যেখানে মনকে বোঝাতে পারছেন না সৌম্য

‘ম্যাচটা তো আমাদের হাতেই ছিল ভাই’। সৌম্য সরকার কথাটা বললেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের শেষ ওই লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে। রান আছে নাগালের মধ্যেই, ইনিংস বিরতিতে এই বিশ্বাসই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কখন উইকেট রেখে খেলার গতি কমাতে হবে, কখন বাড়াতে হবে সেই হিসাব নিকাশে হয়েছে গোলমাল।
soumya sarkar
ছবি: রয়টার্স

‘ম্যাচটা তো আমাদের হাতেই ছিল ভাই’। সৌম্য সরকার কথাটা বললেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের শেষ ওই লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে। রান আছে নাগালের মধ্যেই, ইনিংস বিরতিতে এই বিশ্বাসই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কখন উইকেট রেখে খেলার গতি কমাতে হবে, কখন বাড়াতে হবে- সেই হিসাবনিকাশে হয়েছে গোলমাল।

এবার বিশ্বকাপে একবারই কোনো দল তিনশোর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে। করে দেখিয়েছিল বাংলাদেশই। ৪২ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩২১ রান পেরিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান আর লিটন দাস।

ভারতের বোলিং হোক না আরও ধারাল। তবু ৩১৫ তো তাড়া করা যায়। উইকেট, পরিস্থিতি বিচার করলেও আসলে রান ছিল তাড়ার মতই। একটা সময় সাড়ে তিনশো পেরিয়ে যাওয়ার অবস্থায় ছিল ভারতের ইনিংস। সেখান থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের ঝলকে লাগাম টেনে ওদের নাগালে রাখার পরই মোমেন্টাম পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

ইনিংস বিরতিতে বাংলাদেশকেও মনে হচ্ছে ফেভারিট। সৌম্য জানালেন, দলের ভাবনাও ছিল তাই, ‘তাড়ার মতোই ছিল। শুরুটা দেখেশুনে করেছিলাম। এরপর তামিম ভাই আউট হয়ে গেল এবং আমিও পরে আউট হয়ে গেলাম। আমার মনে হয় আমাদের দুজনের একজন যদি লম্বা সময় খেলতে পারতাম, কাজটা সহজ হতো। শেষ দিকেও সাইফুদ্দিন যেভাবে খেলেছে, তাতে আসলে ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল।’

দল পারেনি স্বপ্নের সেমিফাইনালে যেতে। সৌম্য কতটা পারলেন? এই বিশ্বকাপে সৌম্যের ভূমিকা ছিল আগ্রাসী খেলার। সেই চাহিদা পূরণ করতে অ্যাপ্রোচে কোনো ঘাটতি ছিল না তার। তবে এই চাহিদা মেটাতে উড়ন্ত শুরু পেলেও রান হয়নি বড়।

৭ ম্যাচে মোটে ১৪৪ রান করেছেন, ফিফটি নেই। সর্বোচ্চ ৪২। গড় মাত্র ২০.৫৭। তার মানের তুলনায় বড্ড বেমানানই। কিন্তু ১০১.৪০ স্ট্রাইক রেট আবার সাক্ষ্য দেয়, দলের দাবি মেটাতেই ব্যাট করতে হয়েছে তাকে। এক পাশে তামিম ইকবালকে লম্বা সময় ব্যাট করার ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। রানের চাকা বাড়াতে তাই পাওয়ার প্লেতে মারার দায়িত্ব ছিল সৌম্যর। অনেক ম্যাচেই শুরুর উড়ন্ত ব্যাটিংয়ে মোমেন্টাম এনে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ইনিংসগুলো ডানা মেলতে না পারায় আক্ষেপটা তার প্রকট, ‘ট্রাই নেশনে (আয়ারল্যান্ড সিরিজে) তিনটা ফিফটি করলাম, একশো করতে পারলাম না। এখানে ত্রিশ-চল্লিশ হলো, ফিফটি হলো না। আরও ভালো করা দরকার ছিল।’

ভারতের বিপক্ষে থিতু হয়ে ৩৮ বলে ৩৩ করে উইকেট ছুঁড়ে দিয়েছেন। তার আগে বল হাতে রোহিত শর্মার গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ব্রেক থ্রু এনেছিলেন তিনিই। পরে স্লিপে হার্দিক পান্ডিয়ার নিচু ক্যাচ নিয়েছেন দারুণভাবে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও এক ম্যাচ বল করে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। দলে সবমিলিয়ে অবদান আছে তার। কিন্তু সৌম্য নিজেও জানেন, তাকে বিচার করা হবে ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স দিয়েই। 

প্রচার আছে, ওপেনিং সঙ্গীর ভূমিকার কারণে তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকি নিতে হয় তাকে। কিন্তু এই কারণেই নিজের ইনিংস বড় হয়নি, এমনটা একদমই মনে করেন না সৌম্য, ‘একেকজনের খেলার ধরন থাকে একেকরকম। হয়তো আমারটা আগ্রাসী থাকে। আমি আমার গেম প্ল্যানে থাকি। চেষ্টা করি আমার মতো করে খেলার জন্য। হতে পারে যে, দু-একদিন অতিরিক্ত ঝুঁকি হয়ে যায়। এগুলো নিজের মধ্যে যদি আরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে ভালো হবে।’

এবার বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিগুলো খুব বড় হয়নি। কেন হয়নি তার একটা ব্যাখ্যাও আছে তার কাছে, ‘ওপেনে বড় রান করলে পিছনে সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এখন যদি আবার বল বেশি নিয়ে জুটি করতে যাই, তাহলে আবার অন্যরকম হয়ে যায়। পাওয়ার প্লে ইউজ করা যায় না।’

তবে মন খারাপের মাঝেও টুর্নামেন্টে দল হিসেবে সবমিলিয়ে ভালো খেলার দাবি তার, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, খেলছিও। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা তিনশো রান বা বড় রান তাড়া করার মানসিকতা পেয়েছি। করেছি বা কাছেও গিয়েছি। কীভাবে করতে হয় সেই পথ বুঝেছি। কখন ব্যাট চালিয়ে খেলতে হয়, কখনো স্লো ডাউন করতে হয় বুঝেছি।’

Comments

The Daily Star  | English

Int’l bodies fail to deliver when needed: PM

Though there are many international bodies, they often fail to deliver in the time of crisis, said Prime Minister Sheikh Hasina

50m ago