ত্রিধারার অভিজ্ঞ চিন্তক আবুল মনসুর আহমদ

আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্যিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক—ত্রিধারার অভিজ্ঞতায় বাংলার একজন অভিভাবক। তার জন্ম এমন এক সময়ে (১৮৯৮), যখন এই অঞ্চলের মানুষ ধর্ম ও আত্মপরিচয় নিয়ে ছিল দ্বিধান্বিত। ফলত বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে আবুল মনসুরের জীবন ও কর্ম পরস্পর হাত ধরাধরি করে আছে দীর্ঘকাল। তার সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রচিন্তাকে এগিয়ে নিতে সবসময় ভূমিকা রেখে আসছে।
Abul Mansur Ahmad
আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্যিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক—ত্রিধারার অভিজ্ঞতায় বাংলার একজন অভিভাবক। তার জন্ম এমন এক সময়ে (১৮৯৮), যখন এই অঞ্চলের মানুষ ধর্ম ও আত্মপরিচয় নিয়ে ছিল দ্বিধান্বিত। ফলত বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে আবুল মনসুরের জীবন ও কর্ম পরস্পর হাত ধরাধরি করে আছে দীর্ঘকাল। তার সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রচিন্তাকে এগিয়ে নিতে সবসময় ভূমিকা রেখে আসছে।

সময়টা আর একটু ব্যাখ্যা করি—ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয়তার সঙ্গে নিজেকে ঠিকঠাক যুক্ত করার প্রয়াস জোরালোভাবে দেখা দিয়েছে উনিশ শতক থেকে। এ প্রক্রিয়া চলে এসেছে ধারাবাহিকভাবে। তবে বাঙালি জীবনের নানা দিক নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ প্রথম পাই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। উনিশ শতকের নব্যবাবুদের সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্রের শ্লেষোক্তি আপাতত উহ্য থাক! গভীরতর ভাব নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র বাঙালির ঐক্য ও বহুত্ব উপলব্ধির প্রয়াস পেয়েছিলেন। পরে বাঙালির আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে আটঘাট বেঁধে এলেন রবীন্দ্রনাথ ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কালের আবর্তে ধূমকেতুর ছায়াপথে নজরুলের আবির্ভাব। তারই সমকালে আত্মানুসন্ধানীদের উত্তরাধিকার হিসেবে হাজির হয়েছেন আবুল মনসুর আহমদ।

আর বাঙালির জন্য ভাষা ও ভূমি দুই-ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। ব্রিটিশ প্রশাসন যে সময়ে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা আঁটছিলেন। অর্থাৎ অভিন্ন জীবনধারার বাঙালির জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য- বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িকতার ঘটনায় অভিন্নতায় ছেদ পড়ে। ফলত ১৯০৫ ও ১৯৪৭ জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের অভিধাটিকেই বদলে দেয়নি, কেবল রাজনৈতিক-ভৌগোলিক বিভাজন সৃষ্টি করেনি, সময় অসময়ের অভিঘাত বাংলাদেশ ভূখণ্ডে নতুন জাতি পরিচয়ের উত্থান অনিবার্য করে তুলেছিল। আর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোর একজন অসামান্য আত্মসচেতন চিন্তক ও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

সবচেয়ে অনুধাবনের বিষয় বাংলার রাজনৈতিক বৈচিত্র্যময় ভাবনার সঙ্গে আপডেটেড ছিলেন আত্মানুসন্ধানী আবুল মনসুর আহমদ। প্রমাণ পাই—১৯০৫ সালে পশ্চিম বাংলার হিন্দু ও পূর্ব বাংলার মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক-রাজনৈতিক বিভক্তিকে তিনি দেখেছেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলাকে স্বতন্ত্র 'কালচারবিশিষ্ট' জাতি মনে করতেন-

'বাংলার মানুষের সমাজ একটা নয়, দুইটা। সে দুইটা সমাজ এক্সক্লুসিভ। তাদের মধ্যে খাওয়া-পরা, বিবাহ-শাদি ইত্যাদি সামাজিক মিল নাই। তাই এগারশ' বছর এক দেশে বাস করিয়া, একই খাদ্য-পানীয় খাইয়াও তারা দুইটা পৃথক সমাজ রহিয়া গিয়াছে। (...) ফলে এই দুইটা সমাজে দুইটা প্যারালাল কালচার গড়িয়া উঠিয়াছে। জাতীয় কালচার গড়িয়া উঠে নাই। বাংলা ভাগের মধ্যে দুইটা কালচার নিজ নিজ আশ্রয়স্থল খুঁজিয়া পাইয়াছে। পাক-বাংলার কালচার অর্থে বিভক্ত বাংলার পূর্বাঞ্চলের কালচার বুঝাইতেছি।'

রাজনীতি-প্রাজ্ঞ আবুল মনসুর আহমদের চিন্তা, অন্যদের মতোই হিন্দু-মুসলমান সমাজের ঐক্যের সমর্থক হিসেবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু পূর্বোল্লিখিত রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক আচরণের ইঙ্গিত প্রত্যক্ষ করে তিনি বস্তুত সময়ের সঙ্গে রাজনীতির ধারাকে আয়ত্ত করার লক্ষ্যে মুসলিম লীগকে সমর্থন করেন এবং লীগের সঙ্গেই রাজনীতি আরম্ভ করেন। ফলে মুসলিম লীগের নীতিগত কারণেই তার পক্ষে 'হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের' পন্থাবলম্বী হওয়ার সুযোগ ছিল না। তাছাড়া পূর্বোল্লিখিত রাজনৈতিক-সাম্প্রদায়িক বাস্তবতা তো আছেই। তবে অধ্যাপক অজয় রায়ের লেখা থেকে বলা যায়, 'ব্যক্তি হিসেবে আবুল মনসুর সাহেব কোনো সময়ই- মুসলিম লীগ বাংলায় এবং ভারতে যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে চেয়েছিল, তা পুরোপুরি সমর্থন করতে পারেননি।'

অন্যদিকে বিশ্লেষণে দেখা যায়- আবুল মনসুর আহমদের রাজনৈতিক জীবনকাল প্রায় চার দশকের। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে ছিলেন। তবে শৈশবেই তার সাংবাদিকতা ও রাজনীতির হাতেখড়ি হয়। এতে ত্রিকালদর্শী জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে যশ ও খ্যাতি যেমন ছিল, তেমনি জুটেছিল সামরিক শাসনের কারা-যন্ত্রণা। কর্মজীবনে তিনি মহাত্মা গান্ধী, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, নেতাজী সুভাষ বসু, শেরে বাংলা, আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, সৈয়দ নওশের আলী, খাজা নাজিমুদ্দিন, মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মিঞা ইফতেখারউদ্দিন, মিঞা মাহমুদ আলী কাসুরী, জি.এম. সৈয়দ, মিঞা মমতাজ দৌলতনা, আবুল হাশিম প্রমুখ এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও নেতাদের সঙ্গে ছিল তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও হৃদ্যতার সম্পর্ক।

জনশ্রুতি আছে নেতাজী সুভাষ বসুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল 'তুমি' 'তুমি' পর্যায়ের। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শ্রদ্ধাস্পদ নেতা ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু সগৌরবে আবুল মনসুর আহমদকে 'লিডার' বলতেন এবং কলেজ জীবন থেকে নিজেকে তার শিষ্য বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

স্মৃতিকথা পড়ে জানা যায়, তার জন্ম বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কিন্তু অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন সাম্প্রদায়িকতা। একইসঙ্গে রাজনীতি সচেতনতা ও সাংবাদিকতাসূত্রেই সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ হন। হাস্যরসাত্মক অথচ শাণিত বিদ্রূপাত্মক লেখার জন্যই বাংলা সাহিত্যেও একটি অনন্যসাধারণ অবস্থান অর্জন করেন। তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে অসঙ্গতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের তীব্র কষাঘাত হানাই ছিল তার সাহিত্য কর্মের প্রধান উপজীব্য।

প্রশ্নাতীতভাবেই বলতে পারি—যে অঙ্গনেই তিনি কাজ করেছেন, সেখানেই শীর্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ব্যঙ্গ সাহিত্যে বলতে গেলে অখণ্ড বাংলায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তার প্রতিটি স্যাটায়ারই কালোত্তীর্ণ। সমাজপতি, ধর্মগুরু, রাষ্ট্রপতি, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী যেখানেই দুর্নীতি, সেখানেই তার বিরুদ্ধে লেখনীর মাধ্যমে কষাঘাত করেছেন। তার রসাঘাত কশাঘাতে পরিণত হয়ে সমাজকে পরিশোধিত করতো।

খ.

আবুল মনসুর আহমদের সম্পাদিত 'ইত্তেহাদ' অফিস বাংলার মুসলিম চিন্তানায়কদের তীর্থস্থান এবং 'ইত্তেহাদ' প্রগতিবাদীদের মুখপত্রে পরিণত হয়। তিনি খুব দেখেশুনে শিক্ষিত ও অনভিজ্ঞ তরুণদের পত্রিকায় চাকরি দিয়ে হাতে-কলমে তাদের সাংবাদিকতা শেখান। ফলে হেডলাইন, ডিসপ্লে, মেক-আপ, গেট-আপ, টাইপ বিতরণ, প্রুফ রিডিং-এ অল্পদিনেই 'ইত্তেহাদ' কলকাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুন্দর বাংলা দৈনিকে পরিণত হয়। দেশভাগের পর সবাই ঢাকায় চলে আসলেও আবুল মনসুর আহমদ কলকাতায় থেকে যান। নানা ঘটনায় ১৯৫০ সালে দৈনিক ইত্তেহাদ বন্ধ হয়ে যায়। ইতি ঘটে সাংবাদিক-জীবনের। ফিরে আসেন বাংলাদেশে।

এ সময় কয়েকটি পত্রিকায় সমকালীন বিষয় নিয়ে আবুল মনসুর আহমদের অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যার প্রায় সবই পরবর্তীতে সংকলিত হয়েছে প্রবন্ধ গ্রন্থে।

এর মধ্যে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয়েছে 'বাংলাদেশের কালচার'। দেশভাগের শেষদিক, পাকিস্তান আমলের পুরো অংশ ও সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ- এই তিন আমল নিয়ে মোট ৬০টি নিবন্ধ ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সনের মধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি মূলত একজন কলামিস্ট হিসেবেই সমকালীন রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ে এই ৬০টি নিবন্ধ লিখেছিলেন, যা 'শেরে-বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু' নাম দিয়ে ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর 'বেশী দামে কেনা কমদামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' ও 'End Of A Betrayal and Restoration of Lahore' প্রকাশিত হয়।

শুদ্ধ চিন্তার আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতা করেছেন, রাজনীতি করেছেন, ওকালতি করেছেন এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো এমন একজন মানুষ আবার সাহিত্য চর্চাও করেছেন। পত্রিকার সম্পাদকীয় লেখা সম্পর্কে একটা মজার কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমাদের এখনকার সম্পাদকদের এই কথাগুলো কাজে লাগতে পারে।

তার মতে: 'সম্পাদকীয় লিখিতে হইলে সম্পাদকদিগকে সব বিষয়ে 'পণ্ডিত' হইতে হয়। এঁরা সব-ব্যাপারে সকলের স্বনিয়োজিত উপদেষ্টা। এঁরা জিন্না সাহেবকে রাজনীতি সম্বন্ধে, গান্ধীজীকে অহিংসা সম্বন্ধে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রকে রসায়ন সম্বন্ধে, ডা. আনসারীকে চিকিৎসা সম্বন্ধে, হক সাহেবকে (এ কে ফজলুল হক) ওজারতি সম্বন্ধে, শহীদ সাহেবকে (হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী) দলীয় রাজনীতি সম্বন্ধে, মাওলানা আযাদকে ধর্ম সম্বন্ধে, এমনকি জেনারেল দ্য গলকে যুদ্ধ-নীতি ও স্ট্যালিনকে কমিউনিজম সম্বন্ধে উপদেশ দিয়া থাকেন। সেই উপদেশ না মানিলে কষিয়া গালও তাদের দিয়া থাকেন। উপদেশ দেওয়া এঁদের কর্তব্য ও ডিউটি। ঐ জন্যই তারা সম্পাদক। ঐ জন্যই ওঁদেরে বেতন দেওয়া হয়।'

সর্বোপরি বিশ শতকের ষাটের দশকে আবুল মনসুর আহমদ সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। দেশের সঙ্কট সম্ভাবনায় এগিয়ে যাবার নানান দিক নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধে অসামান্যভাবে তুলে ধরেছেন। ঐতিহাসিক এই প্রবন্ধ আজও প্রাসঙ্গিক রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। ষাটের দশকে আবুল মনসুর আহমদ সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তার আত্মজীবনীমূলক রচনাদি দৈশিক-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-অধ্যয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেক্সট হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

আবুল মনসুর আহমদের দেশপ্রেম বুকে নিয়ে সারাজীবন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন। তার দেখা সমাজের প্রতিটি অসঙ্গতি নিয়েই কলম ধরেছেন। সময়ের বুকে পা রেখে কুয়াশা ভেদ করে দেখেছেন আলো। সর্বত্র বিচরণে দিনে দিনে তার কলম হয়ে উঠছে দুর্ধর্ষ। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রেরণা যুগিয়ে, সবার মাঝে দিয়েছে শুদ্ধচিন্তার খোরাক। স্বতন্ত্র কালচারের স্বপ্ন দেখে একাধিক গ্রন্থও রচনা করেন।

এমারসন বলেন, 'স্বকীয়তা ধর, অনুকরণ ছাড়। অনুকরণ আত্মহত্যার শামিল'। এক্ষেত্রে আবুল মনসুর আহমদের দৃষ্টিভঙ্গি চোখে পড়ার মতো। তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে যেভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, তা থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি চারপাশ। দেদারসে চলছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, পীরফকিরের দৌরাত্ম্য, ভণ্ডামি আর প্রতারণা। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই।

Comments