রোনালদোর 'ফোন ভাঙা' কাণ্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ইউনাইটেড

এভারটনের কাছে হারের পর মেজাজ হারিয়ে দলটির এক সমর্থকের ফোন মাটিতে আছড়ে ফেলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৩৭ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকার এমন বিস্ময়কর কাণ্ডে পড়ে গেছে শোরগোল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফোন ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মার্সিসাইড পুলিশ বিভাগ। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে গেছে ইউনাইটেড। গুডিসন পার্কে ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। আসরে শেষ চারে ম্যাচে এটি রেড ডেভিলদের দ্বিতীয় হার, সব মিলিয়ে অষ্টম। এতে তাদের আগামী মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্নে লেগেছে জোরালো ধাক্কা। তাই ম্যাচের পর রোনালদোর আক্ষেপে পোড়াটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এভারটনের ১৪ বছর বয়সী ওই সমর্থকের সঙ্গে তিনি যে আচরণ করে বসেন, তা রীতিমতো হতাশ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।
ম্যান ইউনাইটেডের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম টক স্পোর্টকে বলেছেন, রোনালদোর ওই এভারটন সমর্থকের ফোন ভাঙার কাণ্ড সম্পর্ক অবগত আছেন তারা, 'আমরা এভারটনের বিপক্ষে আজকের (শনিবার) ম্যাচের পর একটি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি এবং ক্লাব যেকোনো ধরনের পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করবে।'
ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের সাংবাদিক লিয়াল টমাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, তদন্ত করতে যাচ্ছে ইউনাইটেডও, 'গুডিসন পার্কে রোনালদো ও একটি মোবাইল ফোনকে জড়িয়ে তৈরি হওয়া ঘটনা সম্পর্কে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবগত আছে এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।'
এভারটনের ওই সমর্থকের নাম জেক হার্ডিং। রোনালদো যখন ফোন আছড়ে ফেলেন, তখন ব্যথা পায় সে। তার হাতে পড়েছে কালশিটে। এতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগও উঠেছে রোনালদোর বিরুদ্ধে। মার্সিসাইড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে গুডিসন পার্কে এভারটন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচের পর ওঠা লাঞ্ছনার অভিযোগের বিষয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। খেলোয়াড়রা যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন অতিথি দলের (ইউনাইটেডের) একজনের কাছে একটি ছেলে লাঞ্ছিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।'
পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী রোনালদো অবশ্য বুঝতে পেরেছেন যে কাজটা মোটেও ঠিক হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এভারটনের ওই সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চেয়েছেন ক্ষমা। ঘটনার পর ইন্সটাগ্রামে তিনি লিখেছেন, 'রাগে ফেটে পড়ার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। ফেয়ার-প্লে ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার অংশ হিসেবে সম্ভব হলে ওই সমর্থককে আমি ওল্ড ট্রাফোর্ডে একটি ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।'
Comments