বাংলাদেশ

বার্ডে ড. আখতার হামিদ খানকে স্মরণ

কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খানের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
আখতার হামিদ খানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন বার্ডের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খানের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ রোববার আখতার হামিদ খানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বার্ডের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান। পরে বার্ড জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়।

আখতার হামিদ খান পল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফল নেতৃত্ব দেওয়ায় সারাবিশ্বে বেশ সমাদৃত। বিশেষ করে পল্লী উন্নয়নের কার্যকর কুমিল্লা মডেল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তার অবদান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ষাটের দশকে আখতার হামিদ খানের নেতৃত্বে উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়নে কুমিল্লা মডেলের জন্য বার্ড বিশ্বখ্যাতি অর্জন করে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জানায়, আখতার হামিদ খান ভারতের আগ্রায় ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ভারতের আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৪ সালে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অধীনে অত্যন্ত সম্মানজনক ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি আইসিএস শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৩৬-৩৮ সালে ইংল্যান্ডের ম্যাগডিলিন কলেজ, কেমব্রিজে শিক্ষাগ্রহণ করেন।

১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ঔপনিবেশিক প্রশাসনের অমানবিক মনোভাবের কারণে ১৯৪৪ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতের আলীগড়ে একটি গ্রামে শ্রমিক ও তালা মেরামতকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ২ বছর পর তিনি সে কাজটি ছেড়ে দেন। এরপর ১৯৪৭ সাল থেকে দিল্লির 'জামিয়া মিল্লিয়া' নামক একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে ৩ বছর কাজ করেন। ১৯৫০ সালে তিনি কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।

কুমিল্লায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভাষা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ১৯৫৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শহীদ মিনার রক্ষায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি শাসক গোষ্ঠীর পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ও প্রকৃত অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯৫৪-৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের 'ভি-এইড' কর্মসূচির পরিচালক হিসেবে তাকে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যান। সেখান থেকে ফিরে পাকিস্তান পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বর্তমানে বার্ড) প্রথম প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে একাডেমির পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন।

ষাটের দশকে আখতার হামিদ খান সেচভিত্তিক আধুনিক কৃষিতে বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তি ব্যবহার, কৃষকসহ প্রান্তিক পেশাজীবীদের সমবায় প্রশিক্ষণ, সরাসরি কৃষকের জমি থেকে আধুনিক বাজারভিত্তিক বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ জনপদকে এক সমৃদ্ধ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করেন।

১৯৯৯ সালে এই গুণী মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মরণে কুমিল্লার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

Comments