এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আ. লীগে বিভ্রান্তি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে— তা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 
এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আ. লীগে বিভ্রান্তি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে— তা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 

গত শনিবার জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করার পর এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, 'যারা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তারাই থাকবেন... ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি...।'

ঘোষণা অনুযায়ী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আগের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা হাছান মাহমুদ এক নম্বরে চলে আসায় দ্বিতীয় অবস্থানে চলে গেছেন মাহবুবউল আলম হানিফ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাদের নাম প্রকাশ করা হয়, এতে হাছান মাহমুদকে এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে এর এক ঘণ্টা পর ওয়েবসাইট থেকে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে শুধু শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নাম রয়েছে। এতে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির তৈরি হয়। 

এর আরও এক ঘণ্টা পর পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। যেখানে এক নম্বরে হাছান মাহমুদের নাম ছিল, কিন্তু আধা ঘণ্টা পর আবারও সেটা উধাও হয়ে যায়।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়েবসাইটে শুধু শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নাম উল্লেখ ছিল। 

আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বার বার এই পরিবর্তনের কারণে এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও গভীর হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে একটি ধারার কারণে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যদি সাধারণ সম্পাদক 'অনুপস্থিত' থাকেন, তাহলে তালিকায় থাকা নামের ক্রম অনুসারে দায়িত্ব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ওপর ন্যস্ত হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তিনি যা বলেছেন তাতেই সবকিছু ঠিক আছে। ডা. হাছান মাহমুদ এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া বাকি তালিকা একই থাকবে।'

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

দ্য ডেইলি স্টার প্রতিবেদক আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির ৪ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একমাত্র শেখ হাসিনাই বিভ্রান্তি দূর করতে পারেন।' প্রেসিডিয়াম বৈঠকের পর বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থার নবনির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির ২৮ সদস্য নির্বাচিত হবেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু নতুন মুখ; যাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রনেতা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদ্য সাবেক নেতাকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

Comments