মেহেরপুর সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলার শিকার ২ সাংবাদিক, ক্যামেরা ভাঙচুর

মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এসময় তাদেরকে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
Meherpur-1.jpg
দুই সাংবাদিককে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এসময় তাদেরকে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজ’র মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি আবু আক্তার করণ ও অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশ রয়টার্স’র জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন।

সাংবাদিক আবু আক্তার করণ জানান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে আসছে। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার, অফিসে নিজ চেয়ারে বসে সবার সামনে ধূমপান, অফিস চলাকালে কার্যালয়ের রুম বন্ধ করে ঘুম ইত্যাদি।

 করণ জানান, বেশ কদিন ধরেই এ নিয়ে স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন পোর্টালে সংবাদ পরিবেশিত হয়ে আসছিল। করণ ও জাকির ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তার বক্তব্য নিতে।

করণ জানান, বেলা ২টার দিকে তারা ওই কার্যালয়ে যান, তখন ওই কর্মকর্তা অফিসেই ছিলেন। তবে ভেতর থেকে রুম বন্ধ ছিল। সাংবাদিক এসেছে শুনে তিনি রুম থেকে বেড়িয়ে এসে ক্ষিপ্ত হয়ে বকাঝকা শুরু করেন। এক পর্যায়ে একটি কক্ষে নিয়ে তাদেরকে আটকে রাখা হয়। পরে ডিডি আব্দুল কাদের, প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল কাদেরের ব্যক্তিগত গাড়িচালক মিলনসহ বেশ কয়েকজন ওই রুমের মধ্যেই তাদেরকে মারধর করেন এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।

খবর পেয়ে মেহেরপুরের অন্যান্য সংবাদকর্মীসহ পুলিশের একটি দল গিয়ে ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় উপপরিচালক আব্দুল কাদের, প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, গাড়িচালক মিলন শেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান জানান, তদন্ত চলছে। ঘটনা উদঘাটন সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments