কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর: জাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন করেছে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে একটি পদযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শিক্ষকদের কর্মসূচি।
ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে জাবি শিক্ষকদের কর্মসূচি। ছবি: স্টার

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন করেছে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে একটি পদযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শিক্ষকদের কর্মসূচি।

মানববন্ধনে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার বিচার দাবি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য স্থাপনের জোর দাবি জানান।

জাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএ মামুন বলেন, ‘স্বাধীনতার সময়কিছু কুচক্রী মহল যেরকম এদেশের মানচিত্রকে খামচে ধরেছিল, ঠিক তদ্রুপ এখনো একদল অপশক্তি তা করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বীকার করে না, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। যারা এদেশে ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়ঁতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির জায়গা হবে না। অতীত থেকেই এদেশে চার ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। কেউ এই অসাম্প্রদায়িকতাকে বাধা দিলে আমরা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’

মানববন্ধনে ভার্চুয়ালি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভাস্কর্য আমাদের শিক্ষা দেয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি। ভাস্কর্যকে যারা ধারণ করতে পারে না, তারা ইতিহাস-ঐতিহ্যকেই ধারণ করতে পারে না। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত করেছে, তারা আমাদের রাষ্ট্র ও স্বাধীনতাকেও আঘাত করেছে। এই অপশক্তিকে শক্ত হাতে দমন করা উচিত। আমরা থেমে যাব না, আমরা আরও এগিয়ে যাব। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য একটার বদলে হাজারটা নির্মাণ করব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিদ্যালয় তা বাস্তবায়ন করে দেখাবে।’

সেসময় আরও বক্তব্য রাখেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, টিএসসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর কবীর, প্রাণরসায়ণ ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবউন্নেছা, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ প্রমুখ। এ ছাড়া, কর্মকর্তা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন খান মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা ঘটে। পৌরসভার পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ডান হাত, পুরো মুখ ও বাম হাতের অংশবিশেষ ভাঙা হয়। এরপর থেকেই সারাদেশে এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন চলছে।

আরও পড়ুন:

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর: ৪ আসামি রিমান্ডে

ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪ জন কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আগামীকাল

Comments

The Daily Star  | English

Eid rush: People suffer as highways clog up

As thousands of Eid holidaymakers left Dhaka yesterday, many suffered on roads due traffic congestions on three major highways and at an exit point of the capital in the morning.

8h ago