কী এমন ঘটল যে খাদ্য সংকট দেখা দেবে, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে উনারা দাবি করেছে যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছেন। আজকে কী এমন ঘটল যে উনারা এখন খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার ভয় পাচ্ছেন।’
গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এনডিপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'কিছুদিন আগে উনারা দাবি করেছে যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছেন। আজকে কী এমন ঘটল যে উনারা এখন খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার ভয় পাচ্ছেন।'

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ২০ দলীয় জোটের দুই শরিক দল এনডিপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাথে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর এই মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, 'তাদের (সরকার) কোথাও কোনো ম্যানেজমেন্ট নাই। তারা সমস্ত কিছুতে দুর্নীতি করেছে। যার ফলে পুরো প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।'

'সব খানে এত বেশি দুর্নীতি যে আর সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সব খানেই এত বেশি দুঃশাসন হয়েছে, অপশাসন হয়েছে যে, কোনো কিছুতেই আর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।'

দেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, 'উনি কেন এটা বলছেন আমরাও বুঝতে পারছি না। কিছুদিন আগে উনারা দাবি করেছে যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছেন। আজকে কী এমন ঘটল যে উনারা এখন খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার ভয় পাচ্ছেন।'

সরকারের দুর্নীতির কারণেই লোডশেডিং চরমে উঠেছে বলেও এসময় অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

ইভিএম কেনা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের জন্য বাড়ি তৈরিতে অর্থ খরচের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, '৮ হাজার কোটি টাকায় ইভিএম কিনতে যাচ্ছে জালিয়াতির ভোট করার জন্য। ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আর মুখ্য সচিবের বাড়ি তৈরি করার। এটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। এরকম প্রতিটি ক্ষেত্রে আজকে দুর্নীতি চলছে।'

তিনি বলেন, 'আমার আজকের নিজের কথাই বলি। আজ সকাল ৯টায় উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়েছি। উত্তরার রাস্তা পেরিয়ে গুলশানে আসতে আমার দুই ঘণ্টা লেগেছে। তারপরেও পুরোটা আসতে পারিনি। গাড়ি রেখে আমাকে রিকশা নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের পেছন দিক দিয়ে আসতে হয়েছে।'

'সমাবেশ দেখে সরকারে আতঙ্ক'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'গণসমাবেশ দেখে ওদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে, ময়মনসিংহে জনতা ঢলের মতো নেমে এসেছে। ময়মনসিংহে যে কাজটা ওরা করেছে তা আপনারা সবাই জানেন। সেখানে অঘোষিত কারফিউ ঘোষণা করেছে। একটা গাড়ি-ঘোড়া চলতে দেয়নি। সেখানে আগের রাতে আমাদের নেতা নজরুল ইসলাম খান সাহেব যে হোটেলে ছিলেন সেই হোটেলে গুলিবর্ষণ করেছে, ককটেল নিক্ষেপ করেছে। তারপরও তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।'

'পুলিশকে ব্যবহার করে আমাদের ৪৩৭ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এভাবে দমন করে, গুলি করে, হত্যা করে, গুম করে কোনো দিনই ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না, যতই তারা শক্তিশালী হোক।'

তথ্য সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এটার উত্তর আমি দেবো না। ইট ইজ নট মাই বিজনেস।'

এর আগে মঙ্গলবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রথমে এলডিপি এবং পরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সংলাপ করেন বিএনপি মহাসচিব। সংলাপে এনডিপির চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহের এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর চেয়ারম্যান শায়খুল হাদীস আল্লামা মনসুরুল হাসান রায়পুরী নিজ নিজ দলের ১০ সদস্যের নেতৃত্ব দেন।

দুই সংলাপে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দফা সংলাপে এ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জাগপা, মুসলিম লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

Comments