যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে করোনায় প্রথম মৃত্যু

হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন আর শুধু চীনের সমস্যা নয়। এ ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন, পর্যটন ও পুঁজিবাজারে ক্রমশ স্থবিরতা নেমে এসেছে।
COVID-19_Outbreak_World_Map-1.jpg
বিশ্বের যেসব দেশে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে (লাল রঙ), যেসব দেশ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে (নীল রঙ)। ছবি: উইকিপিডিয়া

হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন আর শুধু চীনের সমস্যা নয়। এ ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন, পর্যটন ও পুঁজিবাজারে ক্রমশ স্থবিরতা নেমে এসেছে।

গত নয় দিনে ৩৩টি দেশ প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে। এ নিয়ে ৬৪টি দেশে পৌঁছে গেছে করোনাভাইরাস। চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিতে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা।

সারাবিশ্বে আজ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৯ জনে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৯৮৫ জন। বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪২ হাজার ১৬৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং ভারতে করোনার লক্ষণ নিয়ে একজন করে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৫০ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন সাত জন।

এমন অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, তাদের পুরোপুরি সেরে উঠা উচিত। এই সমস্যাটির সঙ্গে আমরা নিশ্চিতভাবেই পরিচিত হয়েছি এবং এটিই আমাদের বিবৃতি হতে পারে।’

চলমান সতর্কতার অংশ হিসেবে ইরানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এলাকা এড়িয়ে চলতে মার্কিন নাগরিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

করোনার লক্ষণ নিয়ে ভারতে প্রথম মৃত্যু

কেরালায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে একজন মারা গেছেন। সম্প্রতি তিনি মালয়েশিয়া থেকে ভারতে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই তিনি এরনাকুলামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়াও তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। তার শরীরের নমুনা নিয়ে প্রাথমিক করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল এসেছে। তারপরও তার মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরও নমুনা স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন। চীন থেকে ফেরত আসা একটি দলকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তাদের প্রথম রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে (আলাদা করে) রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজ থেকে ফিরিয়ে আনা ৭৮ বছর বয়সী একজন পার্থের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু রবার্টসনের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রীও জাহাজে থাকার সময় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে পার্থ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা অপরিবর্তনীয় রয়েছে।

ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ১৬০ জন অস্ট্রেলীয় যাত্রীর মধ্যে ওই দম্পতি ছিলেন।

নতুন দুই জনসহ দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। এর মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

Comments