উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের দাবি

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এর সঙ্গে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি আইনি কাঠামোর দাবি করছেন নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও উপকূলীয় এলাকার কয়েকজন সংসদ সদস্য।
ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এর সঙ্গে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি আইনি কাঠামোর দাবি করছেন নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও উপকূলীয় এলাকার কয়েকজন সংসদ সদস্য।

আজ বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তারা এই দাবি করেন।

তারা বলেন, সরকারের ওপর থেকে নিচে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনা আসলে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের প্রধান অন্তরায়। নাগরিক সমাজের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ মডেল দিয়ে টেকসই উন্নয়ন কঠিন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সায়েদা রুবিনা আক্তার ও গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রেজাউল হক।

এ ছাড়া সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, সিডিপির জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুম, বিএনএনআরসির বজলুর রহমান, উপকূলীয় সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, এবং আমিনুর রসুল বাবুল সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, 'সরকার প্রতি বছর হাজারো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। এগুলো সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান "অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ" (আইএমইডি) দিয়ে কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের সময় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ প্রকল্পগুলোর গুণগতমান এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, 'সরকার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে পারে, যাতে করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো মনিটরিংয়ে নাগরিক সমাজ নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারে।'

তিনি ৩টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এগুলো হলো-

১. উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ও সামাজিক নিরীক্ষায় স্থানীয় নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো প্রণয়ন।

২. সংসদীয় মনিটরিং কমিটি তৈরি। যারা দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর মনিটরিং করবে এবং সংসদে তা উপস্থাপন ও আলোচনা করবে।

৩. সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর গনশুনানীর আয়োজন।

সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, 'নাগরিক সমাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম দূর করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সজাগ রাখতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় আইন দিয়ে রাষ্ট্রের এই অংশটিকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। এতে সরকারেরই লাভ।'

ড. রেজাউল হক বলেন, 'উন্নয়ন প্রকল্প মনিটরিংয়ে নাগরিক সমাজের এই উদ্যোগ খুবই ভালো ও শিক্ষণীয়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে নাগরিক সমাজের সংযুক্তির বিষয়ে আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। কারণ, এখানে অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।'

মো. বজলুর রহমান বলেন, 'জেলা উপজেলা পর্যায়ে সরকারের অনেক স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কাজের পরিধি ও ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের উচিৎ এসব কমিটির জন্য জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি করা।'

এডভোকেট আলমগীর হোসেন বলেন, 'উন্নয়ন কর্মসূচি মনিটরিংকে সরকার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভালো চোখে দেখে না। কারণ তারাই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুবিধাভোগী। উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর যদি নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ অধিকার না থাকে তাহলে তারা তা করবে কীভাবে? সরকারকে বিষয়টি বুঝতে হবে এবং সে অনুসারে ব্যবস্থাও নিতে হবে।'

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই তার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং নাগরিক সমাজ সেটাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরিপূরক ভূমিকা পালন করবে।'

Comments