বাংলাদেশ

ফতুল্লায় সোয়েটার কারখানা লে-অফ, শ্রমিক বিক্ষোভ

‘অর্ডার কমে যাওয়ায়’ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি রপ্তানিমুখী কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে কারখানাটির কয়েকশ শ্রমিক ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
কারখানা লে-অফ ঘোষণার প্রতিবাদে ফতুল্লায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত

'অর্ডার কমে যাওয়ায়' নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি রপ্তানিমুখী কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে কারখানাটির কয়েকশ শ্রমিক ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

ক্রোনী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান 'ক্রোনী টেক্স সোয়েটার লিমিটেড' নামে কারখানাটির লে-অফ নোটিশে বলা হয়েছে, 'আর্থিক সংকটে আমাদের কোম্পানির বায়ারগণ তাদের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে আমাদের কোম্পানির সোয়েটার বিভাগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় কারখানায় অর্ডার না থাকায় ও মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত হওয়ার কারণে এবং নতুন কাজের অর্ডার না আসা পর্যন্ত, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১২ মোতাবেক কারখানা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শ্রম আইনের ১২(৮) ধারা মোতাবেক ক্রোনী টেক্স সোয়েটার লিমিটেডের সোয়েটার বিভাগ লে-অফ ঘোষণা করা হলো।'

'সকল শ্রমিককে শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে' বলে উল্লেখ করা হয় নোটিশে।

যদিও কারখানার শ্রমিকরা জানান, বিনা নোটিশে কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। এতে কারখানাটির সোয়েটার বিভাগের অন্তত ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। মালিকপক্ষ ৭ ফেব্রুয়ারির কথা বললেও লে-অফের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

কারখানাটির শ্রমিকদের একজন বলেন, গত কয়েকমাস ধরে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে গড়িমসি করছিল মালিকপক্ষ। বুধবার ও বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও সেদিন বেতন দেওয়া হয়নি। রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে বেতন দেওয়া হয়।

'আজকে কারখানায় গিয়ে দেখি সামনে লে-অফ নোটিশ ঝোলানো। কিন্তু শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি', বলেন এই শ্রমিক।

শ্রমিকদের মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া ইউনাইটে ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেন্টু বলেন, প্রশাসন ও বিকেএমইএ নেতারা তিন দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। সমাধান না পেলে শুক্রবার আবারও বিক্ষোভ করবেন শ্রমিকরা।

যোগাযোগ করা হলে শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) সেলিম বাদশা বলেন, 'রোববার কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও ব্যবসায়ী নেতারা এটি সমাধানের চেষ্টা করছেন।'

তবে এই ব্যাপারে ক্রোনী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এইচ আসলাম সানির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Comments