জিম্বাবুয়েকে গুঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া জয়
ব্যাটিংবান্ধব উইকেটের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগালেন লিটন দাস। ডানহাতি ওপেনার সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে খেললেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। হাফসেঞ্চুরি পেলেন মোহাম্মদ মিঠুন, বাকি ব্যাটসম্যানরাও রাখলেন ছোট ছোট অবদান। তাতে রানের পাহাড়ে চড়ল বাংলাদেশ। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন-মেহেদী হাসান মিরাজ-মাশরাফি বিন মর্তুজারা তছনছ করে দিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। তাতে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ।
রবিবার (১ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে রানে ১৬৯ হারিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের ৬ উইকেটে ৩২১ রানের জবাবে ৬৫ বল বাকি থাকতে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫২ রানে।
এদিন ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের আগের সর্বোচ্চ ছিল ৮ উইকেটে ৩২০ রান, ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে।
এরপর বোলারদের নৈপুণ্যে রানের হিসাবে এই সংস্করণে সবচেয়ে বড় জয়ের কীর্তিও গড়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ জয়টি ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে মিরপুরে লঙ্কানদের তারা হারিয়েছিল ১৬৩ রানে।
টানা পাঁচ হারের পর ওয়ানডেতে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। গেল বছর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে হারের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল তারা।
এদিন লিটন দাস যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, ততক্ষণ বাংলাদেশের ইনিংস আবর্তিত হয়েছে তাকে ঘিরেই। ঝলমলে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ক্র্যাম্পের (পায়ের পেশিতে টান লাগায়) কারণে মাঠ ছাড়ার আগে ১২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ১০৫ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১৩ চার ও ২ ছক্কা।
শক্ত ভিতকে কাজে লাগিয়ে এরপর হাত খুলে ব্যাটিং করেন মোহাম্মদ মিঠুন ও সাইফউদ্দিন। ৪১ বলে ৫০ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিঠুন। চোট থেকে সেরে উঠে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ১৫ বলে ২৮ রানে।
এরপর বল হাতেও নজর কাড়েন পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে প্রথম আঘাত করেন তিনিই। তার জোড়া আঘাতের ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি।
পরে অধিনায়ক মাশরাফি ও স্পিন অলরাউন্ডার মিরাজও উইকেট নেওয়ার মিছিলে যোগ দেওয়ায় দেড়শ পেরিয়েই থামে জিম্বাবুয়ে। সাইফউদ্দিন ৭ ওভারে ৩ উইকেট নেন ২২ রানে। মিরাজ ৮ ওভারে ২ উইকেট পান ৩৩ রানে।
মাশরাফি ২ উইকেট নিতে ৬.১ ওভারে খরচ করেন ৩৫ রান। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক চামু চিবাবা ও টিনোটেন্ডা মুটমবোডজির উইকেট দখল করে বিরল এক কীর্তি গড়েন তিনি। পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেট শিকার করে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩২১/৬ (লিটন আহত অবসর ১২৬, তামিম ২৪, শান্ত ২৯, মুশফিক ১৯, মাহমুদউল্লাহ ৩২, মিঠুন ৫০, সাইফ ২৮*, মিরাজ ৭, মাশরাফি ০*; এমপোফু ২/৬৮, মুম্বা ১/৪৫, মাধেভেরে ১/৪৮, টিরিপানো ১/৫৬, রাজা ০/৫৬, মুটমবোডজি ১/৪৭)
জিম্বাবুয়ে: জিম্বাবুয়ে: ৩৯.১ ওভারে ১৫২ (কামুনহুকামউই ১, চিবাবা ১০, চাকাভা ১১, টেইলর ৮, মাধেভেরে ৩৫, রাজা ১৮, মুটুমবামি ১৭, মুটমবোডজি ২৪, টিরিপানো ২, মুম্বা ১৩, এমপোফু ৯*; মোস্তাফিজ ১/২২, সাইফউদ্দিন ৩/২২, মাশরাফি ২/৩৫, তাইজুল ১/২৭, মিরাজ ২/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ০/১২)।
ফল: বাংলাদেশ রানে ১৬৯ জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
Comments