শীর্ষ খবর
জৈব সারের প্রধান ও উৎকৃষ্ট উপাদান

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামে জ্বালানির উৎস গোবর

সচেতনতা ও উদ্যোগের অভাবে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণ জৈব সারের প্রধান ও উৎকৃষ্ট উপাদান গরুর গোবর ব্যবহৃত হচ্ছে জ্বালানির কাজে। কী পরিমাণ গোবর এ কাজে ব্যয় হচ্ছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সূত্র মতে, দুই জেলায় প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন গোবর চলে যাচ্ছে জ্বালানির কাজে। কৃষকরা গোবরকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করলেও গ্রামের ভূমিহীন পরিবারগুলো গোবরকে ব্যবহার করছে জ্বালানির কাজে।
গোবর মিশিয়ে পাটকাঠি দিয়ে লাঠি তৈরি করা হচ্ছে। ছবি: স্টার

সচেতনতা ও উদ্যোগের অভাবে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বিপুল পরিমাণ জৈব সারের প্রধান ও উৎকৃষ্ট উপাদান গরুর গোবর ব্যবহৃত হচ্ছে জ্বালানির কাজে। কী পরিমাণ গোবর এ কাজে ব্যয় হচ্ছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সূত্র মতে, দুই জেলায় প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন গোবর চলে যাচ্ছে জ্বালানির কাজে। কৃষকরা গোবরকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করলেও গ্রামের ভূমিহীন পরিবারগুলো গোবরকে ব্যবহার করছে জ্বালানির কাজে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী করিমবাজার গ্রামের ভূমিহীন শুকলা রানী (৩৫) জানান, তাদের তিনটি গরু আছে। কিন্তু, কোনো জমি নেই। এসব গরু থেকে তারা প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গোবর পান। এই গোবর দিয়ে জ্বালানির কাজে ব্যবহারের জন্য ২৫-৩০টি লাঠি তৈরি করে থাকেন। তাদের গ্রামের সবাই গোবর দিয়ে লাঠি তৈরি করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে বলেও জানান তিনি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলমতি গ্রামের আয়েশা বেগম (৪৫) বলেন, ‘গোবর মিশিয়ে পাটকাঠি দিয়ে লাঠি তৈরি করা হয়। এসব গোবরের লাঠি রান্নার কাজে ব্যবহার করি। আমাদেরকে খড়ি কিনতে হয় না। আমাদের কোনো জমি নেই, তাই গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরি করি না। কেউ যদি গোবর কিনে নিতেন, তাহলে আমরা তা বিক্রি করতাম। আমাদের বাড়িতে চারটি গরু রয়েছে। চারটি গরুর গোবর ব্যবহার করছি জ্বালানির কাজে।’

ওই গ্রামের কৃষক নওশেদ আলী (৬৭) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গোবর হলো জৈব সারের প্রধান ও উৎকৃষ্ট উপাদান। শুধুমাত্র সচেতনতা ও উদ্যোগের অভাবে জৈব সারের উপাদান গোবর চলে যাচ্ছে রান্নার কাজে। আমার সাতটি গরু রয়েছে। এসব গরুর সবগুলো গোবর ব্যবহার করছি জৈব সার হিসেবে। কিছু নিয়ম মেনে গরুর গোবর সংরক্ষণ করা গেলে তা জৈব সারে পরিণত হয়। যাদের জমি নেই, তারা সে নিয়ম জানেন না আর জানার প্রয়োজনও মনে করেন না।’

কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকায় এনজিও প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, ‘লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন গোবর ব্যয় হচ্ছে জ্বালানির কাজে। এসব গোবর সংরক্ষণ করে জৈব সার প্রস্তুত করে জমিতে ব্যবহার করা গেলে জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে যাবে আর রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমে যাবে। গোবরকে জ্বালানির কাজে ব্যবহার না করে, জৈব সার হিসেবে প্রস্তুত করতে দরকার প্রচারণা, উদ্যোগ ও সচেতনতা। সরকারকে এ কাজের জন্য ফলপ্রসু প্রকল্প নিতে হবে।’

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের লোকজনকে গরুর গোবরকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছি। কিন্তু, সাধারণ মানুষ শুনছেন না। জৈব সার হলো জমির প্রাণ। জৈব সার ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদন বেড়ে যায়।’

‘গোবরকে জ্বালানি নয়, জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে তা কৃষির জন্য সুফল বয়ে আনবে’, বলেন তিনি।

Comments

The Daily Star  | English

All animal waste cleared in Dhaka south in 10 hrs: DSCC

Dhaka South City Corporation (DSCC) has claimed that 100 percent sacrificial animal waste has been disposed of within approximately 10 hours

1h ago