বাগানে বাম্পার ফলন, দাম নেই বাজারে

গাজীপুরে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু, করোনা পরিস্থিতিতে বাগান মালিকরা বাজারে উপযুক্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। যেসব ব্যবসায়ী কাঁঠাল বাগান কিনেছেন তারাও দেশের অন্যান্য এলাকায় কাঁঠাল পাঠাতে পারছেন না।
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় কাঁঠালের আড়তে স্তুপ করছেন বেপারীরা। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু, করোনা পরিস্থিতিতে বাগান মালিকরা বাজারে উপযুক্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। যেসব ব্যবসায়ী কাঁঠাল বাগান কিনেছেন তারাও দেশের অন্যান্য এলাকায় কাঁঠাল পাঠাতে পারছেন না।

কাঁঠালের জন্য গাজীপুরের খ্যাতি দীর্ঘদিনের। উৎপাদন, ফলন, বিক্রি সবদিক থেকেই জাতীয় এ ফলটির জন্য গাজীপুরের আলাদা পরিচিতি আছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এখানে বেপারীরা এসেছেন। কিন্তু, চলতি মৌসুমে কাঁঠাল কেনাবেচার পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা গ্রামের কাঁঠাল বেপারী মজিবুর রহমান বলেন, ‘১৫-১৬ বছর যাবত কাঁঠালের ব্যবসা করছি। এবার নয় লাখ টাকা দিয়ে বানিয়ারচালা এলাকায় একটি কাঁঠাল বাগান কিনেছি। প্রতি বছর নোয়াখালীতে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক কাঁঠাল পাঠাই। এ বছর করোনার কারণে অনেক জেলা ও অংশ বিশেষ এলাকা লকডাউন থাকায় কাঁঠালবাহী পরিবহন পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে, চলতি বছরে ব্যবসায়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। এ ছাড়াও, আঞ্চলিক বাজারে খোলামেলা কাঁঠাল বিক্রি করা যাচ্ছে না। করোনার কারণে মানুষ ভয়ে পাকা কাঁঠাল কিনতে চায় না। তাই এবার ব্যবসায়ে অর্ধেকের বেশি ক্ষতি হবে।’

বানিয়ারচালা এলাকার চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে কাঁঠালে লাভ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার প্রতি বছর ৮-১০টা করে কাঁঠাল গাছ মড়কে মারা যাচ্ছে। এ থেকে রক্ষা পেতে কোনো ওষুধ বা উপায় পাওয়া যাচ্ছে না।’

একই এলাকার বাগান মালিক আইয়ুবুর রহমান জানান, এ বছর ফলন ভাল হলেও করোনার কারণে বেপারী আসছে না। ফলে, দেশের অন্য এলাকায় কাঁঠাল পাঠানো যাচ্ছে না।

অপর চাষি হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘করোনার কারণে কাঁঠালের দাম কম। আমার  বাগানে শতাধিক কাঁঠাল গাছ আছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু, করোনার কারণে কাঁঠালের দাম কম। বেপারী না আসায় বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠাল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই গাছের কাঁঠাল গাছেই পেকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আছি।’

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজারের ব্যবসায়ী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও জৈনাবাজারে কাঁঠালের হাট বসানো হয়েছে। শ্রীপুর থেকে পুরো দেশে কাঁঠাল সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। এ কারণে মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীরা এসে গাছ হিসেবে কাঁঠাল কিনেও নিয়েছেন। তবে, করোনার কারণে বেপারীর আগমন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু, কাঁঠালের দাম কমেনি।’

জৈনাবাজারের ইজারাদার শাহীন আলম জানান, গত পাঁচ জুন থেকে কাঁঠাল বেচাকেনা শুরু হয়েছে। দেশের মধ্যে গাজীপুরের কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা আছে।

গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুব আলম বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গাজীপুরে কাঁঠালের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ৯ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হচ্ছে। গত বছর যা ছিল ৯ হাজার ৩৬৬ হেক্টর। আর উৎপাদিত কাঁঠালের পরিমাণ ২ লাখ ৪৭ হাজার ২১০ মেট্রন টন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি কৃষক কাঁঠালের উপযুক্ত দাম পাবে। যেসব কৃষক উপযুক্ত দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন না তারা স্থানীয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ

কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে অন্যত্র কাঁঠাল সরবরাহের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পাবেন।’

Comments

The Daily Star  | English

NBR suspends Abdul Monem Group's import, export

It also instructs banks to freeze the Group's bank accounts

1h ago