পার্বত্য জেলার হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজ রোববার পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ১৭১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া, ৮৭ হাজার ৫২০ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা, গণপরিবহন বন্ধ করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। বাড়ানো হয়েছে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা।
Bandorban_Hospital.jpg
বান্দরবান সদর হাসপাতাল। ছবি: স্টার

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজ রোববার পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ১৭১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া, ৮৭ হাজার ৫২০ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা, গণপরিবহন বন্ধ করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। বাড়ানো হয়েছে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা।

তবে এখনো পিছিয়ে আছে পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার মোট জনসংখ্যা ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৭০ জন। এই তিন জেলায় ২৬২ জনের করোনা শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাঙ্গামাটিতে দুই জন ও বান্দরবানে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য তিন জেলার ১৫ লাখ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ৩৮৯টি। রাঙ্গামাটিতে ১৫৫টি, খাগড়াছড়িতে ১৪২টি ও বান্দরবানে আছে ৯২টি।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং শৈ প্রু মারমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দিন দিন বান্দরবানের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমাদের ন্যূনতম যে সক্ষমতা অক্সিজেন সিলিন্ডারও পর্যাপ্ত নেই। বারবার চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আমি এ ক্ষেত্রে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাস বলেন, ‘আমরা এপ্রিল মাসেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই শ অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা জানিয়েছিলাম। কিন্তু খুবই দুঃখজনক এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাইনি। পাহাড়ে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা জরুরি।’

রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে একটি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসতে গড়ে প্রায় সাত দিন সময় লেগে যাচ্ছে। কোন কোন সময় ১০ দিনও লাগছে।’

পার্বত্য তিন জেলার হাসপাতালগুলোর অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করতে হলে চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। চট্টগ্রাম শহরেই অক্সিজেনের সংকট চরম রূপ নিয়েছে। তিন জেলায় নেই করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা।

ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩০ শতাংশ রোগীর ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয়।’

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ে এখনই একটি করোনা চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতাল করা উচিত। সেখানে সিসিইউ, আইসিইউ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল থাকবে।

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বান্দরবানের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৌরভ দাস। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্যাম্পল দেওয়ার ১২ দিন পরে আমার রিপোর্ট আসে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আলাদা করার জন্য বান্দরবানে একটি করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন খুব জরুরি।’

বর্তমানে পার্বত্য তিন জেলা থেকে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘বেতন-ভাতাদি ছাড়া পাহাড়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা করে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়। পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে জেলা পরিষদের ন্যস্ত বিভাগগুলোর সক্ষমতার কথা বলা থাকলেও বাস্তবতা হলো, মন্ত্রণালয়ের সিধান্তের ওপর আমাদের চলতে হয়। যে কারণে আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন সদস্য ব্যক্তি উদ্যোগে ২০টি সিলিন্ডার দিয়েছেন। আমরা আরও ১০০ সিলিন্ডার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ে করোনা মোকাবিলায় পার্বত্য মন্ত্রণালয় অনেক কিছুই করেছে। অনেক কিছুই প্রক্রিয়াধীন। এখনো পাহাড়ে করোনা রোগী কম। আমরা আলাপ-আলোচনা করছি কীভাবে পাহাড়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো যায়।’

Comments

The Daily Star  | English

Lifts at public hospitals: Where Horror Abounds

Shipon Mia (not his real name) fears for his life throughout the hours he works as a liftman at a building of Sir Salimullah Medical College, commonly known as Mitford hospital, in the capital.

8h ago