বঙ্গবন্ধুর ৩টি বইয়ের অনুবাদেই তার মানসকে ধরতে চেয়েছি: অধ্যাপক ফকরুল আলম

অধ্যাপক ফকরুল আলম শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে একজন প্রথিতযশা অনুবাদক। বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি অনুবাদ করে শুধু খ্যাতিই অর্জন করেননি, আমাদের ইতিহাস ও সংগ্রামকে পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। এসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই অধ্যাপক মুখোমুখি হয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের।
অধ্যাপক ফকরুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক ফকরুল আলম শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে একজন প্রথিতযশা অনুবাদক। বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুটি অনুবাদ করে শুধু খ্যাতিই অর্জন করেননি, আমাদের ইতিহাস ও সংগ্রামকে পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। এসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই অধ্যাপক মুখোমুখি হয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের।

আপনি- বিশেষ করে সাহিত্যের মানুষ মীর মশাররফ, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের লেখা অনুবাদ করে খ্যাতিমান। এই প্রথম একজন রাজনীতিকের আত্মজীবনীর অনুবাদে আগ্রহ বা শুরুটা কীভাবে হলো?

আসলে আগ্রহটা কোনো আয়োজন করে হয়নি। তবে এ ব্যাপারটা আমার জন্য আনন্দের বিষয় ছিল। অনুবাদের প্রস্তাবটি আসে আমার বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক (বর্তমানে ইউজিসির চেয়ারম্যান) কাজী শহীদুল্লাহর মাধ্যমে। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয় ২০০৫ সালের শেষ দিকে। আলাপ-আলোচনা হয়। তখন তিনি বিরাধীদলের নেত্রী, সুধাসদনে থাকেন। সেখানেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও কম্পোজের কাজ হয়। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও যুক্ত ছিলেন শামসুজ্জামান খান (বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি) ভাই ও বেবী মওদুদ আপা। তবে অনুবাদ করার পর তারা আবার বাংলার সঙ্গে যত্নসহকার মিলিয়ে দেখতেন। সবমিলিয়ে পুরো কাজটিতে বেশ আনন্দ পেয়েছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আপনার কোনো স্মৃতি আছে? তা কি আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছে কোনো ভাবে?

শেখ কামাল আমার বন্ধু ও সহপাঠী ছিল। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে কামালই আমাদের কয়েকজনকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর আমাদের পারিবারিকভাবে ঘরের মধ্যে আলোচনা সবসময় ছিল। তাছাড়া শেখ সাহেব, উনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ছয় দফা আমার মানসে একটা প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব বিষয় অনুবাদ করতে অনুপ্রাণিত করেছে তা সরাসরি বলা যায় না।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সাধারণ কোনো বই না। অসাধারণ বইটি অনুবাদে আপনার কী ধরনের অনুভূতি হয়েছে। এর মধ্যে কি কেবল একজন রাজনীতিবিদকে পেয়েছেন, না তার থেকে বেশি কিছু?

প্রথম কথা হচ্ছে বই একবারে অনুবাদ করিনি। তারা বাংলা পাণ্ডুলিপিটি থেকে কম্পোজ করে প্রিন্ট দিয়ে ৩০ পাতা করে আমাকে পাঠাতেন। সেগুলো অনুবাদ হলে পরবর্তী কিস্তি। এইভাবে কাজ হয়েছে। এর প্রতিটি পাতায় মানস বঙ্গবন্ধুকে পেয়েছি। যে মানুষটি গল্প শুনতে এবং বলতে ভালোবাসেন। এ ব্যাপারটা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রায় দেখা যায় বজ্রকন্ঠের বঙ্গবন্ধু বন্ধুসুলভ সবার সঙ্গে মিশতে পারতেন। জনতার সুখ-দুঃখ-আশা বুঝতে পারেন। একজন রাজনীতিবিদের বাইরেও অসামান্য ব্যক্তিত্ব, একজন পুত্র, একজন স্বামী, একজন পিতা এবং মনোগ্রাহী কথক, মুক্তমনের মানুষ হিসেবে দেখতে পারি। আর এসব আমার অনুবাদকে সহজতর করে তুলছে।

জাতির জনকের ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের মেজাজে কতটা পার্থক্য লক্ষ্য করেন? প্রান্তিক মানুষ কতটা মিশে আছে বলে মনে করেন?

না কোনও পার্থক্য নেই। কারণ তিনি যা ভাবতেন, তাই লিখতেন এবং বলতেন। কোনো ভণিতা, কোনো অহং ছিল না। এই বিষয়গুলো ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে আছে, তেমনি আছে ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়া চীনেও’। কোথাও কোনো ভিন্নতা নেই, ব্যতিক্রম কোনো মেজাজ নেই। তাছাড়া এগুলো রচিত হয়েছিল কারাগারে। ফলে এখানে তার ব্যক্তিগত দুঃখ-অনুভূতি-হতাশা-ব্যর্থতা-দায়-অনুভবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, রাষ্ট্রের সংকট ও অগ্রজ রাজনৈতিক নেতা সোহরাওয়ার্দীসহ বড় বড় নেতাদের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তার বয়ানে চারপাশের বর্ণনা ও প্রান্তিক মানুষের চিত্র সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে।

‘কারাগারের রোজনামচা’য় তেমনি একটি চিত্র- জেলখানায় মুরগি, পাখি ও গাছ নিয়ে তার অসামান্য অনুভূতির প্রকাশ পাই।

অসাধারণ একটা কথা মনে করিয়ে দিলেন- যেমন তিনি লিখছেন: পাখিটা কি আমার উপর রাগ করল? না হলে কেন আসে না? পাখির জন্য তার যে অপেক্ষা। এ দৃশ্য কল্পনা করলেও রোমাঞ্চকর। একবার জেলে এক লোকের সঙ্গে দেখা, লোকটি বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে চুরি করেছিলেন। সে তো বঙ্গবন্ধুকে দেখে ভয় পেয়েছিল। কিন্তু চিনে তাকে অভয় দিলেন ও তার থাকা-খাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিলেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন ছাত্র অবস্থায়। এইভাবে সবসময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন মানুষের পাশে। তিনি মানুষ ছাড়াও পশু-পাখি-প্রকৃতি পছন্দ করতেন। জেলখানায় নিজে রান্না করে অন্যদের খাওয়াতেন। খোঁজ-খবর নিতেন। সহজে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারতেন। এখানে তিনি রাজনৈতিক না, সাধারণ মানুষের মুজিব হিসেবে মন জয় করেছিলেন।

আপনি একবার বলছিলেন- শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণনায় এ বিষয়টি পরিষ্কার যে তিনি যেভাবে পাকিস্তানকে দেখতে চেয়েছিলেন সেই পাকিস্তান হয়নি। বিস্তারিত যদি বলতেন-

খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- লাহোর প্রস্তাবের দিকে দেখেন, অটোনমাস ইউনিট- ভৌগোলিক ভাগের বৃত্তিতে পলিটিক্স, স্বায়ত্তশাসন এসব মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। এ ছাড়াও দেশভাগের আগে আসাম, মেঘালয় নিয়ে যে পাকিস্তানের স্বপ্ন কল্পনা করেছিলেন, তা রাজনৈতিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্বপ্ন-মোহ ভেঙে গেছে। তিনি বারবার সে বিষয়ে কথা বলতেন। কিন্তু পাকিস্তান হওয়ার পর দেখলেন যে সরকার এই অঞ্চলের মানুষের কথা ভাবছে না। এককেন্দ্রিক চিন্তা করে সাধারণ মানুষের ওপর অবিচার হচ্ছে। উন্নয়নের কথা নেই। তিনি তার রাজনীতির গুরু সোহরাওয়ার্দীসহ সারাক্ষণ গণতান্ত্রিক ভাবনায় ছিলেন। আর রাজনৈতিক জটিলতায় তা দৃশ্যমান না হওয়ায় সংকটের দিকটি তুলে ধরেছেন।

তাহলে বঙ্গবন্ধুর বইতে বাংলাদেশকে যে স্বপ্নের দেশ হিসেবে রূপায়ণের কথা ডায়রিতে লিপিবিদ্ধ করেছেন, তা পরবর্তী শাসকগণ ভাবছেন বলে মনে করেন?

ভাবছে অবশ্য। চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেক বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে এগিয়ে চলছে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রজন্মের যারা বাংলাদেশের ইতিহাস রাজনীতি ও রাষ্ট্রকে বুঝতে চায় বাংলা জানা প্রত্যেকের অবশ্য পড়া উচিৎ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বই তিনটি। তাহলে তারাও ধারণ করতে পারবে বঙ্গবন্ধুকে।

ইতিহাসের অনেক বই রয়েছে। এর মাঝে অন্য বইয়ের মধ্য বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বইগুলো কতটা আলাদা? বা বিশেষত্ব কী?

সাধারণত ইতিহাসের সংজ্ঞা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর বইকে দেখলে হবে না। পৃথিবীতে ইতিহাসের সংজ্ঞা বা কনসেপ্ট অনেক পাল্টে গেছে। ওরাল ন্যারেটিভ বা হিস্ট্রি, চিঠি বা মুখের বর্ণনাও ইতিহাসের অংশ। এসব থেকে ইতিহাস লিখিত হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ যেমন জেলখানায় বসে লেখা, তেমনি ইংরেজি সাহিত্যের আদি উপন্যাস জন বানিয়ানের ‘পিলগ্রিমস প্রগ্রেস’ও রচিত হয়েছে জেলের মধ্যে। জওহরলাল নেহরু জেলখানায়ও বসে যা লিখেছেন, এখনো সেগুলো সাহিত্য হিসেবে পড়ানো হয় অনেক জায়গায়। একটা বিষয় আমাদের মনে রাখা জরুরি, যে মানুষটি রাষ্ট্রের কথা ভাবছেন, সংগ্রাম করছেন, সময়ের প্রতিনিধি, মূল্যবোধের প্রতিনিধি, শ্রেণি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় যা ভেবেছেন, দেখেছেন তাই লিখেছেন, ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। আর এমনিতে মানুষ হিসেবেও তিনি ইতিহাসের অংশ- তখন তিনি যা রচনা করেন সেটি অবশ্য অসামান্য দলিল। ইতিহাসের আকর গ্রন্থ।

আত্মজীবনীতে শেখ মুজিব তার সমসাময়িক অন্যান্য রাজনীতিককে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটি আপনার ভাবনায় কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

অবশ্য সেটি অমূল্য সম্পদ। এর তুলনা হয় না। আগে রাজা, রানী, উজির, প্রজা বা প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাস রচিত হতো। সমকালের কনসেপ্ট হিসেবে সাধারণ মানুষও ইতিহাসের অংশ। কাউকে বাদ দেওয়া যায় না। আর বঙ্গবন্ধু তো একটা প্রজন্মের প্রতিনিধি যারা একটা রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক ভূমিকা রাখছেন। তবে সেখানে সমসাময়িক কোনো নেতাকে খাটো করেননি। যা ঘটেছে তা লিখেছেন। সমকালের সংকট-সম্ভাবনা দুর্বলতা-সফলতা দুটোই তুলে ধরেছেন। তবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল, তিনি তার গুরু ও নেতা ছিলেন বলে।

আপনার অনুবাদে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ থেকে বেরিয়েছে। সেখানকার পাঠকরা কীভাবে নিয়েছেন, মূল্যায়ন কতটা পেয়েছেন? অনুবাদক হিসেবে তৃপ্ত?

ভারত ও পাকিস্তানের পাঠকেরা বইটি মূল্যায়ন করেছেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে। বোধহয় ভারতের পাঠকরা তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আলোকে দেখেছেন, আর পাকিস্তানের পাঠকরা দেখেছেন তাদের নিজেদের স্বার্থের আলোকে। কিন্তু একটা দুর্ভাগ্য হচ্ছে- পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া ইউপিএল থেকে নিয়ে প্রকাশ করলেও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। সম্প্রতি জেনেছি খুব না চলায় গোডাউনে জায়গা সংকটে বেশ কিছু কপি রিমেইনডার (নষ্ট) করে দিয়েছে। রাখার জায়গা নেই। গুগল করলেও দেখা যায় যে সহজলভ্য না। তার মানে ভারতে বইটা বেশি চলেনি। যতটা না চলেছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানে ওইউপির পরিবেশনায় বইটি সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছে।

‘আমার দেখা নয়া চীন’ অনুবাদ হয়েছে। প্রকাশ হয়নি। এতে চীন ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি একটি ডায়রি লেখেন, যেখানে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ও চীনের রাজনৈতিক-আর্থসামাজিক অবস্থার তুলনা, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চর্চা প্রভৃতি বিষয়াদি প্রাঞ্জলভাবে আলোচনা করেছেন। এর বাইরে বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গায় আর কী দেখেন?

বঙ্গবন্ধুর তিনটি বই নিয়ে একটা লেখা তৈরি করছি, সেখানে স্বাধীনতার চারটি স্তম্ভ সেক্যুলারিজম, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের বিস্তারিত বিষয়গুলো থাকবে। এ চারটি বিষয়কে বারবার তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে বইগুলো গুরুত্বপূর্ণ, সবার পড়া উচিত। ‘আমার দেখা নয়া চীন’ অন্যতম। এতে বঙ্গবন্ধু চীনে গিয়ে আন্তরিকভাবে খেয়াল করেন রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও মানুষের জীবন। তিনি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি কমিউনিজম বিশ্বাস করি না কিন্তু তাদের চিন্তা আমায় প্রভাবিত করে। শেখা যায় ও চিন্তা নেওয়া যায়।’ এইভাবে নিজের সঙ্গে তুলনা করে নানান ভাবনায় উপস্থাপন করেছেন। নয়া চীনে প্রতিফলিত চিন্তা তার নিজের মধ্যে প্রশ্ন করছেন, উত্তর খুঁজেছেন বাংলাদেশের আলোকে। মুক্ত মনে দেখছেন, বিচার করছেন। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটি বই। জাতীয়তাবাদ নিয়েও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

যেকোনো অনুবাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লেখক ও মূল বইয়ের দৃষ্টিভঙ্গি, অনেকে তা খেয়াল করেন না। সে বিষয়ে অনুবাদে আগ্রহীদের জন্য কোনো পরামর্শ?

আমি প্রায়ই বলি অনুবাদ করার জন্য নিবিড় পাঠ জরুরি। চিন্তা ও চরিত্রের প্রবাহ ধরতে বইয়ের ভেতর ঢুকতে হবে। চরিত্র ও মূল কন্টেন্টের মেজাজ আবিষ্কার করতে হবে। যাকে বলে ক্লোজ রিডিং। এতে প্রত্যেক লাইন স্বর, বাক্য গঠন, দাড়ি, কমা এসবে নজর দিতে হবে। নিখুঁত ভাবনাগুলো ধরতে হবে। যেমন: আমার নিবিড় পাঠে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠস্বর ধরতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি তার বলার ভঙ্গি। মুগ্ধ করেছে বঙ্গবন্ধুর মানসপট।

Comments