শীর্ষ খবর

আগামী জাতীয় সংসদেও থাকবে ব্যবসায়ীদেরই প্রাধান্য?

আগামী জাতীয় সংসদ আবারো ব্যবসায়ীদের দখলে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি সামনে রেখে বলা যেতে পারে যে নতুন সংসদে তাদের সংখ্যাধিক্য এবং নির্বাচনে টাকার প্রভাব থাকবে।
Jatiya Sangsad
জাতীয় সংসদ। ছবি: স্টার ফাইল ফটো

আগামী জাতীয় সংসদ আবারো ব্যবসায়ীদের দখলে যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি সামনে রেখে বলা যেতে পারে যে নতুন সংসদে তাদের সংখ্যাধিক্য এবং নির্বাচনে টাকার প্রভাব থাকবে।

পরিসংখ্যান বলছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী বিএনপির জোটগুলোতে প্রায় ৬২ শতাংশ প্রার্থী ব্যবসায়ী। অর্থাৎ, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৮৬টি আসন।

দুই জোটের মনোনীত ৫৭২ প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে এমনটি দেখা গেছে। যদিও, ১৪টি আসনের প্রার্থীদের তথ্য এখনো হাতে পাওয়া যায়নি।

কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী বছরগুলোতে এই পরিস্থিতি ছিলো ভিন্ন রকমের।

১৯৭৩ সালের সংসদে আইনপ্রণেতাদের প্রধান পেশা ছিলো: আইনব্যবসা, ব্যবসা এবং কৃষিকাজ। সেই সময়ের সংসদে ৩১ শতাংশ আইনপ্রণেতা ছিলেন আইনজীবী এবং ১৮ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী।

কিন্তু, পরবর্তী বছরগুলোতে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হওয়ার সময় থেকে এই প্রবণতা দেখা যায়।

১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আইনজীবীদের ছাড়িয়ে যায়। সেই সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিলো ৩৮ শতাংশ এবং আইনজীবীদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ আইনপ্রণেতা ছিলেন ব্যবসায়ী। সেটিই ছিলো সবার অংশগ্রহণমূলক সর্বশেষ নির্বাচন। অনেক দল ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও সেই সংসদেও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীদের ওপর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্ভরতা রাজনীতিকেও ব্যবসায়ে পরিণত করেছে।

২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর এক সভায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই প্রবণতা দিয়ে কথা বলেছিলেন। তার মতে, “এটি খুবই দুঃখজনক যে আজকের রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে।… এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত।”

এই প্রবণতা সংসদকে কার্যকর করতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গতকাল (১২ ডিসেম্বর) দ্য ডেইলি স্টারকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নিজাম আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে পার্লামেন্ট বসে সকালে। কিন্তু, আমাদের দেশে যেহেতু অধিকাংশ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী তাই অধিকাংশ সময় সংসদ শুরু হয় বিকালে। কেননা, ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যরা সারাদিন তাদের ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকেন।”

তার মতে, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। “এমনকি, আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, সংসদকে কার্যকর করতে তাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না।”

তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে আসেন রাজনীতিবিদ হওয়ার জন্যে। কিন্তু, আজ-কাল দেখা যাচ্ছে লোকজন রাজনীতিতে আসেন স্বল্প সময়ে ব্যবসায়ী হওয়ার জন্যে।”

“একটি কার্যকর সংসদে পুরো দস্তুর রাজনীতিবিদদেরকেই থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই,” যোগ করেন অধ্যাপক নিজাম।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুটি প্রধান জোটে মাত্র ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন যারা পুরোমাত্রায় রাজনীতিবিদ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল-মাসুদ হাসানুজ্জামানের মন্তব্য- রাজনীতিতে টাকার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

businessmen

মনোনয়ন ফরম পর্যালোচনা করে জানা যায়, ৫৭২ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে অন্তত ৩২৯ জন বলেছেন- নির্বাচনী প্রচারণার কাজে টাকা খরচ করার জন্যে অন্য কারো ওপর তাদের নির্ভর করতে হবে না। তারা নিজেরাই প্রত্যেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে সক্ষম।

বাকি ২৪৩ জন বলেছেন- তারা তাদের নিজেদের পকেট থেকেই নির্বাচনী খরচ মেটাতে পারবেন। এছাড়াও, আত্মীয় ও বন্ধুদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে রয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে একজন প্রার্থী প্রচারণা চলাকালে একজন ভোটারের পেছনে ১০ টাকা খরচ করতে পারবেন। সর্বোচ্চ খরচ করতে পারবেন ২৫ টাকা।

কিন্তু, এ কথা সবাই জানেন যে, নির্বাচনে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়। কিন্তু, নির্বাচনী প্রচারণার সময় টাকা ঢালার বিষয়টি বন্ধ করার জন্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগের কোনো নির্বাচন কমিশন সক্ষম ছিলো না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী গড়ে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন যা আইনে উল্লেখ করা পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি।

২০০৯ সালে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- এই পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছিলো মনোনয়ন তুলে নেওয়ার শেষ দিন থেকে ভোটগ্রহণের দিনের মধ্যে।

আইনে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করা হলে তাকে নির্বাচনে টাকা ঢালা বলা হয়ে থাকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের আশংকা যে টাকা ঢালার পথ বন্ধ করতে না পারলে তা নির্বাচনে সব দলের জন্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে না।

Comments

The Daily Star  | English

Small businesses, daily earners scorched by heatwave

After parking his motorcycle and removing his helmet, a young biker opened a red umbrella and stood on the footpath.

1h ago