‘ডাবল সেঞ্চুরি ও ডাক’ বৃত্তান্ত

১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে ডাক (শূন্য রানে আউট হওয়া) মেরে হতাশা নিয়ে সাজঘরে ফেরা আবার ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বীরের বেশে মাঠ ছাড়া- এমন অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার স্বাদ নিয়েছেন মাত্র সাতজন ক্রিকেটার। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশেরও উপস্থিতি, বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মাধ্যমে।
Shakib Al Hasan
ফাইল ছবি: ফিরোজ আহমেদ

১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে ডাক (শূন্য রানে আউট হওয়া) মেরে হতাশা নিয়ে সাজঘরে ফেরা আবার ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বীরের বেশে মাঠ ছাড়া- এমন অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার স্বাদ নিয়েছেন মাত্র সাতজন ক্রিকেটার। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশেরও উপস্থিতি, বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মাধ্যমে।

ডাবল সেঞ্চুরি ও ডাক- এ দুয়ের সম্মিলন টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার দেখা গিয়েছিল প্রায় ৮৪ বছর আগে। ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে জোহানেসবার্গে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ডাডলি নোর্স অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ০ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩১ রান করেছিলেন। এরপর আরও ছয় ব্যাটসম্যান একই রকমের নজির স্থাপন করেছেন।

এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম ওঠে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। ওয়েলিংটনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব প্রথম ইনিংসে খেলেছিলেন ২১৭ রানের অনবদ্য ইনিংস। প্রায় সাত ঘণ্টা উইকেটে ছিলেন তিনি। ২৭৬ বলের দৃষ্টিনন্দন ইনিংসে মেরেছিলেন ৩১টি চার। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখেছিলেন সাকিব। ৫ বলে খেলে শূন্য রানে বিদায় নিয়েছিলেন।

সাতজনের এই তালিকায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি পাকিস্তানের শোয়েব মালিকের দখলে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে আবুধাবিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। পরের ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই তাকে ফিরতে হয়েছিল সাজঘরে।

অদ্ভুতুড়ে এমন নজির গড়া বাকি ব্যাটসম্যানরা হলেন- অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (প্রতিপক্ষ ভারত, ২৪২ ও ০), পাকিস্তানের ইমতিয়াজ আহমেদ (প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ২০৯ ও ০), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস (প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ২০৮ ও ০) এবং একই দলের সেইমোর নার্স (অস্ট্রেলিয়া ২০১ ও ০)।

উল্লেখ্য, একই টেস্টের এক ইনিংসে ডাক ও অন্য ইনিংসে সেঞ্চুরি (ডাবল সেঞ্চুরিসহ) করার ঘটনা ইতিহাসে রয়েছে মোট ১৬৮টি। সাকিব ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের আরও তিনজন- জাভেদ ওমর (প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ১১৯ ও ০), মোহাম্মদ আশরাফুল (প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, ০ ও ১২৯*) এবং তামিম ইকবাল (প্রতিপক্ষ ভারত, ০ ও ১৫১)।

Comments