চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ ১০ দফা দাবি এফডিএসআরের

কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবলিটি (এফডিএসআর)।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডা. আব্দুন নূর তুষার। ছবি: সংগৃহীত

কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবলিটি (এফডিএসআর)।

এছাড়াও হটস্পট শহর-জেলায় তিন রঙের জোনে নয়, বরং পুরো শহর জেলা চার সপ্তাহের সম্পূর্ণ লকডাউনের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার বিকেল ৪টায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। করোনা মহামারী মোকাবেলায় পরামর্শ ও কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এফডিএসআর এর চেয়ারম্যান ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে। এর সাথে কোন ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব বা ব্যবসাপরিচালনাকে সংযুক্ত না করে, কেবল স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।

এতে বলা হয়, ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন এখন সময়ের দাবি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যেসব চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রণোদনার অর্থ দ্রুত প্রদান করতে সরকারকে অনুরোধ করছি। এক্ষেত্রে বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্যও প্রণোদনার দাবি জানানো হয়।

সব চিকিৎসকের ন্যায্য বেতনভাতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বেতন ও বোনাস কর্তন, অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কম বেতন দিয়ে অতিরিক্ত শ্রমঘণ্টা কাজ করানো বন্ধ করতে হবে, জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিতে হবে। দেশব্যাপী চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সম্মুখযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী’ বা পিপিইর দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলে, পিপিইর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে তা সহজলভ্য করতে হবে ও মুনাফালোভীদের অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অতিদ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরেও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছে এফডিএসআর। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে তাদের সুপারিশ সময় বেঁধে দিয়ে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সবধরনের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনা মোকাবিলায় সফল দেশগুলোর উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। একই শহরের ভেতরে তিন রঙের জোন না করে বরং পুরো শহর, (জেলা) যেমন: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ হটস্পট শহর/জেলাগুলোকে কঠোরভাবে চার সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউন পালন করতে হবে। এসময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র এবং চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যতটা সম্ভব টেস্ট করতে হবে। চার সপ্তাহের শেষদিকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লকডাউনের পরবর্তী সম্প্রসারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা মোকাবিলায় প্রতিটা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের আদেশ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যখাতের বিরাজমান অব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরী করছে। স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গণমাধ্যমে স্ববিরোধী বক্তব্য মানুষকে হতাশ করে এবং এ কারণেই জনগণ লকডাউনসহ নানা বিষয় অমান্য করে। কারণ তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

এফডিএসআরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানেই হস্তক্ষেপ করেন, সেখানে অব্যবস্থাপনা দূর হয়। অথচ তাকে নানা বিষয়ে সম্যকভাবে অবহিত করা হয় না। আমরা দেখেছি তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে মানহীন মাস্ক, ডাক্তারদের আবাসন, দরিদ্রদের সরাসরি অর্থবিতরণসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের উচ্চপদগুলিতে কিছু পরিবর্তনও এনেছেন।

তিনি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী পুরো স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক বিশ্বের মতো করে ঢেলে সাজাবেন। এই কাজে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবাখাতে জড়িত সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন, এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম-মহাসচিব ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরীসহ অনেকে।

Comments

The Daily Star  | English

1.73cr people still out of power

The Ministry of Power, Energy and Mineral Resources today said around 1.73 crore customers across the country are still out of power following the impact of cyclone Remal

23m ago