রাজশাহীতে কোচিং সেন্টারে ৩০ শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য থেকে রাজশাহীতে এক শিশু যৌন নিপীড়নকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার হওয়া মো. আব্দুল ওয়াকেল পেশায় একজন শিক্ষক। নিজের কোচিং সেন্টারে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন তিনি।
সিআইডি হেফাজতে আব্দুল ওয়াকেল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য থেকে রাজশাহীতে এক শিশু যৌন নিপীড়নকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার হওয়া মো. আব্দুল ওয়াকেল পেশায় একজন শিক্ষক। নিজের কোচিং সেন্টারে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজশাহী শহরের ১০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন স্কুলছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন আব্দুল ওয়াকেল (৩৩)। যৌন নিপীড়নের ভিডিও মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক ও পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করতেন তিনি। এসব ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকসহ বেশ কিছু সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি)-কে শিশু নিপীড়নকারীর ব্যাপারে তথ্য সরবরাহ করে। এনসিএমইসি পরে বাংলাদেশে সিআইডিকে সেই তথ্য দেয়। এর ভিত্তিতেই গতকাল শনিবার রাজশাহী নগরীর ডাঁশমারী এলাকা থেকে আব্দুল ওয়াকেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী অনেক শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক আব্দুল ওয়াকেলের শিশু নিপীড়ন সম্পর্কে লোমহর্ষক তথ্য দিয়েছে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত থেকে সিআইডি জানায়, আব্দুল ওয়াকেল রাজশাহীর কাটাখালী এলাকার আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষক। ছাত্রাবস্থায় তিনি তার এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে পড়াতেন। সেখানে তিনি শিশুদের চকোলেট ও মোবাইল ফোনে গেম খেলতে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকৃত যৌনাচার করত এবং এর ভিডিও ধারণ করত। যৌন নিপীড়নের শিকার সব শিশু তার ছাত্র ছিল।

আব্দুল ওয়াকেলের বিরুদ্ধে আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে ঢাকার পল্টন মডেল থানায় পেনাল কোড এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

Comments