‘বল ভেতরে ঢোকানোর সামর্থ্য আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই মোস্তাফিজের’

বাংলাদেশের পেসারদের হালচাল, লাল বলের চুক্তিতে না থাকলেও মোস্তাফিজুর রহমানকে ফের টেস্টে ফেরানোর ভাবনা ইত্যাদি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপ করেছেন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন।
Ottis Gibson
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। লঙ্কা সফরে পেসারদেরও থাকতে পারে বড় ভূমিকা। বাংলাদেশের পেসারদের হালচাল, লাল বলের চুক্তিতে না থাকলেও মোস্তাফিজুর রহমানকে ফের টেস্টে ফেরানোর ভাবনা ইত্যাদি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপ করেছেন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন।

লম্বা সময়ের বিরতি গেল। বাংলাদেশের পেসারদের কেমন দেখছেন? 

ওটিস গিবসন: হ্যাঁ, লম্বা বিরতি। কিন্তু বোলারদের ব্যাপারে বলব, ওদের সঙ্গে কিন্তু ফিটনেস প্রোগ্রাম চালু রেখে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। যখন  বুঝেছি তারা পর্যাপ্ত ফিট, তখন কিছু স্কিলের কাজ দিয়েছি। মেডিকেল বিভাগও নিয়মিত ওদের দেখভাল করেছে। বোলারদের জন্য বিসিবি খুব ভালো প্রোগ্রাম বানিয়েছিল। ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা নিয়ে বোলাররা অনেক বল করেছে এবং সেসব বোলিংয়ের ফুটেজ আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। তাতে আমরা তাদের খুব ভালোভাবে তদারকি করতে পেরেছি। অবশ্যই, তাদের ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ব্যাপার আছে। কিন্তু সেটার জন্য ক্যাম্প শুরু হতে হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান লাল বলের চুক্তিতে ছিলেন না। কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখলাম, নির্বাচকরা আবার তাকে টেস্টের জন্য বিবেচনা করছেন। কী এমন হলো যার জন্য মোস্তাফিজকে আবার টেস্টে নেওয়া হবে?

গিবসন:  স্পষ্টতই, মোস্তাফিজ একজন মানসম্পন্ন বোলার। আর সে বাঁহাতি হওয়ায় আমাদের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে (যেহেতু বাকি পেসাররা ডানহাতি)। তাই আমরা তাকে নিয়ে এবং টেস্ট ক্রিকেটে তার বাঁ হাতের দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চেষ্টা করছি টেস্টের জন্য তাকে উদ্যমী করতে। তার স্কিল আপগ্রেড করতে কাজ করছি, যাতে সে ডানহাতিদের বিপক্ষে বল ভেতরে ঢোকায়, যেটা টেস্টে খুব দরকার। টেস্টে ভীষণভাবে সম্পৃক্ত হতে সে আগ্রহ দেখিয়েছে।  আমরাও দেখছি তাকে কতটা কাজের চাপ দেওয়া যায় টেস্টের মানে নিয়ে আসতে। সে মানসম্মত সাদা বলের বোলার। মানসম্মত টেস্ট বোলার হিসেবেও আমরা তাকে পেতে চাই।

একটা ইস্যু ছিল, মোস্তাফিজ ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল ভেতরে ঢোকাতে পারেন না। সেটার কি কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে?

গিবসন: হ্যাঁ, এটা একটা ইস্যু ছিল। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তার সঙ্গে খুব অল্প সময় কাটিয়েছি। সে জিম্বাবুয়ে সিরিজে খেলেনি, কিন্তু তাকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছিল, যাতে আমি তাকে কাছ থেকে তদারকি করতে পারি। আর বল ভেতরে ঢোকানোর সামর্থ্য কিন্তু সে দেখিয়েছে। সিলেটে ওয়ানডেতে ভেতরে ঢুকতে থাকা একটা বলে সে একটা এলবিডব্লিও উইকেটও পেতে পারত। বল ভেতরে ঢুকে ব্যাটসম্যানের প্যাডে লেগেছিল, কিন্তু সে আবেদন করেনি। সে যে বল ভেতরে ঢোকাতে পারে, আমার মনে হয় না, এই বিশ্বাস তার ভেতরে আছে। বল ভেতরে ঢোকানোর আভাস মিলেছে। এই কারণেই তাকে টেস্ট স্কোয়াডে নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরা গণমাধ্যমে বলেছেন, তারা বাংলাদেশের জন্য পেসবান্ধব উইকেট বানাতে যাচ্ছেন। এই নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? এটা কি একটা 'ভুয়া' হুমকি?

গিবসন: আমরা জানি না আসলে (হাসি)। আমরা যেটা করতে পারি, যে কোনো কন্ডিশনের জন্যই প্রস্তুত হতে পারি। ২০ জনের স্কোয়াডে যদি আমরা ৪, ৫ বা ৬ জন মানসম্মত পেসার নিতে পারি। আর তারা যদি পেসবান্ধব উইকেট বানায়, আমি আশা করি, আমাদের বোলাররাও সেই সুযোগ কাজে লাগাবে।

বাংলাদেশের বর্তমান পেস আক্রমণ কি শ্রীলঙ্কায় প্রভাব ফেলতে সক্ষম? তারা কি ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য রাখে?

গিবসন: উপমহাদেশে কেবল পেসারদের ২০ উইকেট নেওয়ার অবস্থা নেই। সে কারণে আমাদের একটা ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং ইউনিট রাখতে হবে। স্পিনারদের বড় ভূমিকা থাকবেই। আমি বিশ্বাস করি, সাকিবও ফিরে আসবে। আমাদের বোলিং আক্রমণ আরও ধারাল হয়ে যাবে। যারা আছে, তাদের উপর আমার আস্থা আছে। তাসকিনকে (আহমেদ) সম্প্রতি খুব ভালো দেখাচ্ছে। আমাদের (আবু জায়েদ) রাহি আছে, ইবাদত (হোসেন) আছে। হাসান মাহমুদ দারুণ এক তরুণ প্রতিভা। কাজেই আমাদের পেসার আছে, যারা উইকেট নিতে পারে। কিন্তু ২০ উইকেট নিতে হলে পুরো বোলিং ইউনিটকে ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা তিনজন পেসার খেলাতে পারি এবং আমার বিশ্বাস, এই তিন পেসার খেলায় খুব ভালো প্রভাব রাখতে পারবে।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা একটা ঘরোয়া দীর্ঘ পরিসরের টুর্নামেন্ট খেলেছে। প্রস্তুতির দিক থেকে তাদের অনেক এগিয়ে রাখবেন কিনা?

গিবসন: সেই মার্চ থেকে আমরা কোনো ক্রিকেট খেলছি না। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটও না। শ্রীলঙ্কানরা অনেকদিন থেকে অনুশীলন করছে। কাজেই প্রস্তুতির দিক থেকে তারা এগিয়ে থাকবে। কিন্তু যখনই আমরা শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাব, তখন পর্যাপ্ত অনুশীলন করে সেটা পুষিয়ে ফেলতে পারব। পাঁচ দিনের টেস্টে আমরা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে আমি অনুভব করি, ম্যাচ জিততে পারব। আমরা অনুভব করছি, এটা এমন একটা সিরিজ, যেটায় আমরা জিততে পারি।

Comments

The Daily Star  | English

Dhaka getting hotter

Dhaka is now one of the fastest-warming cities in the world, as it has seen a staggering 97 percent rise in the number of days with temperature above 35 degrees Celsius over the last three decades.

7h ago