মানুষকে বিনা মূল্যে সবজির বীজ ও জৈবসার দিয়ে সহযোগিতা করছে।
চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চর শাখা হাতি এলাকার গৃহবধূ আমিনা বেগম (৩৪) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিন-চার বছর আগেও আমরা আমাদের বসতভিটার উঠান অব্যবহৃত রাখতাম। একটি বেসরকারি সংস্থার উৎসাহ ও সহযোগিতায় বসতভিটার উঠানকে কাজে লাগানো শুরু করেছি। জৈবসার ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছি। এতে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছি।'
'অনেক সময় উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করে টাকা রোজগারও করতে পারছি। আমি ৫ শতাংশ বসতভিটার উঠানে সারা বছরই লাউ, মরিচ, করল্লা, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করছি। বেসরকারি সংস্থাটির পরামর্শ মতে সবজি গাছের যত্ন নিয়ে থাকি। আমরা বিনা মূল্যে বীজ ও জৈব সার পাই,' যোগ করেন তিনি।
জোড়গাছ চরের রোসনা বেওয়া (৫৮) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বসতভিটায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পেরে আমরা লাভবান হচ্ছি। বাজার থেকে বেশি দামে সবজি কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বসতভিটায় উৎপাদিত সবজিতে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছি না। আমি প্রতিমাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকার সবজিও বিক্রি করতে পারছি। আমাদের উৎপাদিত সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে এসে এসব সবজি কিনে নিয়ে যান।'
চরের স্বল্প আয়ের এই পরিবারগুলোকে রাসায়নিকমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছে সাসটেইনড অপরচুনিটিজ ফর নিউট্রিশন গভর্নেন্স (সঙ্গো) নামের একটি প্রকল্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও কর্ডএইড।
প্রকল্পটির চিলমারী উপজেলার ব্যবস্থাপক আহসানুল কবির বুলু ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ব্রহ্মপুত্রপাড়ের মানুষের মাঝে বিষমুক্ত সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও সবজি চাষের প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদীর বিভিন্ন চরে প্রায় ১০ হাজার পরিবার বিষমুক্ত সবজি চাষ করছে। একদিকে চরের মানুষ যেমন পুষ্টির যোগান পাচ্ছেন, তেমনি তারা বিষমুক্ত সবজি বিক্রি করে আয়ও করতে পারছেন।'
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুমার প্রণয় বিষাণ দাস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আপাতত জৈব সার ব্যবহার করে উৎপাদিত সবজি দিয়ে পরিবারগুলোর চাহিদা মিটলেও এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সেভাবে শুরু হয়নি। এই কাজে বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কৃষি বিভাগও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে বসতভিটার উঠান অব্যবহৃত ফেলে না রেখে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করায় চরের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।'
Comments