ফেনীতে ‘প্রতিপক্ষের আগুনে’ ঘুমের মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু

স্বজনদের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে তারা।
আগুন
প্রতীকী ছবি

ফেনীতে বসতঘরে আগুন লেগে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেনী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিরিঞ্চি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মুহাম্মদ রনি হোসেনের ছেলে মাইদুল ইসলাম শাহাদাত (১৩) ও রাহাদুল ইসলাম গোলাপ (৬) মারা যায়।

স্বজনদের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে তারা।

স্থানীয়রা জানায়, রনি হোসেনের বাসায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আগুন লাগে। তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে রনি হোসেনের বড় ছেলে মাইদুল ইসলাম শাহাদাতের দগ্ধ মরদেহ খাটের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়। ছোট ছেলে রাহাদুল ইসলাম গোলাপকে খাটের নিচ থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সেও মারা যায়।

নিহত দুই শিশুর বাবা রনি বলেন, 'কিছুদিন আগে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে অনুমতি ছাড়া প্রতিবেশী জনি ও আনোয়ার তাদের এক স্বজনের মরদেহ দাফন করতে গেলে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই তারা আমাদের কয়েক দফায় হুমকি দেয়।'

আর আগুন নিভাতে আসা স্থানীয়রা জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে তারা দেখেছেন ঘরটির মূল দরজার বাইরে থেকে রশি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কেউ বের হতে না পারে। এ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ঘরে আগুন দিয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।

দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশান মাস্টার মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সেখানে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। আগুনের সুত্রপাত সম্পর্কে তদন্ত করা হচ্ছে।

ফেনী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

The Daily Star  | English

Pm’s India Visit: Dhaka eyes fresh loans from Delhi

India may offer Bangladesh fresh loans under a new framework, as implementation of the projects under the existing loan programme is proving difficult due to some strict loan conditions.

6h ago