মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপ: উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা

শেষ হচ্ছে ক্ষণ গণনা। শেষ হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের ছটফটানি। শুরু হচ্ছে উপভোগের পালা। ক্রিকেট সাগরে ডুবে যাওয়ার পালা। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আজ (৩০ মে) মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯।
morgan and du plessis
ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি (আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ টুইটার পেজ থেকে সংগৃহীত)

শেষ হচ্ছে ক্ষণ গণনা। শেষ হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের ছটফটানি। শুরু হচ্ছে উপভোগের পালা। ক্রিকেট সাগরে ডুবে যাওয়ার পালা। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আজ (৩০ মে) মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে গেছে গতকাল রাতে। আয়োজনের ভেন্যু ছিলো বাকিংহ্যাম প্যালেসের সামনে অবস্থিত ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘দ্য মল’। তার আগে ব্যাকিংহ্যাম প্যালেসে রানী এলিজাভেথের সঙ্গে দেখা করেন অংশগ্রহণকারী দশ দলের অধিনায়করা।

জমকালো আয়োজনের রঙ ভক্ত-সমর্থকদের চোখে লেগে থাকতে থাকতে শুরু হচ্ছে মাঠের লড়াই। উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনের দ্য ওভাল স্টেডিয়ামে। ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই শুরু বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায়।

দুদলের চালচিত্র:

এবারের আসরের সবচেয়ে ফেভারিট দল আয়োজক ইংল্যান্ড। তাদের মূল শক্তি বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ। দলটির লম্বা ব্যাটিং ভাণ্ডারে মারকুটে তারকার অভাব নেই। জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে গড়া ইংলিশদের ওপেনিং জুটি যেকোনো দলের বোলারদের জন্য বিভীষিকা হয়ে উঠতে পারেন। এরপর থাকছেন দুই আস্থার প্রতীক অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও জো রুট। আছেন জস বাটলারও! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের বিদায়ের পর সময়ের সেরা ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ক্রিকেটারের তকমা এখন শোভা পাচ্ছে বাটলারের নামের পাশে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে এবার তেমন কোনো উচ্চাশা প্রকাশ করছেন না ক্রিকেটবোদ্ধারা। প্রোটিয়াদের গায়ের সঙ্গে তাই জুড়ে গেছে আন্ডারডগ তকমা। তবে দলে তারকার ছড়াছড়ি না থাকলেও তাদের সংখ্যাও কম নয়! কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি ও ডেভিড মিলাররা ছন্দে থাকলে যে কোনো দিনই হতে পারে আফ্রিকানদের। তাদের বোলিং আক্রমণও শক্তিশালী। ডেল স্টেইন চোটের কারণে এ ম্যাচে খেলতে না পারলেও কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, ইমরান তাহিররা প্রতিপক্ষকে ফেলতে পারেন কঠিন পরীক্ষায়।

নজর থাকবে যাদের ওপর:

গতির ঝড় তুলে আলোচনায় আসা পেস অলরাউন্ডার জোফরা আর্চারকে নিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই থেকেই চলছে মাতামাতি। নিয়মিত ১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করতে পারেন তিনি। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে জন্ম নেওয়া ২৪ বছর বয়সী এই পেসার বিশ্বকাপ অভিষেকে কেমন করেন, তা দেখার অপেক্ষায় থাকছে ইংল্যান্ডসহ গোটা বিশ্ব।

ইংল্যান্ডের রান-বান্ধব উইকেটে ভালো করবেন লেগ স্পিনাররা, এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। তাছাড়া বর্তমান ধারার ক্রিকেটে রিস্ট স্পিনারদের ভূমিকা অসামান্য। তাই স্পটলাইট থাকবে ইমরান তাহিরের ওপর। রান আটকে রাখা কাজটা যেমন তিনি ভালো পারেন, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়াতেও দক্ষ তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞ তারকার ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল ২০১১ বিশ্বকাপে। এবার খেলতে যাচ্ছেন নিজের তৃতীয় ও শেষ বিশ্বকাপ।

পরিসংখ্যান:

এখন পর্যন্ত মোট ৫৯টি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের পাল্লাটা ভারী প্রোটিয়াদের দিকে। তবে বিশ্বকাপে সমানে সমান লড়াই দেখা গেছে দুই ক্রিকেট পরাশক্তির মধ্যে।

মোট ম্যাচ: ৫৯

দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী: ২৯

ইংল্যান্ড জয়ী: ২৬

টাই: ১

পরিত্যক্ত: ৩

বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ:

দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ী: ৩

ইংল্যান্ড জয়ী: ৩

সম্ভাব্য একাদশ:

জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো বলছে, ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলে আজকের ম্যাচের ইংলিশ একাদশে থাকতে পারেন মার্ক উড। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন এই ইংলিশ পেসার।

ইংল্যান্ড:

জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), বেন স্টোকস, মইন আলি, ক্রিস ওকস, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার, লিয়াম প্লাঙ্কেট/মার্ক উড।

‘স্টেন গান’ খ্যাত পেসার দক্ষিণ আফ্রিকান স্টেইন খেলছেন না চোটের কারণে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দলটির আগামী ম্যাচেও অনিশ্চিত তিনি। ফলে ক্রিস মরিস কিংবা ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের মধ্যে একজন জায়গা পাবেন একাদশে, জানিয়েছে ক্রিকইনফো।

দক্ষিণ আফ্রিকা:

হাশিম আমলা, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), ফাফ দু প্লেসি (অধিনায়ক), রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, আন্দিল ফেলুকওয়ায়ো, ক্রিস মরিস/ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি, ইমরান তাহির।

আরও পড়ুন:

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি

Comments

The Daily Star  | English

Through the lens of Rafiqul Islam

National Professor Rafiqul Islam’s profound contribution to documenting the Language Movement in Bangladesh was the culmination of a lifelong passion for photography.

18h ago