আলোচনার প্রস্তাব নাকচ, ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

সিজেপি বলছে, আলোচনা করতে হলে যন্তর-মন্তর অথবা উভয় পক্ষের সম্মত কোনো নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, তিনি ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা যেকোনো সময় নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

তবে সিজেপি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘মন্ত্রীরা যেহেতু বলেছেন, যেকোনো জায়গায় আলোচনা হতে পারে, তাহলে তারা যন্তর-মন্তরে আসুন অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা হোক। কোথায়, কখন এবং কতক্ষণ আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক।’

দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা মোদির

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

তবে সিজেপি এই ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রশ্নফাঁসের পর অপরাধীদের বিচার করতে পারে, কিন্তু কেন বারবার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, সেই মূল সমস্যার সমাধান সরকারেরই করতে হবে।

দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

সিজেপি আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অযৌক্তিক বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা।

এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার কলকাতায় মিছিল করার অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে দুটি ইমেইলও পাঠিয়েছে সিজেপি।

পুলিশ জানিয়েছে, আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যন্তর-মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধ ও আরএএফ মোতায়েন

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সকাল থেকে যন্তর-মন্তর ও সংসদ মার্গসহ মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে সংসদ মার্গে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরও স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করার পর থেকেই তারা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ ছাড়া নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) নোটিশ জারির পর বিক্ষোভস্থলে দোকানপাট বন্ধ রেখেছে হকাররা।

এদিকে আজও দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়েছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।