মা দিবস উদযাপন

আসুন নিশ্চিত করি পরিবার ও সমাজে মায়ের যথাযোগ্য মর্যাদা

করোনা মহামারির কারণে আমরা এ বছর ঘরে বসেই উদযাপন করছি মা দিবস। ঘরে থাকার কারণে এবার আমরা সুযোগ পেয়েছি এটি দেখার আমাদের মা আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলার জন্য সারাদিন কতটা কঠোর পরিশ্রম করেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে মা তার সন্তানের জন্য সাধ্যমত সবচেয়ে ভালোটাই করার চেষ্টা করেন। সন্তানের খাওয়ানো, পরানো থেকে শুরু করে সাধ্যমতো পড়াশুনাও করান তিনি। মা পরিবারকে একসঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাজ করার ও তাদের স্বপ্নপূরণের সুযোগ করে দেন। আমরা কী কখনও ভেবে দেখেছি, সন্তান ও পরিবারের প্রতি নিরন্তর ভালবাসা ও যত্নের বিনিময়ে কী পাচ্ছেন মা? আমাদের মধ্যে কতজন পরিবার ও সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতি দিচ্ছি? আমাদের মধ্যে কতজন মায়ের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থতার  খবর রাখছি?

আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত যখন দেখি বিভিন্ন প্রতিবেদনে খবর আসে, এই লকডাউনের সময়ে নারীর প্রতি বিশ্বজুড়েই সহিসংতা বেড়েছে।  মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সম্প্রতি একটি টেলিসার্ভে পরিচালনা করেছে। যাতে দেখা গেছে, এ বছরের এপ্রিলে শাটডাউন চলাকালীন তাদের সাক্ষাত্কার নেওয়া ১৭ হাজার ২০৩ জন নারীর মধ্যে চার হাজার ২৪৯ জন নারীই বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বয়স্ক বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সন্তানরা কীভাবে খারাপ আচরণ করে এবং তাদের বাড়ির বাইরে ফেলে আসে সে সম্পর্কে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখতে পাই। নারীদের বেতনহীন ঘরের কাজগুলোর এখনও আমাদের রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত দেয়নি। আজ আমরা সবাই মা দিবস উদযাপন করছি, অথচ এখনও যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার অভাবের কারণে প্রতিদিন অনেক মা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মারা যাচ্ছেন।

এই মা দিবসে, আসুন আমরা আমাদের মায়েদের পাশাপাশি ঘরে ঘরে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধের অঙ্গীকার করি এবং পরিবার ও সমাজে তাদের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করি।

Comments

The Daily Star  | English
Remittance Earnings of Four South Asian Countries

Bangladesh back in South Asia remittance race

Bangladesh has returned to a competitive remittance growth path in line with its South Asian neighbours, with a larger-than-usual flow of money sent home by expatriates following the political changeover in August last year.

12h ago