প্রবাস

ইউরোপের ভাষা পরিচিতি

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা স্থায়ী অভিবাসন কিংবা চলাফেরার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। ইউরোপের প্রত্যেকটি ভাষাই বলতে গেলে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ কারণে প্রত্যেকে চায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা থেকে আরম্ভ করে প্রাত্যহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের ভাষা ব্যবহার করতে।
ইংরেজির পর পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা ফ্রেঞ্চ। ফ্রান্সের অধিবাসীদের ব্যবহৃত ফ্রেঞ্চ ভাষাটি ফ্রান্স ছাড়াও আফ্রিকার কিছু দেশে ব্যবহৃত হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা স্থায়ী অভিবাসন কিংবা চলাফেরার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। ইউরোপের প্রত্যেকটি ভাষাই বলতে গেলে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ কারণে প্রত্যেকে চায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা থেকে আরম্ভ করে প্রাত্যহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের ভাষা ব্যবহার করতে।

নিঃসন্দেহে ইংরেজি বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা এবং পৃথিবীতে প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে প্রধান আন্তর্জাতিক ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে ইংরেজি। আজকের যুগে টিকে থাকতে হলে ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময় পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে গ্রেট ব্রিটেন এবং ফ্রান্স শক্তিশালী দুই পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। সে সময় পর্যন্ত কোনো পরাশক্তি নিরূপণ করা হতো তার অধীনে থাকা উপনিবেশগুলোর ওপর ভিত্তি করে। যার অধীনে যতো বেশি উপনিবেশ থাকতো সে ততো বেশি প্রতিপত্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। এ দিক থেকে বলতে গেলে গ্রেট ব্রিটেন প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স থেকে অনেক এগিয়ে ছিল এবং সে সময় প্রচলিত ছিল- ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনও সূর্য অস্ত যায় না।’ পুরো পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি অংশ তাদের উপনিবেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মতো দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলই ব্রিটিশ সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রেট ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ভাষা ইংরেজি। তাই ব্রিটিশদের হাত ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ইংরেজি ভাষার প্রচলন হয় এবং ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়া ডি ফ্রাঙ্কা বা সার্বজনীন ভাষার রূপ পায়।

আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে পরাক্রমশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা, উন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো, উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, সামরিক শক্তি থেকে আরম্ভ করে প্রায় সকল ক্ষেত্রে এ দেশটির নাম উচ্চারিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে গ্রেট ব্রিটেনের প্রভাব কমে আসলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদৌলতে সার্বজনীন ভাষা হিসেবে ইংরেজির অবস্থান আরও শক্ত হয়। আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তির কারণে এ ভাষাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাষা ইংরেজি। যদিও বলা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ইউরোপ থেকে আসা শরণার্থীদের হাত ধরে। কিন্তু দীর্ঘ দিন দেশটির বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য জুড়ে গ্রেট ব্রিটেনের শাসন প্রতিষ্ঠা থাকার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ইংরেজি প্রধান ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়।

ইংল্যান্ড পরবর্তীতে আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডেও তাদের প্রভাব বিস্তার শুরু করলে এ সকল জায়গা থেকে তাদের নিজস্ব ভাষার ব্যবহার অনেকটা কমে যায় এবং এক সময় এ সকল অঞ্চলেও প্রধান ভাষা হিসেবে ইংরেজি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস,  স্কটল্যান্ড এবং এর আশেপাশের কিছু দ্বীপের সমন্বয়ে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ গঠিত হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের দিকে আয়ারল্যান্ড থেকে একটা অংশ গণভোটের মাধ্যমে আলাদা হয়ে ‘রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড’ নামে পৃথক রাষ্ট্র গঠন করে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের একটি অংশ ব্রিটেনের সঙ্গে থেকে যায়। যা ‘নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড’ নামে পরিচিত। এছাড়াও মাল্টা, সাইপ্রাস, জিব্রাল্টার এক সময় গ্রেট ব্রিটেনের উপনিবেশ ছিল। ফলে এসব দেশে তাদের নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার প্রচলন ঘটেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব দেশে এখনও গ্রেট ব্রিটেনের  মতো রাস্তার বাম দিকে গাড়ি চালানো হয়।

ইংরেজি মূলত একটি জার্মানিক ভাষা। তবে বিভিন্ন সময়ে ইংরেজিতে ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত বিভিন্ন ভাষা, বিশেষ করে ফরাসি এবং মাঝে মধ্যে গ্রীক ভাষার, প্রভাব দেখা যায়। এর পেছনে বিভিন্ন ঐতিহাসিক মতামত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে ক্যাথলিক ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যখন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের পদচারণ বাড়তে থাকে গ্রেট ব্রিটেনে সে সময় তাদের হাত ধরে ল্যাটিন ভাষার একটা প্রভাব ইংরেজিতে চলে আসে। অনেকে আবার বলেন যে ফ্রান্স থেকে নর্মানরা যখন প্রবল হারে ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে তখন তাদের হাত ধরেই ইংরেজিতে ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর একটি প্রভাব চলে আসে। অনেকে আবার ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো গ্রেট ব্রিটেনে রোমান সাম্রাজ্যের প্রভাবকেও ইংরেজি ভাষায় ল্যাটিন ভাষার প্রভাবের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে চান। তাই জার্মানিক ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজিতে এখন পুরোপুরি জার্মানিক ছাপ আর নেই। ল্যাটিন এবং ক্ষেত্র বিশেষে গ্রীক ভাষার একটা বড় প্রভাব আজকের দিনের ইংরেজিতে প্রবলভাবে লক্ষ্য করা যায়। অনেকে অবশ্য দাবি করেন, ইংরেজি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়ে গঠিত ভাষা। যাকে বলা হয় ‘ক্রেওল ল্যাঙ্গুয়েজ’।

জার্মানি, অস্ট্রিয়া, লিখটেনস্টাইন এবং সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের একটা অংশের মানুষের প্রধান ভাষা জার্মান। যা স্থানীয়ভাবে ‘ডয়েচ’ নামে পরিচিত। জার্মান জার্মানিক ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। জার্মান ছাড়াও ফ্যারোইজ (ডেনমার্কের অধীনে থাকা ফ্যারো আইল্যান্ডের মানুষের প্রধান ভাষা), সুইডিশ, ডাচ, লুক্সেমবার্গিশ, নরওয়েজিয়ান, ড্যানিশ, আইসল্যান্ডিক ভাষাও জার্মানিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। নেদারল্যান্ডসের অধিবাসীদের ব্যবহৃত ভাষার নাম ডাচ। অনেকের মতে ডাচ এবং ফ্রিজিয়ান হচ্ছে ইংরেজি এবং জার্মানের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী ভাষা। ফ্রিজিয়ান একটি অধুনালুপ্ত ভাষা। উত্তর মহাসাগর তীরবর্তী জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের কিছু অংশে এ ভাষার প্রচলন ছিল। নেদারল্যান্ডস ছাড়াও বেলজিয়ামের একটি অংশের (মূলত ফ্ল্যানডার্স নামক যে অংশটি রয়েছে সেখানে) মানুষ ডাচ ভাষায় কথা বলে থাকেন। তবে বেলজিয়ামে ডাচকে ফ্লেমিশ নামে ডাকা হয় এবং ফ্লেমিশ ভাষায় ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রভাব রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে ইংরেজি, জার্মান, ফ্রিজিয়ান ডাচ এবং লুক্সেমবার্গিশ ‘পশ্চিমীয় জার্মানিক ভাষা’ হিসেবে পরিচিত। সুইডিশ, ড্যানিশ, ফ্যারোইজ, আইসল্যান্ডিক, নরওয়েজিয়ান ‘উত্তর জার্মানিক ভাষা’ হিসেবে পরিচিত। পূর্ব জার্মানিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত কোনো ভাষা এখন আর বেঁচে নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কিছু স্থানে আফ্রিকানস নামে একটি ভাষা প্রচলিত রয়েছে। আফ্রিকানসও এক ধরণের জার্মানিক ল্যাঙ্গুয়েজ এবং আফ্রিকানসের সঙ্গে ডাচ ভাষার ব্যাপক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক ভাষাতত্ত্ববিদের মতো উপনিবেশ যুগে নেদারল্যান্ডস থেকে আফ্রিকার দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে যারা ‘বোয়ার’ নামে পরিচিত নেদারল্যান্ডস থেকে পাড়ি জমানো কৃষকদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ডাচ ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটে। পরবর্তীতে আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষার সঙ্গে ডাচ ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয় এ আফ্রিকানস ভাষা।

ইংরেজির পর পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা ফ্রেঞ্চ। ফ্রান্সের অধিবাসীদের ব্যবহৃত ফ্রেঞ্চ ভাষাটি ফ্রান্স ছাড়াও আফ্রিকার কিছু দেশে ব্যবহৃত হয়। বেলজিয়ামের ওয়ালোনিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গের  একটি বড় অংশ এবং কানাডার কুইবেক নামক অঙ্গরাজ্যের মানুষ ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলে থাকেন। ইংরেজির মতো ফ্রেঞ্চও কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা। এছাড়াও উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া এমনকি এশিয়ার কিছু দেশেও ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রচলন আছে। গ্রেট ব্রিটেনের মতো পৃথিবীর অনেক দেশে তাদের উপনিবেশ ছিল। এমনকি ভারতীয় উপমহাদেশের পন্ডিচেরিতেও ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, কাতালান (স্পেনের অন্তর্গত কাতালোনিয়া নামক অংশের মানুষের ভাষা), পর্তুগিজ- এ ছয়টি ভাষা হচ্ছে ল্যাটিন ল্যাঙ্গুয়েজ ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এদেরকে ল্যাটিন ভাষা বলা হয়। ইতালির অধিবাসীদের ব্যবহৃত ভাষার নাম ইতালিয়ান এবং স্পেনের অধিবাসীদের ব্যবহৃত ভাষার নাম স্প্যানিশ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশেও স্প্যানিশ ভাষার প্রচলন রয়েছে। এছাড়াও মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকাসহ দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অনেক দেশের মানুষের প্রধান ভাষা স্প্যানিশ বা এস্পানিওল। এ সকল দেশ এক সময় স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পর্তুগালের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ভাষার নাম পর্তুগিজ। পর্তুগাল ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, এশিয়ার পূর্ব তিমুর ও ম্যাকাও উপদ্বীপ, আফ্রিকার কেপ ভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, গিনি-বিসাউ, নিরক্ষীয় গিনি এবং সাও টোমে পর্তুগিজ ভাষা অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এ সকল দেশ পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল। শুনতে আশ্চর্য মনে হলেও ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন এবং ইতালির থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি দেশ রোমানিয়ার সাধারণ মানুষের রোমানিয়ান ভাষাও একটি ল্যাটিন ভাষা। ভালগার ল্যাটিন অর্থাৎ ল্যাটিন ভাষা আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হয়ে এ সকল ভাষার জন্ম হয়েছে। তাই এ সকল ভাষাকে রোমান্স ভাষাও বলা হয়। কেননা এগুলো শ্রুতিমধুর হয়ে থাকে। ফ্রান্স, পর্তুগাল, স্পেন, ইতালির থেকে অনেক দূরে অবস্থিত রোমানিয়াতে কীভাবে ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত কোনো ভাষার প্রচলন হলো তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করেন যে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের (যা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসেবেও পরিচিত) পতন ঘটলে সুউচ্চ কার্পেথিয়ান পর্বতমালার কারণে এ অঞ্চলে বসবাস করা বাইজেন্টাইন সম্রাটের সেনা সদস্যদের অন্যত্র চলে যাওয়া সম্ভব হয় নি। তাদের মাধ্যমে দেশটিতে ল্যাটিন ভাষার প্রচলন ঘটেছে বলে অনেকে দাবি করে থাকেন। যদিও এ মতামতের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি। কারণ, রোমানিয়ার বেশির ভাগ মানুষ অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটিতে বিশ্বাস করে, ক্যাথলিক খ্রিস্টানিটিতে নয়। তবে চারিদিকে স্লাভিক ভাষাগোষ্ঠীর দেশ দ্বারা ঘিরে থাকায় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীতে দেশটির শাসন ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবের কারণে রোমানিয়ার ভাষায় স্লাভিক ভাষার একটা প্রভাব প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের মতে অন্যান্য যে কোনো ভাষার তুলনায় ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর যে কোনো ভাষা অনেক সহজে শেখা যায়। ফ্রেঞ্চ ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্যান্য ভাষা থেকে একটু আলাদা। কারণ, ফ্রেঞ্চ ভাষার ক্ষেত্রে দেখা যায় উচ্চারণ এবং লিখিত রূপ অনেক সময় এক হয় না। ‘Fois Gras’ শব্দটির উচ্চারণ হয় ‘ফোয়াগ্রা’। তবে ল্যাটিন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হচ্ছে শুধুমাত্র শুনেই আপনি এ সকল ভাষার কিছুটা শিখে ফেলতে পারবেন।

গ্রীসের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ভাষার নাম গ্রীক। গ্রীক এ পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। এমনকি যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও তিন হাজার বছর আগেও এ ভাষার নিদর্শনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, আর্কিমিডিস, ইউক্লিড, হোমার, পিথাগোরাস, টলেমি, অ্যারিস্টার্কাসের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের সঙ্গে আমরা প্রাচীন গ্রীস সম্পর্কেও একটা ধারণা পাই। সে সময় দেশটি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার জন্য একটি আদর্শ স্থান। গ্রীকদের ভাষার মতো তাদের ব্যবহৃত বর্ণমালাগুলোও অনেক পুরনো। আধুনিক কালের পাশ্চাত্য সভ্যতার ভিত্তিভূমি ধরা হয় গ্রীসকে। গ্রীসের বাইরে সাইপ্রাসের একটি অংশের মানুষও গ্রীক ভাষায় কথা বলে। কারণ, গ্রীক বীর আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট এক সময় সাইপ্রাসকে গ্রীক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তা রোমান, অ্যাসিরিয়ান, অটোমানসহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সম্রাজ্যের অধীনে থাকলেও সেখানে গ্রীক প্রভাব রয়েই যায়।

রাশিয়া, চেক রিপাবলিক, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, বেলারুশ, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো, মেসিডোনিয়া, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়ার বেশির ভাগ মানুষই স্লাভিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত এবং এ কারণে তাদের মাঝে প্রচলিত ভাষাও স্লাভিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ইউক্রেনিয়ান, রাশিয়ান এবং বেলারুশিয়ান এ তিনটি ভাষাকে ইস্টার্ন স্লাভিক ল্যাঙ্গুয়েজ বলে। পলিস, চেক ও স্লোভাক ভাষাকে ওয়েস্টার্ন স্লাভিক ল্যাঙ্গুয়েজ বলে এবং স্লোভেনিয়ান, বুলগেরিয়ান, মেসিডোনিয়ান, বসনিয়ান, সার্বিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান ও মন্টিনিগ্রিন ভাষাকে বলে সাউদার্ন স্লাভিক ভাষা। আমাদের জন্য স্লাভিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত যে কোনো ভাষাই আয়ত্ত করা কঠিনই বলতে হবে। অনেকে এখানে নর্দার্ন স্লাভিক ভাষায় কথা বলতে পারেন। আসলেই নর্দার্ন স্লাভিক ভাষা বলে কিছু ছিল কিনা তা এখনো ভাষাবিদরা বের করতে পারেননি।

হাঙ্গেরির সাধারণ মানুষের ভাষা হাঙ্গেরিয়ান, ফিনল্যান্ডের সাধারণ মানুষের ভাষা ফিনিশ এবং এস্তোনিয়ার সাধারণ মানুষের ভাষা এস্তোনিয়ান। এ তিনটি ভাষাই ফিন-ইউরালিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। হাঙ্গেরি ছাড়াও রোমানিয়ার ট্রান্সসিলভানিয়াসহ স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং অস্ট্রিয়াতে একটি বড় অংশের মানুষের ভাষা হাঙ্গেরিয়ান। ফিনিশ এবং এস্তোনিয়ান এ দুটি ভাষা কাছাকাছি হলেও হাঙ্গেরিয়ান এদের থেকে আলাদা। ইউরোপের  অন্য কোনো ভাষার সঙ্গে আলবেনিয়ান কিংবা হাঙ্গেরিয়ান ভাষার মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হাঙ্গেরিয়ান, ফিনিশ এবং এস্তোনিয়ান এ তিনটি ভাষাও যে কোনো মানুষের পক্ষে আয়ত্তে আনা অনেক কঠিন এবং অনেকের মতে চাইনিজ (মান্দারিন) এর পর পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন তিনটি ভাষা হচ্ছে হাঙ্গেরিয়ান, ফিনিশ এবং এস্তোনিয়ান। ফিন-ইউরালিক ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য দাবি করা হলেও হাঙ্গেরিয়ানদের ভাষায় টার্কিশ, উজবেক বা কাজাখদের ভাষার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে হাঙ্গেরিয়ান ভাষার ব্যাকরণের সঙ্গে  টার্কিশ, উজবেক বা কাজাখদের ব্যবহৃত ভাষার ব্যাকরণের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায় বলে অনেকে দাবি করেন। অনেকে বলে থাকেন যে হাঙ্গেরিয়ানদের পূর্ব পুরুষ এসেছে ‘হুন’ নামক একটি জাতিগোষ্ঠী থেকে। ‘হুন’ নামক মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করতেন উজবেকিস্তান কিংবা কাজাখিস্তানের কোনো এক পাহাড়ি অঞ্চলে। যারা জাতি হিসেবে খুবই দুর্ধর্ষ ও অত্যাচারী ছিল বলে ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা পাওয়া যায়। হুনদের ভাষা ছিল আদি টার্কিশ ভাষার মতো এবং এ কারণে এখনও উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান বা টার্কিশ ভাষার সঙ্গে হাঙ্গেরিয়ানদের ভাষার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় ব্যবহৃত ব্যাকরণের অনেক অংশ পুরোপুরি এ সকল ভাষায় ব্যবহৃত ব্যাকরণের সঙ্গে মিলে যায়। হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘আটিলা’। যিনি কার্পেথিয়ান ভূখণ্ডে সর্বপ্রথম পা রেখেছেন বলে হাঙ্গেরিয়ানরা  দাবি করে থাকেন। আটিলা এখনও উজবেকিস্তান, কাজাখিস্তান এমনকি তুরস্কেও অনেক মানুষের একটি জনপ্রিয় নাম।

আলবেনিয়ার সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ভাষার নাম আলবেনিয়ান। আলবেনিয়া ছাড়াও কসোভো এবং মেসিডোনিয়ার একটি বড় অংশের মানুষের ভাষা আলবেনিয়ান। আলবেনিয়ান ইউরোপের অন্যান্য ভাষা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আলবেনিয়ান জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের অতীত সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা না যাওয়ায় তাদের ভাষা নিয়েও খুব বেশি মন্তব্য করা যায় না। তবে অনেক ঐতিহাসিক ধারণা করেন, আলবেনিয়ানরা লুপ্তপ্রায় ইলিরিয় জাতিগোষ্ঠীর বংশধর। ইলিরিয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিয়েও খুব বেশি জানা সম্ভব হয়নি এখন পর্যন্ত। ১৯০৮ সালে আলবেনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় প্রথম এ ভাষাকে লিখিত রূপ দেওয়া হয় ল্যাটিন হরফের অনুকরণে।

লাতভিয়ার সাধারণ মানুষের ভাষা লাতভিয়ান এবং লিথুয়ানিয়ার সাধারণ মানুষের ভাষা লিথুয়ানিয়ান। লাতভিয়ান এবং লিথুয়ানিয়ান এ দুইটি ভাষা বাল্টিক ভাষা নামে পরিচিত। আজকের দিনে এ দুটি ভাষাই বাল্টিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত শেষ দুইটি জীবিত ভাষা। অনেক ভাষাবিদের মতে লাতভিয়ান এবং লিথুয়ানিয়ান ভাষা এ পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেকের মতে এ দুটি ভাষা নাকি সংস্কৃত ভাষা থেকেও পুরনো।

মাল্টার মানুষের সাধারণ ভাষা মাল্টিজ। যা মূলত একটি সেম্যাটিক ভাষা। যেখানে ল্যাটিন, বিশেষ করে ইতালির সিসিলি দ্বীপের অন্তর্গত মানুষের ভাষা এবং আরবি ভাষার প্রভাব রয়েছে।

তুরস্কের সাধারণ মানুষের ভাষা টার্কিশ বা তুর্কি। টার্কিশ ভাষায় আরবি এবং ফারসি ভাষার প্রভাব রয়েছে। যদিও টার্কিশ ভাষাকে তার্কিক ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য তালিকায় ফেলা হয়। তুরস্কের আশেপাশে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ, আজারবাইজান, কাজাখিস্তান, কিরঘিস্তান, তাজিকিস্তান, তার্কিক ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহার করে। এমনকি চীনের উইঘুর মুসলিমরাও যে ভাষায় কথা বলেন সেটিও তার্কিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি ভাষা। এক সময় এ সকল ভাষা আরবি কিংবা ফারসি বর্ণমালায় লেখা হতো। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে আসার পর আজারবাইজান, কিরঘিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তানের মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণমালাকে লেখার জন্য এবং নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলে এদের অনেক দেশ পরে পশ্চিমা দেশগুলোর অনুকরণে ল্যাটিন বর্ণমালার ব্যবহার শুরু করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মোস্তফা কামাল আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আরবি কিংবা ফারসি হরফের পরিবর্তে ল্যাটিন হরফে টার্কিশ ভাষা লেখার প্রচলন করেন। এ সময় তিনি ফ্রেঞ্চ এবং ইংরেজিসহ ইউরোপের অনেক ভাষা থেকে বহু শব্দ টার্কিশ ভাষায় প্রবেশ ঘটান জাতিগতভাবে আরবদের থেকে টার্কিশদের দূরত্ব বাড়ানোর জন্য।

গোটা ইউরোপ মহাদেশে একটা সময় রোমান শাসকদের প্রভাব থাকার কারণে পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশ ছাড়া ইউরোপের প্রায় সব দেশে ক্যাথলিক খ্রিস্টানিটির প্রভাব বাড়তে থাকে। এ কারণে ইউরোপের প্রায় সকল ভাষা ধীরে ধীরে ল্যাটিন বর্ণমালায় লেখা শুরু হয়। রোমানরা যখন গোটা ইউরোপ মহাদেশে পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল তখন ইউরোপ মহাদেশের প্রায় সকল দেশে রোমান সাম্রাজ্যের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আইসল্যান্ডের ভাষা এখনও আদি জার্মানিক স্ক্রিপ্ট ধরে রেখেছে। কারণ, আইসল্যান্ড একটি দ্বীপ রাষ্ট্র এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ভৌগোলিকভাবে দেশটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তাই ড্যানিশরা ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর শাসকরা প্রত্যক্ষভাবে এ দ্বীপটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। অর্থোডক্স ধর্মযাজক সিরিল এবং মেথোডিয়াস গ্রীক বর্ণমালায় অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন এক ধরণের স্ক্রিপ্টের প্রবর্তন করেন। যা ‘সিরিলিয় স্ক্রিপ্ট’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রীস ছিল এক সময় অর্থোডক্স খ্রিস্টানিটিতে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। গ্রীকদের মতো রাশিয়া, বুলগেরিয়া, মেসিডোনিয়া, মন্টিনিগ্রো, ইউক্রেন, বেলারুশ, সার্বিয়ার বেশির ভাগ মানুষ অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তারা তাদের ভাষাকে লিপিবদ্ধ করতে এ সিরিলিক স্ক্রিপ্টের ব্যবহার করতে শুরু করে। রোমানিয়াতেও এক সময় সিরিলিয় স্ক্রিপ্টের প্রচলন ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে তারা ল্যাটিন বর্ণমালায় তাদের ভাষাকে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করে। সার্বিয়াতে  ল্যাটিন এবং সিরিলিক এ দুধরণের বর্ণমালার প্রচলন থাকলেও সাধারণত অফিস-আদালতে লেখার কাজে সিরিলিয় বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আবার জার্মান কিংবা ইতালিয়ান ভাষায় অসংখ্য ডায়ালেক্ট বা উপভাষা দেখা যায়। জার্মানির মূল ভূখণ্ডে যারা বসবাস করেন তাদের পক্ষে অস্ট্রিয়ার অধিবাসীদের ব্যবহার করা জার্মান বোঝা সম্ভব হলেও সুইজারল্যান্ড কিংবা লিখটেনস্টাইনে ব্যবহৃত জার্মান বুঝতে পারাটা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি জার্মানির বাভারিয়াতে যে ধরণের জার্মান প্রচলিত, হামবুর্গ বা বার্লিনে ব্যবহৃত জার্মান তার চেয়ে আলাদা। আবার  সুইজারল্যান্ডের জুরিখে যে ধরণের জার্মান প্রচলিত, বার্ন বা বাসেলের সাধারণ মানুষের জার্মান বলার ধরণ তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। একইভাবে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে যারা বসবাস করেন তারা যে ধাঁচের জার্মান বলে থাকেন ইন্সব্রুক বা সালজবুর্গে গেলে অনেকে সেখানকার মানুষের জার্মান বুঝবেন না। অনুরূপভাবে ইতালির নাপোলি বা সিসিলিতে মানুষ যে ধরণের ইতালিয়ান ব্যবহার করে থাকেন, গোরিজিয়া, রোম বা মিলানের মানুষ তা বুঝবেন না। ইতালিতে যারা বসবাস করে থাকেন তাদের অনেকে প্রায়শই বলে থাকেন যে তাদের বাড়ি থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে গেলেই অনেক সময় অনেকের ভাষা বোঝা কঠিন হয়ে যায়। একই ভাষায় এতো বিচিত্র ভিন্নতা! এর কারণ হচ্ছে ইতালি বা জার্মানি এক সময় আজকের দিনের মতো এককভাবে এরকম বিশাল আয়তনের রাষ্ট্র ছিল না। বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। পরবর্তীতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে ইতালি একত্রিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ইউনেস্কোর জরিপ তালিকায় ইতালিয়ান কিংবা জার্মান ভাষার অনেক ডায়ালেক্ট বা উপভাষা আলাদা ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। ইতালিয়ান এবং জার্মান এ দুটি ভাষাকে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যসম্পন্ন অসংখ্য উপভাষায় সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবেও অনেক ভাষাতাত্ত্বিক বলে থাকেন।

 

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া

Comments