দিনাজপুরে মানসম্পন্ন লোহার খনির সন্ধান

কয়লা ও কঠিন শিলার পর দিনাজপুরের মাটির নিচে এবার সন্ধান মিললো লোহার আকরিকের। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হাকিমপুর উপজেলায় লৌহ খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের যে কাজ তারা এখন করছেন তাতে আশাবাদী হবার মতোই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
Dinajpur
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় সন্ধান মিললো দেশের প্রথম লোহার খনির। ছবি: স্টার

কয়লা ও কঠিন শিলার পর দিনাজপুরের মাটির নিচে এবার সন্ধান মিললো লোহার আকরিকের। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হাকিমপুর উপজেলায় লৌহ খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের যে কাজ তারা এখন করছেন তাতে আশাবাদী হবার মতোই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা গত ১৯ এপ্রিল উপজেলার মুর্শিদপুর গ্রামে প্রথম ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু করেন। এই কাজ শেষ করে দুই কিলোমিটার দূরে ইশুবপুর গ্রামে আরেকটি ড্রিলিং কাজ এখন চলছে। সেখান থেকে আরও দুই কিলোমিটার ব্যবধানে আরেকটি ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে খনির ব্যপ্তি ও আকরিকের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলেই তারা এখন জানাচ্ছেন। লোহা ছাড়াও খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়াম রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন খননকারী বিশেষজ্ঞরা।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ রানা যিনি এই কাজের সমন্বয়কের ভূমিকায় রয়েছেন তিনি জানান, ড্রিল করতে গিয়ে তারা ১৩৩৪ থেকে ১৭৮৬ ফুট গভীরতায় লোহার বিশুদ্ধ আকরিকের সন্ধান পেয়েছেন। খনির আয়তন প্রায় দশ বর্গকিলোমিটার হতে পারে। থাকতে পারে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহা ও আরও কিছু মূল্যবান পদার্থ ।

“ড্রিল করার সময় যে আকরিক উঠে এসেছে তাতে লোহার গড় পরিমাণ ৬০ শতাংশেরও বেশি। উত্তোলনের জন্য বিশ্বব্যাপী যে মানদণ্ড ধরা হয় তাতে এই মাত্রা পর্যাপ্ত। কিছু স্তরে লোহার পরিমাণ অনেক বেশি। চুম্বকের সঙ্গে খুব শক্তভাবে আটকে যাচ্ছে এই আকরিক,” বলছিলেন মাসুদ রানা।

Dinajpur
খনি এলাকার আশপাশে ড্রিলিংয়ের কাজ করছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) বিশেষজ্ঞরা। ছবি: স্টার

তবে, ১৭০০ ফুটের নিচে লোহার পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান থাকায় এ ব্যাপারে এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না বলে যোগ করেন মাসুদ রানা। তার নেতৃত্বে অধিদপ্তরের ২২ জনের দলটি এখন দিন রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দিনাজপুরের এই এলাকায় লোহার আকরিক থাকার কথা প্রথম জানা যায় ২০১৩ সালে। তখন ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালাতে গিয়ে খনিজ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েছিলো। এখন সবকিছু আশানুরূপভাবে চললে এটাই হতে চলেছে দেশের প্রথম লোহার খনি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, এই লোহা খুবই মানসম্পন্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Comments

The Daily Star  | English

Bheem finds business in dried fish

Instead of trying his luck in other profession, Bheem Kumar turned to dried fish production and quickly changed his fortune.

1h ago