সুন্দরবন পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। দীর্ঘদিন ভ্রমণ বন্ধ থাকায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম শতাধিক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান। ফলে অর্থাভাবে এ খাতে নিযুক্ত শ্রমিকরাও দিশেহারা।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। দীর্ঘদিন ভ্রমণ বন্ধ থাকায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম শতাধিক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান। ফলে অর্থাভাবে এ খাতে নিযুক্ত শ্রমিকরাও দিশেহারা।

এই অর্থনৈতিক দৈন্যদশা কাটিয়ে উঠতে পর্যটকদের জন্যে অবিলম্বে সুন্দরবন খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন।

আজ সকাল ১১টায় খুলনার বন ভবনের সামনে সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বলেন, সারা বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলো খুললেও সুন্দরবনকে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভ্রমণপিপাসু মানুষ এ সময় সুন্দরবনে যেতে চান। করোনার সময়ে সুন্দরবনই একমাত্র জায়গা, যেটি সেরা আইসোলেশন সেন্টার।

বন বিভাগ কেন সুন্দরবনে ভ্রমণে বাধা দিচ্ছেন সেই প্রশ্ন তোলেন নেতারা। তারা আরও বলেন, অতি দ্রুত সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হোক এবং এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

বন বিভাগের সূত্রমতে, করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার নির্দেশনা ছিল।

সুন্দরবনের নয়টি পর্যটন এলাকায় পর্যটন মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চে) কোনো কোনো দিন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান করেন। ফলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে থাকা দর্শনার্থীরা। চরম আর্থিক হুমকির মুখে পড়েন ট্যুর অপারেটর ও সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, ‘কুয়াকাটাসহ দেশের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনও খুলে দিলে কোনো সমস্যা হবে না, বরং সরকারের রাজস্ব আয় হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রীক ৭০টি ট্যুর কোম্পানির অর্ধশত জাহাজের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় সাত মাস ধরে বেকার। চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন তারা। মাত্র তিন থেকে চার মাস সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম। এরপর সারা বছর বসে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গুনতে হয় মালিকদের। সেই সময়টাতেই যদি ব্যবসা বন্ধ থাকে, তাহলে একদিকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৯ মার্চ সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। তারপর এ বিষয়ে আর কোনো নির্দেশনা আসেনি। কবে নাগাদ আসবে, সেটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’

গত বছর এক লাখ সাত হাজার ৩৮৪ জন পর্যটক শুধুমাত্র সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন বলেন, ‘গত অর্থ বছরে সুন্দরবনের পর্যটন খাতে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৫০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

Comments