‘আসুন আমরা সকল সাধারণ মানুষ এক হয়ে যাই’

dr-kamal-hossain-1_0.jpg
ড. কামাল হোসেন। স্টার ফাইল ছবি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন দেশকে ‘স্বৈরাচার’ থেকে মুক্ত করতে ও ‘কার্যকর’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি এলাকায় ঐক্যের আহ্বান ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

“যারা দেশে স্বৈরশাসন চালাতে চায়, তাদের মূল চেষ্টা থাকে জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা ও তাদের সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতার জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করা। তাদের বিদায় জানাতে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ঐক্যের ডাক জেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় নিয়ে যেতে হবে,” বলেন তিনি।

ড. কামাল বলেন, “অতীতে আমরা ঐক্যের ডাক দিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি ও সফল হয়েছি। ঐক্যের ডাক নিয়ে আমাদের জেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় যেতে হবে। ক্ষমতার মালিক হিসেবে জনগণ যেনো নিজের ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য আমাদের ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে। সেজন্যই আমরা এ ঐক্যের ডাক দিয়েছি।”

আজ (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক সংগঠন মুক্তিজোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল বলেন, “জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে তারা এ দেশের মালিকের ভূমিকা রাখতে পারবে। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।”

“আসুন আমরা সকল সাধারণ মানুষ এক হয়ে যাই ও দেশের আসল মালিক হওয়ার শক্তি অর্জন করি। আমরা কার্যকর গণতন্ত্র পাবো এবং আমরা কেবল ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে জেলা ও স্থানীয় সরকারসহ সকল স্তরে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো”, বলে মনে করেন তিনি।

দেশকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনতে জাতীয় ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান বলেন, “সংবিধান অনুসারে জনগণই দেশের মালিক। সাময়িকভাবে কোনো সরকার বৈধভাবে এলেও তারা মালিক নয়। মালিকের প্রতিনিধি। আর যারা অবৈধভাবে ওখানে আছে, তারা তো কিছুই না। তারা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী।”

তিনি বলেন, “স্বৈরাচার সরকার’ বিভিন্নভাবে জনগণের শক্তি নষ্ট ও দুর্বল করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। জনগণ যে দেশের মালিক, সেটা তারা স্বীকারও করে না, তাদের ক্ষমতাও দিতে চায় না।”

ড. কামাল বলেন, “জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে কোনো স্বৈরচারি সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। জনগণের ঐক্যের মধ্যে যারা স্বৈরশাসক হিসেবে দেশ চালাতে চেয়েছে তারা পারেনি। সাময়িকভাবে পারলেও ধরে রাখতে পারেনি।”

আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অর্থনীতিকে গতিশীল করে, গণতন্ত্রকে ভালোভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে আমরা দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পদক্ষেপ অবশ্যই নেবো। আমাদের সবচেয়ে বেশি যেটা পক্ষে আছে, সেটা হলো জনগণ।”

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে জাতীয় সমাজতান্তিক দল (জেএসডি-রব) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভাবে বর্তমান সরকার জনগণকে কোনো সভা, সমাবেশ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয় না।”

তিনি বলেন, “দেশ এখন ‘একজনের ইচ্ছার’ ওপর চলছে ও সরকার সকল ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলেছে। দেশ এখন বড় বিপদের মধ্যে আছে। উন্নয়নের নামে সন্ত্রাস চলছে। এটা বেশিদিন ধরে চলতে দেওয়া যায় না।”

তিনি বলেন, “দেশের পক্ষ নেওয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার মাধ্যমে দেশকে জাহান্নাম বানিয়েছে তারা। আবরার হত্যার মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবরার হত্যার কারণে আপনাদের ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হবে।”

তিনি বলেন, “জনগণ দেশের রাজনীতির মধ্যে একটি আদর্শগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ‘অপশাসন’ ও ‘ভোট ডাকাতি’ থেকে মুক্তি পেতে চায়।”

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, “দেশের জনগণ বর্তমান সরকারকে তাদের ‘দমনপীড়নমূলক কাজ ও অপশাসনের’ জন্য ঘৃণা করে।”

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার তাকে ‘অন্যায়ভাবে’ জেলে রেখেছে। আমরা তার শর্তহীন মুক্তি চাই।”

Comments

The Daily Star  | English
Mirza Fakhrul on polls

Efforts on to make polls questionable and delayed: Fakhrul

Says Chief Adviser Yunus has assured BNP that the election will be held in February 2026

5h ago