শীর্ষ খবর

কক্সবাজারে দুটি হাতির রহস্যজনক মৃত্যু

কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়ায় দুটি বন্য হাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ভোরের দিকে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় একটি এবং চকরিয়ার খুটাখালি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ার ঠান্ডাছড়ি এলাকায় অপর হাতিটির মরদেহ পাওয়া যায়। হাতি দুটি কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন এলাকার।

কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়ায় দুটি বন্য হাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার ভোরের দিকে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় একটি এবং চকরিয়ার খুটাখালি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ার ঠান্ডাছড়ি এলাকায় অপর হাতিটির মরদেহ পাওয়া যায়। হাতি দুটি কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন এলাকার।

রামু উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালিয়া সামাজিক বনায়ন উপকারভোগীদের সভাপতি মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, ফজরের নামাজের পর তিনি স্থানীয় মোহাম্মদ হোছনের ধানখেতে একটি মৃত হাতি দেখতে পান। এরপর তিনি বন বিভাগ, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীকে খবর দেন। 

স্থানীয়রা জানান, যেখানে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে সেখানে বন বিভাগের প্রায় চার একর জমি দখলে রেখেছেন মোহাম্মদ হোছন। জমিটির ৩০ গজের মধ্যেই এক বছর আগে তার স্ত্রী মরিয়ম খাতুন ওই হাতির আক্রমণে নিহত হন। ওই ঘটনায় তার নাতি রায়হান গুরুতর আহত হন। হাতিটি প্রায়ই সেখানে খাবারের সন্ধানে আসত। হাতিটির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মোহাম্মদ হোছন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, হাতিটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে মারা হয়েছে। কীটনাশক দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও কারও ধারণা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন হোছন।

রামু উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. শাহজাদা মোহাম্মদ জুলকারনাইন বলেন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আমরা হাতিটির নমুনা নিয়েছি। নমুনা ঢাকায় ল্যাবরেটরিতে পাঠাব। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

অপরদিকে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার আবদুল্লাহ বলেন, হাতি অনেক মানুষকে মেরেছে। সে কারণেই কৌশলে লোকজন হাতিগুলোকে মেরে ফেলছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশ বিষয়ক সেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘নির্বিচারে হাতির আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। যেখানে হাতির মৃত্যু হয়েছে সেখানে হাতির আবাস থাকার কথা। কিন্তু সেখানকার বন উজাড় করা হয়েছে। খাদ্য সংকট ও আবাসস্থল হারানোয় হাতিগুলো লোকালয়ে আসছে। আর মানুষ তাদের হত্যা করছে। তিন মাসের ব্যবধানে কক্সবাজারে তিনটি হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হলো।’ দ্রুত হাতির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা না হলে এসব হাতি বাঁচানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।   

অন্য হাতিটির ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম জানান, খুটাখালীর হাতিটি হয়তো আরও দুদিন আগে মারা গেছে। তবে আমরা খবর পেয়ে আজ ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছি। ধারণা করছি, বার্ধ্যক্যজনিত কারণে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি দেখে এসেছি। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী পুরুষ হাতি এটি। ময়নাতদন্তে মূল ঘটনা জানা যাবে। এরপরও আমরা খোঁজ খবর রাখছি।’

Comments