ডাল আমদানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ, তবুও দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

দেশে ডাল আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে পণ্যটির চাহিদা বাড়ায় সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্টার ফাইল ফটো

দেশে ডাল আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে পণ্যটির চাহিদা বাড়ায় সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। 

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ডালজাতীয় পণ্য মশুর, মটর ও মুগডালের আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের অচলাবস্থায় ডালের চাহিদা বৃদ্ধিতে পণ্যটির দাম প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।  

মিল মালিকরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে ডাল ক্রাশিং মিলগুলোর অনিয়মিত উৎপাদন, চলতি মৌসুমে দেশীয় ডালের সরবরাহ ঘাটতি ও সরবরাহ চেইনে বাধা আসায় ডালের বাজার অস্থির হয়েছে। 

তবে সংকটের অজুহাতে ডালের দাম বেড়ে যাওয়াকে অযৌক্তিক বলছেন ভোক্তা ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশের প্রায় সবকিছু বন্ধ ঘোষণা আসার পর পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। মানুষ অনেক আগেই ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও মজুদ করেছে ডাল ও নিত্যপণ্য। তবে আসন্ন রোজা ও সাম্প্রতিক কমিউনিটি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রমের কারণে পাইকারি বাজারে বড় অর্ডার আসছে। যা বাজারকে আরও বেশি অস্থির করছে বলে ধারণা করছেন তারা।

দেশের বৃহৎ পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মশুর ডালের। দেশে সীমিত পরিসরে উৎপাদন হলেও মূলত ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা মসুর ডাল। এছাড়া মটর ও মুগ ডালের বাজারও সিংগভাগ আমদানি নির্ভর।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার মোটা আকারের মশুর ডাল মানভেদে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ৭২-৮০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬৬-৭০ টাকা দরে। এছাড়াও চিকন জাতের মশুর ডাল ১০ টাকা বেড়ে ১১৬-১১৮ টাকা, মুগডাল ১০ টাকা বেড়ে ১৪৭- ১৪৯ টাকায় এবং মটর ডাল ৫ টাকা বেড়ে ৪০-৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমদ আলী সওদাগর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ডালের মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও সারাদেশের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। ফলে দাম কিছুটা বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায়েই আছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশে তিন ধরনের ডাল আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ১১ হাজার টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য তিনটির আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার টন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে মসুর ডাল চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার টন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৬ হাজার টন বেশি।

চট্টগ্রামের হাজী সওদাগর মিলের ব্যবস্থাপক রহমত উল্লাহ বলেন, সারাদেশে ছুটি ঘোষণার পর মিলে শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। বাজারে হঠাৎ পণ্যটির নিয়মিত চাহিদার পাশাপাশি ত্রাণ হিসাবেও এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। তাছাড়া পরিবহন সংকটসহ নানা কারণে পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পাইকারি বাজারের পাশাপাশি আমাদের কাছেও বড় ধরনের সরবরাহ আদেশ আসছে। কিন্তু সময়মত সরবরাহ দিতে না পারায় কিছু কিছু পাইকারী ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

পাইকারী বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। নগরীর কাজির দেউরি, হামজারবাগ চকবাজার, বহদ্দারহাট, চৌমুহনী ও ২ নং বাজার এলাকাতেও পণ্যটির দাম বাড়াচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। পাইকারী বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম কেজি প্রতি ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যাবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকার ফুলতাজ সুপার শপের ম্যানেজার মো. হাসেম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পাইকারী ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি না করায় মূলত খুচরা বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। আগে দোকানের জন্য যে পরিমাণ ডালের চাহিদা ছিল বর্তমানে পাইকারী ব্যবসায়ীরা তার অর্ধেকও দিচ্ছেন না। এ সময়ে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন তারা। ফলে আমাদের বাধ্য হয়েই বেশি দামে ডাল কিনতে হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আপদকালীন সময়ে চাল, ডাল, তেলসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপর সাধারণ ক্রেতাদের নির্ভরতা একটু বেশি থাকে। মূলত কম দামের কারণে মশুর, মুগ ও মটর ডালের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং দুর্বল হওয়ার কারণে দাম বাড়িয়ে পাড়ও পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, এখনই কঠোর মনিটরিং করা না হলে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

 

Comments

The Daily Star  | English

Pahela Baishakh being celebrated

Pahela Baishakh, the first day of Bengali New Year-1431, is being celebrated across the country today with festivity, upholding the rich cultural values and rituals of the Bangalees

58m ago