ভারতের অর্থায়নে রেলের ৭ প্রকল্পে বিলম্বের আশঙ্কা

​জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় ভারতের লাইন অব ক্রেডিট ও অনুদানের আওতায় রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো এমনিতেই বিলম্বিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য নেওয়া এসব প্রকল্পের পরিচালকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ হিসেবে আরও কিছু বিষয়ের কথা তুলে ধরেছেন।
রেল ভবন

জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় ভারতের লাইন অব ক্রেডিট ও অনুদানের আওতায় রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো এমনিতেই বিলম্বিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য নেওয়া এসব প্রকল্পের পরিচালকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ হিসেবে আরও কিছু বিষয়ের কথা তুলে ধরেছেন।

প্রকল্পগুলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ‘স্বল্প-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায়, এগুলোর অর্থ ছাড় স্থগিত করা এর মূল অন্তরায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ রকম সাত প্রকল্পের ছয়টি ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) এর অধীনে এবং একটি অনুদানের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এছাড়া, এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকল্পের নকশা ও ভূমি-সংক্রান্ত মতবিরোধ এবং সাত প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা জটিলতা অন্যতম কারণ হিসেবে তারা দেখছেন।

গত সোমবার রাজধানীর রেল ভবনে মাসিক উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় প্রকল্প পরিচালকরা বিষয়গুলো রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে জানিয়েছেন বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

এসব জানার পরে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দেন এবং এ সব প্রকল্পের কর্মকর্তাদের  প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে বলেন।

ভারতীয় এলওসির আওতায় ছয়টি প্রকল্প হলো—খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইন নির্মাণ, ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয়, চতুর্থ ডুয়াল গেজ লাইন ও ঢাকা-জয়দেবপুর ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, কুলাউড়া-শাহবাজপুর অংশের পুনর্নির্মাণ, পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া অংশে মিটারগেজকে ডুয়াল গেজে রূপান্তর, খুলনা-দর্শনা অংশে ডাবল লাইন নির্মাণ এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়াল গেজ লাইন নির্মাণ।

আর, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ভারতীয় অনুদানের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে রাজস্ব আহরণ অনেকাংশে কমে যাওয়ায় সরকার স্বল্প-অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ের ৩৯টি প্রকল্পের মধ্যে এই সাতটিসহ মোট ২৪টি প্রকল্প ‘স্বল্প-অগ্রাধিকারমূলক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

এই প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক সহায়তা কিংবা ঋণ ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও, এর জন্য কাস্টম শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয় বলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সেসব তহবিল থেকে অর্থ নিচ্ছে না।

তারা জানান, প্রায় সবগুলো প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে।

এ পরিস্থিতিতে, রেলমন্ত্রী সোমবার প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানে আলোচনা করেন।

এ রকম একটি প্রকল্প প্রায় আড়াই বছর আগে সরকারের অনুমোদন দেওয়া খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত বিদ্যমান সিঙ্গেল ট্র্যাক বরাবর ডাবল লাইন নির্মাণ।

মংলা বন্দর ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ভারতের ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা।

প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও, এর কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো পরামর্শক পর্যন্ত নিয়োগ দিতে পারেনি।

খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিস্থিতি একই রকম। প্রকল্পটি ২০১০ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত হয়। ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়সীমাটি প্রাথমিকভাবে ডিসেম্বর ২০১৪, পরে জুন ২০১৮, পরে চলতি বছরের জুন এবং অবশেষে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এর মধ্যে, প্রকল্প ব্যয় বেড়ে তিন হাজার ৮০১ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ভারত সফট লোন হিসেবে দুই হাজার ৩৭১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেবে।

সোমবারের বৈঠকে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন এডিপির অর্থ ছাড় সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। তিনি ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা ও মহামারিজনিত কারণে কাজের ধীরগতির প্রসঙ্গ তোলেন।

ঢাকা-টঙ্গী ও টঙ্গী-জয়দেবপুর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন বিমানবন্দর রেলস্টেশনে লাইন নির্মাণের জন্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তোলেন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ছাড়পত্র নিয়ে সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একজন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘রেলমন্ত্রী সমস্যার কথা শুনে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তহবিল সংকট সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, তারা ইতিমধ্যে অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অন্যান্য প্রকল্প থেকে এই স্বল্প-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোতে কিছু অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছেন, বৈঠক সূত্র জানায়।

যোগাযোগ করা হলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ ছাড় দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য সব মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পগুলোর তালিকা করতে হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে একটা মূল্যায়ন করবে।

‘করোনাভাইরাস ও অন্যান্য কিছু সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলো ধীরে চলায়, প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে নির্দেশনা দিয়েছি যেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এগুলো সম্পন্ন হয়,’ যোগ করেন রেলমন্ত্রী।

Comments

The Daily Star  | English
Garment factory owners revise minimum wage upwards to Tk 12,500

Workers’ minimum wage to be reviewed

In an effort to bring normalcy back to the industries, the government will review the workers’ wage through the minimum wage board, the interim government has decided.

1h ago