দুই ক্যারিবিয়ানের তাণ্ডবে সিলেট থান্ডারের প্রথম জয়

জয় মিলছিল না সিলেট থান্ডারের। হারতে ভুলে গিয়েছিল খুলনা টাইগার্স। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই আগ্রাসী ব্যাটসম্যানের তান্ডবে বদলে গেল হিসাব-নিকাশ। আন্দ্রে ফ্লেচার তুলে নিলেন চলতি বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি। তার আগে জনসন চার্লসও জাগিয়েছিলেন সম্ভাবনা। তাদের বিস্ফোরণে খুলনাকে আসরের প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে সিলেট পেল প্রথম জয়।
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

জয় মিলছিল না সিলেট থান্ডারের। হারতে ভুলে গিয়েছিল খুলনা টাইগার্স। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই আগ্রাসী ব্যাটসম্যানের তান্ডবে বদলে গেল হিসাব-নিকাশ। আন্দ্রে ফ্লেচার তুলে নিলেন চলতি বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি। তার আগে জনসন চার্লসও জাগিয়েছিলেন সম্ভাবনা। তাদের বিস্ফোরণে খুলনাকে আসরের প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে সিলেট পেল প্রথম জয়।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এক পর্যায়ে আড়াইশ রানের দিকে চোখ রাখছিল সিলেট। আগের চার ম্যাচের সবকটিতে হারা দলটি শেষ পর্যন্ত থামে ৫ উইকেটে ২৩২ রানে। জবাবে মুশফিকুর রহিমরা অলআউট হয়ে যান ১৫২ রানে। ৮০ রানের বড় জয়ে থান্ডার তাই পেলে আসরে প্রথম জয়ের দেখা।

এবারের আসরে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আগের দিন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স তুলেছিল ৫ উইকেটে ২৩৮ রান।

খেলার ফল কোন দিকে যাচ্ছে তার সুর তৈরি হয়ে যায় প্রথম ইনিংসেই। যদিও চট্টগ্রামের পাটা উইকেটে যেকোনো কিছুই মনে হচ্ছিল সম্ভব। টস জিতে সিলেটকেই আগে ব্যাট করতে পাঠান মুশফিক।

রনি তালুকদারের জায়গায় নামা আব্দুল মজিদ শুরুতেই বিদায় নিলেই সেই পুরনো চক্রেই ঘোরপাক খাওয়ার আভাস তৈরি হয় সিলেটের। তবে এবার হলো একেবারেই ভিন্ন কিছু। তা এতটাই ভিন্ন যে দ্বিতীয় উইকেটেই তীব্র গতিতে দুই ক্যারিবিয়ান চার্লস আর ফ্লেচার আনলেন ১৫১ রান। জুটিতে বেশি আগ্রাসী চার্লস মনে হচ্ছিল করে ফেলবেন আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। ৩৮ বলে ৫ ছক্কা আর ১১ চারে ৯০ রানে গিয়ে থামেন তিনি। ২৩৮ স্ট্রাইক রেটে তার এই বিস্ফোরণই অনেকখানি এগিয়ে দেয় সিলেটকে।

চার্লস যা পারেননি, জনসন আরেকটু স্থতধি খেলে সেটাই করে ফেলেন। ৫৩ বলে পৌঁছান তিন অঙ্কে। শেষ দিকে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন আরেকটু মারতে পারলে বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়তে পারত দলটি।

২৩৩ রানের লক্ষ্য নেমে ইনিংসের একদম প্রথম বলেই রাহমানুল্লাহ গুরবাজকে হারায় খুলনা। এরপর তাদের ইনিংস বলতে রাইলি রুশোর চেষ্টা আর রবি ফ্রাইলিঙ্কের ব্যবধান কমানো। তিনে নামা সাইফ হাসান খেলেছেন ম্যাচের পরিস্থিতির একদম বিপরিত।

৮ বলে ১২ করে আউট হয়ে এদিন আর দলকে কিছু দিতে পারেননি মুশফিক। অভিজ্ঞ শামসুর রহমান শুভও হয়েছেন ব্যর্থ। ৩২ বলে ৫২ রান করে রুশোর ফেরার পর তাই আর আলো দেখেনি টাইগার্সরা।

২০ বলে ৪৪ করে ফ্রাইলিঙ্ক আশা জাগাতে পারেননি, কমিয়েছেন কেবল ব্যবধান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট থান্ডার: ২০ ওভারে ২৩২/৫ (ফ্লেচার ১০৩*, মজিদ ২, চার্লস ৯০, মিঠুন ৩, মোসাদ্দেক ১১, নাজমুল মিলন ১১, সোহাগ ০*; ফ্রাইলিঙ্ক ২/৩৭, আমির ০/৪৫, শফিউল ১/৪৪, শহিদুল ১/৪৮, রবিউল ১/৪৪, মিরাজ ০/১০)

খুলনা টাইগার্স: ১৮.৩ ওভারে ১৫২ (গুরবাজ ০, সাইফ ২০, রুশো ৫২, মুশফিক ১২, শামসুর ৭, ফ্রাইলিঙ্ক ৪৪, মিরাজ ৪, শহিদুল ২, আমির ৪ ; মনির ২/৩১ , সান্তোকি ৩/৩৭, গাজি ০/৩৫, মোসাদ্দেক ০/৮, ইবাদত ২/১৭ , নাভিন ১/২১)।

ফল: সিলেট থান্ডার ৮০ রানে জয়ী।

Comments

The Daily Star  | English

Spend money on poverty alleviation than on arms

PM urges global leaders at an event to mark the International Day of United Nations Peacekeepers 2024

1h ago