করোনা আপডেট: চাঁদপুর, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, ফরিদপুর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কচুয়া থানার পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত ব্যায়াম করা শুরু করেছেন। পিরোজপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির জানাজায় আসেনি আপনজন, দাফন হয়েছে ইউএনও’র নেতৃত্বে। মানিকগঞ্জ এবং ফরিদপুরে আরও ২৮জনসহ করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও নোয়াখালীর দুই উপজেলাকে ঘোষণা করা হয়েছে রেড জোন ঘোষণা।
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কচুয়া থানার পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত ব্যায়াম করা শুরু করেছেন। পিরোজপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির জানাজায় আসেনি আপনজন, দাফন হয়েছে ইউএনও’র নেতৃত্বে। মানিকগঞ্জ এবং ফরিদপুরে আরও ২৮জনসহ করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও নোয়াখালীর দুই উপজেলাকে ঘোষণা করা হয়েছে রেড জোন ঘোষণা।

দ্য ডেইলি স্টার স্থানীয় সংবাদদাতারা এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

চাঁদপুর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চাঁদপুরের কচুয়া থানার পুলিশ সদস্যরা শুরু করেছেন নিয়মিতভাবে ব্যায়াম। থানার সকল পুলিশ সদস্য সকাল-বিকাল একঘণ্টা করে যোগ ব্যায়ামসহ শরীরচর্চার অনুশীলন করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ অলি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কচুয়া থানায় কর্মরত সকল সদস্যকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই শরীরচর্চা করানো হচ্ছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত চাঁদপুরে কর্মরত ১৬ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে ১২ জন সুস্থ হয়ে গেছেন। এখনো চার জন পুলিশ কনস্টেবল আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।

পিরোজপুর

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর জানাজা বা দাফনের জন্য আসেনি আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশী। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে গোসল ও জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম সোহরাব হোসেন হাওলাদার (৬০)। তিনি উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের রাজপাশা গ্রামের মৃত আব্দুল গফফার হাওলাদারের ছেলে।

ধাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু জানান, সোহরাব ঢাকায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে তার জ্বর এবং সর্দি হওয়ায় বাসার মালিক তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। চার দিন আগে সে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর রোববার রাতে হঠাৎ করেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবরে তার চার ভাইয়ের মধ্যে বাড়িতে থাকা তিন ভাইসহ অন্যান্য প্রতিবেশী আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি ভাইদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম রাতেই মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যান।

রাতেই স্থানীয় মনির নামের এক যুবকের সহায়তায় কবর খোঁড়া হয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলামের সহায়তায় মৃতকে গোসল করান মনির।

জানাজা নামাজের ইমাম হন তৌহিদুল ইসলাম। মৃতের কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশী উপস্থিত না হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই জানাজা সম্পন্ন হয়।

সেখানে দাফনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে গঠন করে দেওয়া কমিটির দুজন থাকলেও তারা মরদেহের কাছেও যায়নি বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউই জানি না যে মারা যাওয়া ব্যক্তির করোনা ছিল কিনা। তারপরও তার স্বজনরা সবাই তাকে ফেলে গেছে। যারা ঘরে ছিল তারাও মরদেহ গোসল করাতে সাহায্য করেনি।

মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এইচ এম জহিরুল ইসলাম।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে নতুন করে আরও ২৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা হলো ৩৪৫ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে সাটুরিয়া উপজেলায় ১০ জন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সাত জন, সিংগাইর উপজেলায় পাঁচ জন এবং  ঘিওর ও শিবালয় উপজেলায় রয়েছেন তিন জন করে।

আজ সোমবার সকালে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুন নাহার বন্যা বলেন, ‘এ পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৪৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে তিন হাজার ৯০টির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এতে পজিটিভ পাওয়া গেছে ৩৪৫ জনের।

আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এবং ২১৮ জন নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। সুস্থ হয়েছেন ৯৯ জন এবং মারা গেছেন তিন জন। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন ১৫ জন।

নোয়াখালী

নোয়াখালীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এলাকা ভিত্তিক কঠোর লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনা করে জেলার বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলায় শনাক্তের হার বেশি হওয়ায় এই দুটি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে জেলা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন।

নোয়াখালীতে রেড জোন হচ্ছে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী শহর ও সদর উপজেলার নোয়াখালী পৌরসভা এলাকা মাইজদী শহর।

গতকাল রোববার করোনা প্রতিরোধে করনীয় এবং জেলা পরিস্থিতি নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলাকে ৯ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এ সময় বেগমগঞ্জ উপজেলা ও সদর উপজেলার কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাহির থেকে কেউ এই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এই এলাকায় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৯ মে পর্যন্ত নয়টি উপজেলায় করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৭৯ জন। অথচ ৩০ মে থেকে ৬ জুন, এই আট দিনে রোগীর সংখ্যা ৬২২ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার একজনে।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো. মোমিনুর রহমান জানান, রেড জোনকে ইয়েলো জোনে পরিণত করার লক্ষ্যে এবং করোনা সংক্রমণ রোধে এই লকডাউনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই এলাকায় প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৬ থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত মুদি দোকান, কাঁচা বাজার ও ঔষধের দোকান খোলা থাকবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় চলবে।

ফরিদপুর

ফরিদপুরে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন র‌্যাব সদস্যসহ নতুন করে আরও ২৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫০৭ জনে।

নতুন ২৮ জনের মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১০ জন, বোয়ালমারী উপজেলায় নয় জন, চরভদ্রাসন উপজেলায় চার জন, নগরকান্দা উপজেলায় তিন জন ও মধুখালী উপজেলায় দুজন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে আট জন নারী ও ২০ জন পুরুষ।

আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুরে কর্মরত র‌্যাব-৮ এর তিন জন সদস্য এবং ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মচারী রয়েছেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুর সদর, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, চরভদ্রাসন ও মধুখালীকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে যে ২৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, আক্রান্তদের আপাতত বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাদের ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

Comments

The Daily Star  | English
biman flyers

Biman does a 180 to buy Airbus planes

In January this year, Biman found that it would be making massive losses if it bought two Airbus A350 planes.

7h ago