রামেকের ১৯ চিকিৎসকসহ ৪২ জনের করোনা পরীক্ষা শুরু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২ জন চিকিৎসক ও কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে আজ বুধবার থেকে।
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২ জন চিকিৎসক ও কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে আজ বুধবার থেকে।  

নিজেদের অজান্তে এক কোভিড ১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসার পর গতকাল তাদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়।

সেইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেডিসিন ইউনিটের পঞ্চম ইউনিট, যেখানে কোভিড ১৯ রোগীর চিকিৎসা চলছিল সেটি বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হলেও, রোগীদের বাড়ি চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  

তবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে রাজশাহীর আইডি হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ৮০ বছরের ওই রোগী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা।

হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ৪২ জনের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, ১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক, ২১ জন নার্স ও ওয়ার্ডবয় এবং ২ জন কর্মচারী।

তিনি জানান, ‘আজ ও আগামীকাল এই দুই দিনে তাদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হবে। তারা সরাসরি কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন।’

গত ১৭ এপ্রিল ওই বৃদ্ধ মূত্রথলিতে জ্বালাপোড়ার সমস্যার কথা উল্লেখ করায় তাকে হাসপাতালের পঞ্চম ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে দেখা যায় তার জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। তার বুকের এক্সরে করলে কোভিড ১৯ এর লক্ষণ ধরা পড়ে।

গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে ওই রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত। রাতেই ওই মেডিসন ইউনিট থেকে ডাক্তার কর্মচারীরা চলে যান।

গতকাল ওই ইউনিট থেকে রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সারাদিনে ৪২ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসেন বলে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের শহরের বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

সকালে তাদের টেস্ট করার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু হলে হাসপাতালের আরো অনেক চিকিৎসক, ইন্টার্ণ, নার্স ও কর্মচারীরা দাবি করেন ওই মেডিসিন ইউনিটে কর্মরতদের সংস্পর্শে আসার কারণে তাদেরও পরীক্ষা করা হোক।

দফায় দফায় সভা করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দেন ৪২ জনের করোনা পরীক্ষা সম্পন্নের পর তাদের কেউ যদি করোনা আক্রান্ত থাকেন তবে তাদের সংস্পর্শে আসা ডাক্তার-কর্মচারীদেরও পরীক্ষা করা হবে।

হাসপাতালের ডাক্তার নার্সরা জানান কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগী—চিকিৎসক, নার্স ছাড়াও তিন দিনে অনেকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেখানে আরো ২০ জনের মতো রোগীও ছিলেন।

রোগীদের কেন ছেড়ে দেয়া হলো এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস।

‘আমি শুধু এতটুকই জানি যে ইউনিটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে’, তিনি বলেন।

 

 

Comments

The Daily Star  | English

Personal data up for sale online!

Some government employees are selling citizens’ NID card and phone call details through hundreds of Facebook, Telegram, and WhatsApp groups, the National Telecommunication Monitoring Centre has found.

4h ago