এসআইয়ের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ,তবুও চাকরিতে বহাল

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসার-০১ হিসেবে কর্মরত ছিলেন টানা সাত বছর। রিজার্ভ অফিসে থাকা অবস্থায় পাহাড়সম অনিয়ম, গাফিলতি আর দুর্নীতি করেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসার-০১ হিসেবে কর্মরত ছিলেন টানা সাত বছর। রিজার্ভ অফিসে থাকা অবস্থায় পাহাড়সম অনিয়ম, গাফিলতি আর দুর্নীতি করেছেন তিনি।

বিভাগীয় পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়া, ঘুষ বাণিজ্য, টাকা ছাড়া পোস্টিং না দেওয়া, মৃতকে জীবিত দেখানো, অধীনস্থ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্য, ঔদ্ধত্য ও অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইচ্ছামাফিক ছাড়পত্র নিয়ে কর্মস্থলের চার্জ-লিস্টের কাগজপত্র না বুঝিয়ে দিয়েই বদলি নিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে।

উপরন্তু দুর্নীতি ধরা পড়ার পর জেলা পুলিশ থেকে দফায় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও, একটিরও জবাব দেননি। এত অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তিনি উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই নিরস্ত্র) কাজী শফিকুল ইসলাম।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনারের করা প্রতিবেদনে।

অনিয়ম আর অভিযোগে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করে সিএমপির রিজার্ভ অফিস থেকে পুলিশের এপিবিএন-এ শফিকুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। কিন্তু বদলি আদেশের পরের দিনই আবার রহস্যজনক কারণে সে আদেশ স্থগিত করা হয়।

সিএমপিতে যোগ দিয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম জেলা পুলিশ লাইনের আদলে অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি রিজার্ভ অফিসে কাজে আসা পুলিশ সদস্যদের হয়রানি করছেন, তাতে পুলিশ সদস্যরাও ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলেও এসআই শফিকুল ইসলাম কীভাবে বহাল তবিয়তে আছেন, সেই প্রশ্ন সিএমপির সব পুলিশ সদস্যের মুখে মুখে।

সিএমপি ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই শফিকুল ইসলাম (বিপি৭৫৯৫০৫৩৬৪৭) গত ২৬ জুলাই ২০১১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত চট্টগ্রাম রিজার্ভ অফিসে কর্মরত ছিলেন। এসময় তিনি জড়িয়ে পড়েন দুর্নীতি আর অনিয়মে। পরে তিনি কৌশলে পুলিশ সদরদপ্তরের মাধ্যমে সিএমপিতে বদলি হন।

বদলি হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর সাবেক পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা রিজার্ভ অফিসে বার্ষিক পরিদর্শনকালে এসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন প্রমাণ পান এবং পরে অধিকর তদন্ত করে সুনির্দিষ্টভাবে মোট ২১টি দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ সুপার অফিস থেকে শফিকুল ইসলামকে বারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তিনি জবাব দেননি।

তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ লাইনে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্ত করছেন সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা।

এসআই শফিকের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার নুরে আলমের করা সেই প্রতিবেদন দ্য ডেইলি স্টার-এর কাছে রয়েছে।

পোস্টিং বাণিজ্য ও টাকা দিয়ে অভিযোগ ধামাচাপা 

আট পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে শফিকুল ইসলাম তিন জন অস্থায়ী কনস্টেবলকে পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ না করেই নিয়মবহির্ভূতভাবে সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) পদে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শফিকুল ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ কনস্টেবল পদায়নে (বিভিন্ন ফাঁড়ি, থানা, ইউনিটে, তদন্ত কেন্দ্র সমূহে) টাকার বিনিময়ে পদায়ন করেন। তৎকালীন মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মশিয়ার রহমান খোকন এই বিষয়টি জানতে পেরে গোপন প্রতিবেদন দাখিল করেন।

শফিকুল তৎকালীন মীরসরাই সার্কেলে কর্মরত কনস্টেবল অমিতাভ চক্রবর্তী, কনস্টেবল লিমন মজুমদার, কনস্টেবল আল মাহমুদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেন। এই বিষয়টি তখন এএসপি মশিয়ার রহমান শফিকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসদাচরণ করেন। যা বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে তৎকালীন কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাকে শূন্যপদে এএসআই হিসেবে পদায়নের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই শফিক। সাইফুল টাকা না দেওয়ায় এসআই শফিক ২৫ দিন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করে তাকে হেনস্থা করেন। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে কনস্টেবল সাইফুল এসপি নুরে আলম মিনার কাছে যেতে চাইলে তাকে ধমক দিয়ে রুম বের করে দেন। কনস্টেবল সাইফুল বর্তমানে এএসআই হিসেবে জেলায় কর্মরত আছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ মার্চ এসআই শফিক ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ সংক্রান্ত কাগজপত্রে ও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি করেন। এতে করে সে বছর আহত ও মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ ও অন্যান্য কার্যক্রম করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে পুলিশের এক এসআই মো. জালাল উদ্দিন, যার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান, তাকে বিধি বহির্ভূতভাবে তথ্য গোপন করে পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পরীক্ষা দিতে দেন, যা শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিধি অনুযায়ী পুলিশে কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

এসআই শফিকের অবহেলা, উদাসীনতা ও অদক্ষতার কারণে পুলিশ সুপারের অফিস থেকে দুটি বিভাগীয় মামলার ডকেট সম্পূর্ণভাবে উইপোকায় খেয়ে ফেলে। এ বিষয়ে পরে হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মামলার ডকেট অরক্ষিতভাবে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া পদোন্নতি হলেও বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের পদ্দোন্নতি আদেশ চাকরি খতিয়ানে টাকা ছাড়া না তোলা, বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে গোপন করা, মৃত পুলিশকে জীবিত দেখানো, বদলীর পরও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে কাগজ না পাঠানোসহ নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, এসআই শফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রথমে মীরসরাই সার্কেল করে। এই সময় তাকে বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি। এমনকি নোটিশের জবাবও দেননি। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআই শফিক এই কার্যকলাপ বাংলাদেশ পুলিশের চেইন অফ কমান্ডের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা অভিযোগনামাসহ সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) বরাবর গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯-এ দুটো চিঠি দেন। কিন্তু সেই চিঠিরও কোনো জবাব দেননি এসআই কাজী শফিক।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজী হননি। বিভাগীয় মামলার কথা জিজ্ঞেস করলে সীতাকুণ্ডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহাও বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিভাগীয় মামলার ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. জাহাঙ্গীর দ্য ডেইল স্টারকে বলেন, ‘অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ চলমান বিষয়।’

হঠাৎ বদলি, একদিন পরে প্রত্যাহার

সিএমপি সূত্র জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এসআই কাজী শফিককে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করে এপিবিএন এ বদলি করা হয়। বদলি আদেশে সই করেন পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী ইন্সপেক্টর জেনারেল (এআইজি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহীল বাকী।

বদলি আদেশটিতে অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল এপিবিএন সদর দপ্তরকে বলা হয়েছে ‘বদলিকৃত এসআইকে (নিরস্ত্র) চট্টগ্রাম রেঞ্জ এলাকা ব্যতীত আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য যেকোনো ইউনিটে বদলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এই আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, পুলিশ কমিশনার সিএমপি, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ, ডিআইজি এপিবিএন, পুলিশ সুপার চট্টগ্রামকে।

রহস্যজনকভাবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে সেই বদলি আদেশ বাতিল করেন একই ব্যক্তি। কিন্তু সেই বাতিল নোটিশে আগের মত সবাইকে অনুলিপি দিলেও ডিআইজি চট্টগ্রামকে কোনো অনুলিপি দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও সিএমপি একাধিক সদস্য বলেন, কাজী শফিক একটি বিশেষ এলাকার লোক বলে পরিচিত এবং সেই সুবাদে তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজ করতে চান না। প্রতিবাদ করলে হয়রান হতে হয়। বদলির আদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন পুলিশ সদস্যরা তার ব্যপারে তটস্থ থাকেন।

সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কয়েকটি চিঠি এসেছিল পুলিশ সুপার অফিস থেকে। কিন্তু তখন এসআই কাজী শফিক ছুটিতে ছিলেন। চিঠি দেখে তাকে উত্তর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো।’

এ বিষয়ে সিএমপির কমিশনার মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান বলে আমি শুনেছি। আমাদের কাছে সরাসরি কোনো চিঠি আসেনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। বিভাগীয় মামলার কিছু ধাপ থাকে, সেই ধাপের অংশ হলো নোটিশের জবাব দেওয়া।’

‘বিভাগীয় মামলা শেষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সেই অনুযায়ী আমরাও ব্যবস্থা নেব’, বলেন সিএমপি প্রধান।

অভিযুক্ত এসআইয়ের ভাষ্য

এসআই কাজী শফিককে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবেদন, বিভাগীয় মামলা ও কৈফিয়ত তলবের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি এই প্রতিবেদককে পাল্টা জেরা শুরু করে বলেন, ‘এই মামলার বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমি বাধ্য নই, আপনি কে এই মামলা নিয়ে কথা বলার? আপনি কে?’

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘জেলার রিজার্ভ অফিসে তার সঙ্গে আরও ৪০ থেকে ৩৫ জন এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল কাজ করতেন। তাদেরকে কিছু না বলে শুধু তাকে কেন বলা হচ্ছে। সবার কাজের ক্ষেত্রে আলাদা, সবার দায় আমি কেন নেব।’

সাবেক পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনার করা প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘এসপি নুরে আলম মিনা সম্পর্কে আমার খুব কাছের আত্মীয় হন। তিনি কেন এই কাজ করেছেন, এটা খুব খারাপ লাগে আমার, দুঃখ লাগে।’

এক পর্যায়ে উনি বলেন, ‘এসপি সাহেব বিধি বহির্ভূতভাবে এইসব করেছেন, এখানে আমি সময় চেয়েছি কিন্তু সময় মঞ্জুর করেননি, আমার সব অর্ডার আছে।’

এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি নুরে আলম মিনা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সে কেন আমার আত্মীয় হতে যাবেন? তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে আমি নিজেই বিভাগীয় মামলা করার উদ্যোগ নিলে তিনি বদলি হয়ে যান।’

‘আমি চলে আসার সময় শুনেছি, সে নাকি একটা জবাব দিয়েছিল। তবে আমি থাকাকালীন সে একটি নোটিশেরও জবাব দেয়নি’, বলেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

Ctg’s Tekpara slum fire guts 80 shanties

At least 80 shanties were burned down in a fire that broke out at a slum at Tekpara in Firingibazar of Chattogram city this afternoon

54m ago