[পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ] নির্বাচনে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম হয়েছে: টিআইবি

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
TIB
১৫ জানুয়ারি, রাজধানীতে টিআইবি’র সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি: মহিউদ্দিন আলমগীর জুয়েল

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) জানান, সংসদীয় নির্বাচনে ৫০টি আসন নিয়ে সার্ভে করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৪৭টিতে অনিয়ম পাওয়া গেছে।

টিআইবি’র গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টি আসনে নির্বাচনের দিন সংঘটিত অনিয়মের মধ্যে রয়েছে: প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা, জাল ভোট দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে রাখা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট, পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো, ব্যালট বাক্স আগে থেকে ভরে রাখা এবং প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের মারধর করা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল বা জোট ও প্রার্থী, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজন নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটুকু আইনানুগভাবে অনুসরণ করেছেন তা পর্যালোচনা করতে গিয়ে সংস্থাটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানায়। তবে তা সবার জন্যে সমানভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০০টি আসনের মধ্য থেকে ৫০টি আসন নির্বাচন করে প্রত্যেক আসনে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান দুটি দল/ জোটের প্রার্থী বাছাই করে প্রার্থী ও তাদের কার্যক্রমের ওপর তথ্য সংগ্রহ; কোনো আসনে তৃতীয় কোনো শক্তিশালী প্রার্থী থাকলে তাকেও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

টিআইবি’র গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৭টি আসনে কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ বা অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে রাখা, আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট, ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট পেপার ভর্তি বাক্স, ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া এবং প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া।

সংস্থাটির প্রতিবেদনের ‘সার্বিক পর্যবেক্ষণ’ অংশে বলা হয় যে, “নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ অনেকক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে সমর্থ হয়নি”। টিআইবি’র মতে, নির্বাচন কমিশন যেসব কাজে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া, সব দলের সভা-সমাবেশ করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিরোধীদের দমনে সরকারের ভূমিকার প্রেক্ষিতে অবস্থান নেওয়া - নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বা ক্ষেত্রবিশেষে অস্বীকার, সব দল ও প্রার্থীর প্রচারণার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, সব দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশেষকরে সরকারি দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে পারেনি উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আছে কী না তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

টিআইবি’র পুরো প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন:

Comments

The Daily Star  | English

Sajek accident: Death toll rises to 9

The death toll in the truck accident in Rangamati's Sajek increased to nine tonight

4h ago