ক্রিকেট

লাইভ আপডেট: পঞ্চম দিনে চট্টগ্রাম টেস্ট, হারের পথে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের চেয়ে ২৬১ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। পঞ্চম দিনে তাই কাজটি প্রায় অসাধ্য। তবে টাইগারদের জন্য আশার বানী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শেষ দিনেও বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
ছবি: দ্য ডেইলি স্টার

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের চেয়ে ২৬১ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। পঞ্চম দিনে তাই কাজটি প্রায় অসাধ্য। তবে শেষ দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রবল বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে সাগরিকায়। টাইগারদের জন্য এটাই একমাত্র আশার বানী ।

হারের পথে বাংলাদেশ

৩৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য। এতো বড় লক্ষ্য তাড়া করে কখনোই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্টে লক্ষ্য তাড়া করে সর্বোচ্চ জয়টি ২১৫ রানের, উইন্ডিজের বিপক্ষে। তাই নতুন ইতিহাসই গড়তে হতো টাইগারদের। কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু নয়। কারণ ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন রান কিংবা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে আরও চারটি।

সাদমান ইসলাম ও তিন নম্বর থেকে ওপেনিংয়ে নামা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও খারাপ করেননি। লাঞ্চ বিরতির আগে ৩০ রান করে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু ফিরেই এসেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তারা। শুরু হয় উইকেট হারানোর মিছিল। রশিদ খানের স্পিন তো দূরের কথা তরুণ জহির খানের বলও বুঝতে পারছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। আর শুধু যে আফগানরা উইকেট তুলে নিয়েছেন তাও নয়, ব্যাটসম্যানরাও নেমেছেন আত্মাহুতির পথে। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল মারতে গিয়ে আকাশে তুলেছেন মোসাদ্দেক।

এর আগে বৃষ্টিস্নাত দিনে খেলা শুরু হতে দেরি হয় প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। তাই পিছিয়ে নেওয়া হয় লাঞ্চের সময়। লাঞ্চের আগে ব্যাট করতে নেমে শেষ দুই উইকেট হারিয়ে দ্রুত ২৩ রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে। সঙ্গীর অভাবে হাফসেঞ্চুরি মিস করেন আফসার জাজাই। এক প্রান্তে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ততক্ষণে তাদের লিড দাঁড়ায় ৩৯৭ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (চতুর্থ দিন শেষে)

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৪২

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২০৫

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: (আগের দিন ২৩৭/৮) ৯০.১ ওভারে ২৬০ (ইহসানউল্লাহ ৪, ইব্রাহিম ৮৭, রহমত ০, হাশমতউল্লাহ ১২, আসগর ৫০, আফসার ৪৮*, নবি ৮, রশিদ ২৪, কাইস ১৪, আহমেদজাই ৯, জহির ; সাকিব ৩/৫৮, মিরাজ ২/৩৫, তাইজুল ২/৮৬, নাইম ২/৬১, মুমিনুল ০/১৩, মোসাদ্দেক ০/৩)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৪.২ ওভারে ১৩৬/৬ (লিটন ৯, সাদমান ৪১, মোসাদ্দেক ১২, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ৩, সাকিব ৩৯*, মাহমুদউল্লাহ ৭, সৌম্য ০*; আহমেদজাই ০/১৪, নবি ১/৩৮, রশিদ ৩/৪৬, জহির ২/৩৬)।

বৃষ্টির কারণে আধা ঘণ্টা শেষ চতুর্থ দিনের খেলা

শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন আম্পায়াররা। বৃষ্টির বেগ আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হন দিনের বাকী খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে। ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শেষ দিনে আধা ঘণ্টা আগে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে খেলা।  

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ

সকালে কয়েক দফা বৃষ্টিতে খেলা শুরু হতে দেরি হয়। এরপর বৃষ্টি থামলেও আকাশ ছিল মেঘলা। শঙ্কা ছিল যে কোন সময়ে বৃষ্টি নামার। ৪৪.২ ওভার পর ফের বৃষ্টি নেমেও যায়। ফলে আপাতত বন্ধ রয়েছে খেলা। দিনের খেলা বাকী আছে আরও ১৩ ওভার। এদিনের আবার খেলা শুরু হওয়া নিয়ে রয়েছে বড় শঙ্কা। তবে বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বাংলাদেশের জন্য। কারণ এরমধ্যেই দলের শীর্ষ ছয় ব্যাটসম্যান ফিরে গেছেন সাজঘরে। বড় হারের শঙ্কাতেই রয়েছে দলটি।

৪৪.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৬ রান। টাইগারদের স্বপ্ন ধরে রেখে এখনও টিকে আছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটিং করছেন ৩৯ রানে। আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার অবশ্য এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। জিততে হলে এখনও বাংলাদেশকে করতে হবে ২৬২ রান। আফগানদের চাই শেষ চার উইকেট।  

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে হার দেখছে বাংলাদেশ

কোন মতে একশ রান করতেই সাজঘরে দলের অর্ধেক ব্যাটসম্যান। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর কাঁধে ছিল তাই বিশাল দায়িত্ব। কিন্তু সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ হয়েছে এ ব্যাটসম্যান। দলের বিপদ বাড়িয়ে ফিরে গেছেন তিনি। রশিদ খানের গুগলি বুঝতেই পারেননি। আগের তিনটি বলের মতোই পা বাড়িয়ে সামনের দিকে খেলতে চেয়েছিলেন। ফলে ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইব্রাহিম জাদরানের হাতে। ২১ বলে ৭ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ।

৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২৬ রান। ২৯ রানে ব্যাট করছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন আগের ইনিংসে ওপেনিং করা সৌম্য সরকার। জয়ের জন্য এখনও টাইগারদের প্রয়োজন ২৭২ রান।  

সাদমানের বিদায়ে বড় চাপে বাংলাদেশ

এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অপর প্রান্তটি আগলে রেখেছিলেন সাদমান ইসলাম। তবে শেষ পর্যন্ত তার প্রতিরোধও ভেঙেছে আফগানরা। তাকে বিদায় করেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার মোহাম্মদ নবি। বলটি টার্ন করবে ভেবে ব্যাট পেতেছিলেন সাদমান। কিন্তু সোজা চলে যাওয়ায় লাইন মিস করে পড়েন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। ১১৪ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেছেন এ ওপেনার।

৩৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১০৬ রান। সাকিব ১৬ রানে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জিততে হলে এখনও ২৯২ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।  

লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের একশ

৮২ রানেই দলের সেরা চার উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। এ অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলার কাজটি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে নিয়ে করছেন তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম। শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করছেন তিনি। চার বিরতিতে যাওয়ার আগে আর কোনও উইকেট হারায়নি তারা। দলও ছাড়িয়েছে একশ রানের কোটা। ৩২.৩ ওভারে এসেছে বাংলাদেশের দলীয় শতরান।

চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০২ রান। সাদআন ৩৯ ও সাকিব ১৪ রানে ব্যাট করছেন। জিততে হলে এখনও ২৯৬ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।   

জীবন পেলেন সাকিব

রশিদ খানের বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বিপদ প্রায় ডেকে এনেছিলেন তাতে। গুগলি বুঝতে না পেরে টাইমিংয়ে হেরফের করে রশিদের হাতেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু ডান হাত বাড়িয়ে তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। বল হাত থেকে ফসকে গেলে বড় বাঁচা বেঁচে যান সাকিব। এ সময় ১১ রানে ব্যাট করছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৯ রান। সাদআন ৩৮ ও সাকিব ১২ রানে ব্যাট করছেন।

বিপদ বাড়িয়ে ফিরলেন মুমিনুল

৭৮ রানে দলীয় ৩ উইকেট হারানোর পর টেস্ট স্পেশালিষ্ট হিসেবে খ্যাত ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের দিকে তাকিয়ে ছিল টাইগাররা। কিন্তু হতাশ করেছেন এ ব্যাটসম্যান। রশিদ খানের লেগ স্পিনে ধরা পড়েছেন তিনি। পড়েছেন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। অফস্টাম্পের বাইরে রাখা বলটি বাঁক খেয়ে ভিতরে ঢুকলে লাইন মিস করে আউট হন মুমিনুল। ৮ বলে ৩ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৮৬ রান। ৩৩ রানে ব্যাট করছেন সাদমান ইসলাম। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। জিততে হলে এখনও ৩১২ রান করতে হবে টাইগারদের।  

আশা জাগিয়ে ফিরলেন মুশফিক, বিপদে বাংলাদেশ

লক্ষ্যটা বিশাল। এমন ব্যাটিংয়ে নেমে জুতসই ব্যাটিং করছিলেন মুশফিকুর রহিম। দেখে খেলছিলেন তবে বাজে বল পেলেই মারছিলেন। তবে রশিদ খানের বলটি বাঁক নেবে ভেবে খেলেছিলেন মুশফিক। কিন্তু বল কোন বাঁক না খেয়ে সোজা গেলে লাইন মিস করেন তিনি। ব্যাটে না লেগে আঘাত হানে প্যাডে। আম্পায়ারও আবেদনে সাড়া দেন। পরে রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু লাভ হয়নি। ব্যক্তিগত ২৩ রানে ফিরে যেতে হয় এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে। ফলে বড় বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।

২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭৯ রান। ৩২ রানে ব্যাট করছেন সাদমান ইসলাম। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মুমিনুল হক। জিততে হলে এখনও ৩১৯ রান করতে হবে টাইগারদের।    

উইকেট বিলিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক

প্রথম ইনিংসে ভালো ব্যাট করায় হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে তার কাছ থেকে প্রত্যাশা বেড়েছিল। সে কারণেই নামানো হয় তিন নম্বরে। কিন্তু কি করলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ক্ষণিকের জন্য হয়তো ভেবেছিলেন এটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। অফস্টাম্পের অনেক বাইরে রাখা জহির খানের বলটি ড্রাইভ করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন তিনি। লংঅফে সে ক্যাচ সহজেই লুফে নিয়েছেন আসগর আফগান। ফলে বড় বিপদেই পড়েছে টাইগাররা। ১৭ বলে ১২ রান আসে মোসাদ্দেকের ব্যাটে।

১৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫২ রান। ২৯ রানে ব্যাট করছেন সাদমান ইসলাম। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। জিততে হলে এখনও ২৪৬ রান করতে হবে টাইগারদের। 

লাঞ্চের পরই ফিরলেন লিটন

জহির খানের প্রথম বলেই আউট হয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু রিভিউ নিয়ে সে যাত্রা বাঁচলেন তিনি। কিন্তু লাভ হলো কি? দুই বল পর এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন এ ওপেনার। নিচু হওয়া বলের পেসে বিভ্রান্ত হয়েছেন তিনি। ফলে আরও একবার ব্যর্থ হলেন লিটন। ৩০ বল মোকাবেলা করে ৯ রান করেছেন এ ওপেনার। অথচ লাঞ্চের আগে টাইগারদের ব্যাটিং স্বস্তি দিয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু লাঞ্চের পর এলোমেলো।

১১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৫ রান। ২৫ রানে ব্যাট করছেন সাদমান ইসলাম। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ভিড়ে সাবলীল ব্যাট করায় কিছুটা আগে নামানো হয়েছে তাকে।

থেমেছে বৃষ্টি, চলছে খেলা শুরুর প্রস্তুতি

দফায় দফায় বৃষ্টি বাগড়া বেঁধেছে চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে। লাঞ্চ বিরতিতে বেশ কিছুক্ষণ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে। তবে আশার খবর আবার থেমেছে বৃষ্টি। ফলে কভার সরানোর কাজ করছেন মাঠকর্মীরা। ২টা ১০ মিনিটে ফের শুরু হবে খেলা।

আবার বৃষ্টি

সকালে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দুই ঘণ্টা দেরি হয়। এরপর প্রথম সেশন কাটে নির্বিঘ্নেই। তবে লাঞ্চ বিরতিতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে কিছুক্ষণ। ফলে উইকেট ঢেকে রাখা হয়েছে কভারে।

দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা নির্ধারিত সময়ের পরে শু হবে।

উইকেট না হারিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে রানের খাতায় কিছু যোগ হওয়ার আগেই উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা হয়েছে বেশ ভালো। লাঞ্চ পর্যন্ত সময়টা নিরাপদেই কাটিয়েছেন দুই ওপেনার।

বিশেষ করে সাদমান ইসলাম করছেন ইতিবাচক ব্যাটিং। ঝুঁকি নেননি কোনো, বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করতেও দ্বিধা করেননি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ নবির বলে মারেন দুটি চার।

তিন নম্বর থেকে ওপেনিংয়ে উঠে আসা লিটন দাস নিজেকে এখনও মানিয়ে নিতে পারেননি। দু-একটি আগ্রাসী শট খেলারও চেষ্টা করেছেন। তবে তাতে বিপদ হয়নি।

লাঞ্চের আগ পর্যন্ত ৯ ওভার খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৩০ রান। লিটন ৯ ও সাদমান ২১ রানে উইকেটে আছেন। জয়ের জন্য এখনও দরকার ৩৬৮ রান।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, গড়তে হবে রেকর্ড

৩৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমেছে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে এসেছে পরিবর্তন। সাদমান ইসলামের সঙ্গে নেমেছেন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে সাদমানের সঙ্গী হয়েছিলেন সৌম্য সরকার।

টেস্টে এর আগে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আফগানদের হারাতে হলে ওই রেকর্ড ছাড়িয়ে বহুদূর এগোতে হবে সাকিবদের।

শুধু তাই নয়, টেস্ট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা রান তাড়ার নজির স্থাপন করতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ এই ফরম্যাটে ৩৯৮ রানের চেয়ে বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির আছে মাত্র চারটি।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩৯৮

চতুর্থ দিন সকালে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না আফগানিস্তানের ইনিংস। ৬.৩ ওভার খেলে হাতে থাকা ২ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করতে পারল ২৩ রান। তবে কাজের কাজটা আগেই সেরে রেখেছিল তারা। দলটি পেয়েছে ৩৯৭ রানের বিশাল লিড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: (আগের দিন ২৩৭/৮) ৯০.১ ওভারে ২৬০ (ইহসানউল্লাহ ৪, ইব্রাহিম ৮৭, রহমত ০, হাশমতউল্লাহ ১২, আসগর ৫০, আফসার ৪৮*, নবি ৮, রশিদ ২৪, কাইস ১৪, আহমেদজাই ৯, জহির ০; সাকিব ৩/৫৮, মিরাজ ২/৩৫, তাইজুল ২/৮৬, নাইম ২/৬১, মুমিনুল ০/১৩, মোসাদ্দেক ০/৩)।

অলআউট আফগানিস্তান

শেষ ব্যাটসম্যান জহির খান বিদায় নিলেন মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তান অলআউট হলো ২৬০ রানে।

এদিন প্রথম ওভার করতে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পেলেন ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট। সিলি পয়েন্টে ক্যাচ নিলেন মুমিনুল হক।

রানের খাতা খোলার আগেই ফিরলেন জহির। আরেক পাশে আফসার জাজাই অপরাজিত থাকলেন ৪৮ রানে।

রানআউট হয়ে ফিরলেন আহমেদজাই

অপর ব্যাটসম্যান আফসার জাজাইয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরলেন ইয়ামিন আহমেদজাই। তার সংগ্রহ ১১ বলে ৯ রান। দারুণ দক্ষতায় ফিল্ডারের থ্রো ধরে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি।

৮৯ ওভার শেষে আফগানদের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৬০ রান। তাদের লিড এই মুহূর্তে ৩৯৭ রান। উইকেটে ৪৮ রান করা আফসার জাজাইয়ের সঙ্গী মাত্রই নামা জহির খান।

শুরু হলো খেলা, লিড বাড়াচ্ছে আফগানিস্তান  

সকালের দুই ঘন্টা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে খেলা। দিনের বাকি সময়েও আছে বৃষ্টির আভাস। পঞ্চম দিনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এসব মাথায় নিয়েও নিজেরাই ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান। আগের দিনের ৩৭৪ রানের লিডকে আরও বাড়িয়ে নিচ্ছে তারা।

মাঠ প্রস্তুত, শুরু হচ্ছে খেলা 

সকালের বৃষ্টি বেলা বাড়তেই কমতে শুরু করেছিল। সেই বৃষ্টি এখনো পুরোই উধাও। মাঠকর্মীরা ইতিমধ্যে মাঠ প্রস্তুত করে ফেলেছেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন করে আম্পায়াররা জানিয়েছেন ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে খেলা। লাঞ্চের সময় তাই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সেশনে খেলা হবে ১টা পর্যন্ত। ১টা থেকে ১টা ৪০ পর্যন্ত হবে লাঞ্চ।



১টা ৪০ থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত হবে দ্বিতীয় সেশন। ৪টা থেকে ৫টা ৪০ পর্যন্ত হবে তৃতীয় ও শেষ সেশন। নূন্যতম ৭৩ ওভার খেলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আম্পায়াররা। 

থেমেছে বৃষ্টি, পানি সরানোর কাজে নেমেছেন মাঠকর্মীরা

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে থেমেছে বৃষ্টি। পানি সরানোর কাজে নেমেছেন মাঠকর্মীরা। কভারের উপর জমে থাকা পানি সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে একটি সুপার সপারও। নতুন করে আর বৃষ্টি না হলে পানি সরিয়ে লাঞ্চের আগে খেলা শুরু হতে পারে। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন করবেন দুই আম্পায়ার। এর মধ্যে বৃষ্টি না হলে তারা নেমে আউটফিল্ডের অবস্থা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

বৃষ্টির কারণে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হতে দেরি

আগের দিন আলোক সল্পতার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা শেষ হওয়ায় কথা ছিল এদিনের খেলা শুরু হবে ২০ মিনিট আগে। অর্থাৎ ৯টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সকাল থেকে মাঝারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ মুহূর্তে কিছুটা কমলেও হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। তাই কভার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে মাঠ। সারাদিনই এমন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে জোর বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকায় খেলা মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনাও বেশি।

মিরাকলের আশায় বাংলাদেশ

এর মধ্যেই ৩৭৪ রানের বোঝা। বাড়তে পারে আরও। বাংলাদেশের সামনে ইতিহাস গড়ে জেতার অবিশ্বাস্য এক লক্ষ্যই দিতে যাচ্ছে তারা। বাস্তবতা বলছে, এমন সমীকরণে ১০০ বারের মধ্যে বড় জোর দুই একবার কোনো দল সফল হতে পারে। ১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে (৩৭৪ রান) বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনা হাতেগোনা- মাত্র সাতটি। শেষ দুই উইকেট নিয়ে আফগানরা আরও ৪৫ রান যোগ করতে পারলে বাংলাদেশের সামনে থাকবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ।

এমন বেহাল দশাতেও ক্রিকেটের গৌরবময় অনিশ্চয়তার হাত ধরে আশা দেখছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ‘ক্রিকেটে সবকিছুই হতে পারে। আমরা চেষ্টা করব, যেহেতু আমাদের হাত দুটো দিন সময় আছে। প্রথম কাজ হলো দ্রুত ওদের বাকি দুটি উইকেট নেওয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা ঠিকভাবে বুঝে সেটা পালন করা। অবশ্যই আমি মনে করি, ক্রিকেট খেলায় সবই হতে পারে। জেতা ম্যাচও হেরে যেতে পারে কিংবা হেরে যাওয়া ম্যাচ সহজেই জিততে পারে- এমন অনেক ঘটনাই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।’

চারশোর পথে আফগানদের লিড

বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ২০৫ রানে বেঁধে ফেলে আফগানিস্তান পেয়েছিল ১৩৭ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ইব্রাহিম জাদরান ও আসগর আফগানের হাফসেঞ্চুরিতে সেটা ফুলে-ফেঁপে ধারণ করেছে বিশাল আকার।

আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৩৭ রান। অপরাজিত আছেন আফসার জাজাই ৩৪ রানে। তার সঙ্গী ইয়ামিন আহমেদজাই রানের খাতা খোলেননি এখনও।

বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের অল্প রানে বেঁধে ফেলা। অধিনায়ক সাকিবের হাত ধরে শুরুটাও হয়েছিল পরিকল্পনামাফিক। প্রথম ওভারেই নেই আফগানদের ২ উইকেট। কিন্তু চাপটা ধরে রাখা যায়নি।

চতুর্থ উইকেটে ইব্রাহিম ও আসগর ১০৮ রানের জুটি গড়লে বিপদ বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদে রূপান্তরিত হয়। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে ইব্রাহিম ফেরেন ৮৭ রানে। আসগর করেন ৫০ রান। ৫৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সাকিব সবচেয়ে সফল।

দিন শেষে আফগানদের লিড চারশোর পথে- ৩৭৪ রান। হাতে উইকেট থাকায় তারা লিড আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

চট্টগ্রামের মাঠে শেষ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা নিউজিল্যান্ডের। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা করেছিল ৩১৭ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (তৃতীয় দিন শেষে)

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৪২

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ১৯৪/৮) ৭০.৫ ওভারে ২০৫ (সাদমান ০, সৌম্য ১৭, লিটন ৩৩, মুমিনুল ৫২, সাকিব ১১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৭, মোসাদ্দেক ৪৮*, মিরাজ ১১, তাইজুল ১৪, নাঈম ৭; আহমেদজাই ১/২১, নবি ৩/৫৬, জহির ০/৪৬, রশিদ ৫/৫৫, কাইস ১/২২)।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৩.৪ ওভারে ২৩৭/৮ (ইহসানউল্লাহ ৪, ইব্রাহিম ৮৭, রহমত ০, হাশমতউল্লাহ ১২, আসগর ৫০, আফসার ৩৪*, নবি ৮, রশিদ ২৪, কাইস ১৪, আহমেদজাই ০*; সাকিব ৩/৫৩, মিরাজ ১/৩৫, তাইজুল ২/৬৮, নাইম ২/৬১, মুমিনুল ০/১৩, মোসাদ্দেক ০/৩)।

Comments

The Daily Star  | English

AL to go tough to quell infighting

Over the first six months of this year, there were on average more than two incidents of infighting every day in Awami League. These conflicts accounted for 94 percent of the total 440 incidents of political violence during the same period.

23m ago