সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা কি বেড়েছে?

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ২০ শতাংশ বাড়াতে এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে আহ্বান জানান তিনি।
icu
প্রতীকী ছবি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ২০ শতাংশ বাড়াতে এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে আহ্বান জানান তিনি।

শীতের শুরুতেই সংক্রমণের হার প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তার এই পরামর্শ বিচক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা কি বেড়েছে? বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ এর একটি শয্যার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। বেশিরভাগ রোগীর বেসরকারি হাসপাতালের এই খরচ বহন করা সম্ভব না। আর তাই সবচেয়ে প্রত্যাশিত বিকল্প হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা।

আমরা যদি এ বছরের শুরু থেকে আইসিইউ শয্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলো দেখি, তাহলে তা খুব একটা ভালো কিছু নয়।

গত জুনের শুরুর দিকে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় রংপুর বিভাগে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সার জন্য মাত্র ১৩টি আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দিনাজপুরে তিনটি এবং রংপুরে ১০টি শয্যা ছিল। এর বাইরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত চিকিৎসকদের জন্য দুটি অতিরিক্ত শয্যা এবং অন্যান্য রোগীদের জন্য ছিল ২০টি শয্যা। এই বিভাগের বাকি ছয়টি জেলায় কোনো আইসিইউ সুবিধাই নেই। আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নোয়াখালী, ফেনী, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে উদ্ধৃত করে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র সাতটি সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা আছে। এর মধ্যে তিনটি ঢাকায় এবং বাকি চারটি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহে।

অনেক জেলায় সরকারি হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই এবং থাকলেও সেখানে শয্যা সংখ্যা খুবই কম। আবার এমন সরকারি হাসপাতালও রয়েছে যেখানে আইসিইউ শয্যা থাকলেও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে তা অচল পড়ে আছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায়  নিয়োজিত ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত মেডিকেল বিশেষজ্ঞ না থাকায় ২৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে মাত্র ১৬টি পরিচালনা করতে পেরেছে।

গত কয়েকমাসে কি এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন যে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার। এই বৃদ্ধির গতি কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা অবস্থায় কোনো পার্থক্য আনবে? আমরা কোভিড-১৯ এর সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে যুদ্ধ করছি। এর মধ্যে রোগীদের ভোগান্তি ও মৃত্যু দেখেছি। কারণ তারা যথাসময়ে আইসিইউ শয্যা পায়নি। কিছু ক্ষেত্রে তারা আইসিইউ শয্যাই পাননি। সরকারি হাসপাতালের এই আইসিইউয়ের অভাব পূরণ করতে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের আশাবাদী করে তোলে না। সারাদেশে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী বৃদ্ধি, পরিচালনা ও তাদের কঠোর পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা সরকারের কাজ। যাতে করে সমাজের সকল স্তরের মানুষ আইসিইউ সুবিধা পেতে পারে।

Comments

The Daily Star  | English

Inadequate Fire Safety Measures: 3 out of 4 city markets risky

Three in four markets and shopping arcades in Dhaka city lack proper fire safety measures, according to a Fire Service and Civil Defence inspection report.

7h ago