মমতাকে মোদির দুই সৈনিকের জোড়া আক্রমণ

তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরুর প্রাক্কালে মমতার রাজ্যে এসে মমতাকেই আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদির দুই সৈনিক- বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। তারা উভয়েই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কথা বলেন।
Amit Shah and Yogi Adityanatha
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরুর প্রাক্কালে মমতার রাজ্যে এসে মমতাকেই আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদির দুই সৈনিক- বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। তারা উভয়েই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কথা বলেন।

এদিকে, আজ (২৩ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতের ১৪ রাজ্যে ১১৫টি আসনের ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোট হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ৫ আসনেও। সকাল সাতটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট, মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদের এই পাঁচ-আসনে বিজেপি, তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস প্রধান চার দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ঠিক ভোট গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণায় একে-অন্যের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা যায়।

গতকাল সকালে কলকাতার একটি হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় মানুষ বিজেপির প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেন এই বিজেপি নেতা। সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে ধরে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা করেন মোদির বিশ্বস্ত সেনাপতি।

অমিত শাহ এদিন পরিষ্কার করে বলেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসবে এবং তাদের সরকার দেশজুড়ে এনআরসি চালু করবে।

একই দিন পশ্চিমবঙ্গে পৃথক কয়েকটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ। বাংলাদেশ লাগোয়া বনগাঁয় তার প্রথম জনসভায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি উদ্বাস্তু সমস্যায় মোদি সরকারকে মমতার সমর্থন না করার প্রশ্ন তোলেন। মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চল বলে পরিচিত বনগাঁয় দাঁড়িয়ে যোগী বলেন, “রাজ্যজুড়ে পদ্মফুলের (বিজেপির প্রতীক) প্রতি মানুষের সমর্থন দেখে আমি অভিভূত। রাজ্যের উন্নয়ন করতে হলে মোদিকে সমর্থন করতে হবে।” মমতা ব্যানার্জির দলের প্রতি হুঁশিয়ার করে দিয়ে যোগী আদিত্য বলেন, “আমার সভায় হাজার হাজার মানুষ এসেছেন। কিন্তু, আমি তাও শুনেছি তৃণমূলের গুণ্ডা অনেককেই সভায় আসতে বাধা দিয়েছেন।”

ওদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপিকে বরাবরের মতোই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সেদিন। বর্ধমানের দুটি সভাতে নির্বাচনী ভাষণে মমতা বলেন, দেশে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। ভাই-ভাইয়ে বিভেদ তৈরি করছে। দেশে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নয় গোটা ভারতের বহু রাজ্যে কোনও আসন পাবে না বলেও দাবি করেন মমতা। বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে গোল্লা পাবে বিজেপি।”

Comments

The Daily Star  | English

JS passes Speedy Trial Bill amid protest of opposition

With the passing of the bill, the law becomes permanent; JP MPs say it may become a tool to oppress the opposition

45m ago