প্রাকৃতিক দুর্যোগ

রাঙ্গামাটিতে বন্যায় নিখোঁজ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ছবিটি গতকাল বিলাইছড়ি উপজেলায় ফারুয়া ইউনিয়নে যমুনাছড়ি গ্রামে তোলা। ছবি: লালটানলিয়ান পাংখোয়া/স্টার

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বৃস্পতিবার থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ৪ শিশু ও এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  

বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আখতার তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাচালং দিপুপাড়া এলাকায় নদীর পাড় থেকে কাওলা ত্রিপুরা (৩৫), বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী এলাকা থেকে রাহুল বড়ুয়া (১০), উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে উগলছড়ি বিল থেকে মো. জুয়েল (৭), জুনি চাকমা (৭) ও সাজেকে মেনুকা চাকমার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'এখনো বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল পানির নিচে রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন প্রায় ৯০০ জন। বাঘাইছড়িতে প্রায় ২ হাজার মানুষ পানি বন্দী রয়েছেন।'

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলার ১০ উপজেলায় আউশ, আমন, সবজি, আদা ও হলুদের ৩ হাজার ১৩৫ দশমিক ৫৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরে অর্জিত ফসলি জমির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৭১৬ হেক্টর। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঘাইছড়িতে ২ হাজার হেক্টর, জুরাছড়িতে ২৭০ হেক্টর ও বিলাইছড়িতে ২০ হেক্টর ফসলি জমির সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মিলিন্দ চাকমা, ধ্রুব জ্যোতি চাকমাসহ স্থানীয়রা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা জুম চাষ ছেড়ে দিয়েছি এক দশক আগে। এই জমি চাষ করেই আমাদের খাবার জোটে। বন্যা সব কেড়ে নিল। আমরা কী করব? ত্রাণ দিয়ে কতদিন চলবে?'

উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবান ও কক্সবাজারের যোগাযোগ দুদিন বন্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে যোগাযোগ শুরু হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

Comments