এমপিপুত্র সাবাবের অনুসারীদের বিরুদ্ধে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পরাজিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরীর অনুসারীদের বাড়িতে হামলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনে জয়ী নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক ওরফে সাবাব চৌধুরীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এবং আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ও চরজব্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলাকারীরা পরাজিত প্রার্থী দোয়াত-কলম প্রতীকের জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের অনুসারীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করে।

খবর পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশ ও বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও দোয়াত-কলম প্রতীকের সমর্থক মো. হারুনুর রশিদ সোহাগ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল রাত ১২টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মো. সোহেলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন আমার বাসার টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসময় আমি ঘরের ভেতরেই ছিলাম। তারা ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে আমাকে খোঁজে। আমি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাই। হামলাকারীরা আমার ৪ বছরের বাচ্চাকে আঘাত করে এবং যাওয়ার সময় আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।'

হামলাকারীরা একই এলাকার আরও দুটি বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি সোহাগ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে জানিয়েছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মো. সোহেল সোহাগের বাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'এমন কোনো ঘটনা এলাকায় ঘটেনি।' 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের জাহাজ মারা, চেউয়্যাখালী, ভূইয়ারহাট ও সমিতির বাজারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। 
চেউয়্যাখালী বাজার এলাকার বাসিন্দা হাসেম মেম্বার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভোটের ফলাফলের পর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজমারা গ্রামের ১৫ জন আহত হন।' 

হামলায় আহত ওমান প্রবাসী মো. আশরাফ বলেন, 'গতকাল রাত ৯টার দিকে বাজারের চা দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় স্থানীয় সিরাজ মেম্বারের নেতৃত্বে আনারস প্রতীকের সমর্থকদের ৮০-১০০ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৭ জন আহত হন।'

বৃহস্পতিবার সকালে হামলার শিকার হন সৌদি প্রবাসী আলতাফ হোসেন। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আনারস প্রতীকের কর্মী ইব্রাহিম খলিল আজগরের নেতৃত্বে আমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাজী কালা মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালায়।'

চরজব্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পরাজিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর ও বসত-বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে বিজয়ী প্রার্থীর লোকজন।' 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম খলিল আজগর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে দোয়াত-কলম প্রতীক প্রার্থীর অনুসারীদের সঙ্গে আনারস প্রতীক প্রার্থীর অনুসারীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।'

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক স্পিকার আবদুল মালেক উকিলের ছোট ছেলে বাহার উদ্দিন খেলন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর চরজব্বর, পূর্ব চরবাটা ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির অনুসারীদের বাড়িঘর ও কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।'

'স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর লোকজন তার ছেলের পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর  হামলা চালাচ্ছে। হামলার ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে,' বলেন তিনি। 

হামলার অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।      

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার খবর পেয়ে আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ও হামলার শিকার লোকজন থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Comments