বড় জয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি

ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের যেটুকু শঙ্কা ছিল তা উড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইন্ডিজ যখন তাদের প্রথম ইনিংসে প্রতিরোধ গড়ছে, তখন বোলিংয়েও মিরাজকে দেখা গেল অগ্রণী ভূমিকায়।
Mehedi hasan Miraz
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দুই দলের প্রথম ইনিংসই মূলত বেশিরভাগ সময় গড়ে দেয় টেস্টের ম্যাচের গতিপথ। ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের যেটুকু শঙ্কা ছিল তা উড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উইন্ডিজ যখন তাদের প্রথম ইনিংসে প্রতিরোধ গড়ছে, তখন বোলিংয়েও মিরাজকে দেখা গেল অগ্রণী ভূমিকায়। বিশাল এক লিড পেয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে বিশাল জয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার তৃতীয় দিনের চা-বিরতির ঠিক আগে ৫ উইকেটে ২৫৩ রান ছিল উইন্ডিজের স্কোর। চা-বিরতিতে যাওয়ার খানিক আগে দুই থিতু ব্যাটসম্যান জার্মেইন ব্ল্যাকউড আর জশুয়া ডি সিলভাকে হারায় তারা। চা-বিরতি থেকে এসে কেবল ৩ ওভার টিকতে পেরেছে তারা। মাত্র ৬ রানে হারিয়েছে শেষ ৫ উইকেট। বাংলাদেশের লিড তাই ১৭১ রানের।

বল হাতে মিরাজই দলের সেরা। ৫৮ রানে তিনি পেয়েছেন ৪ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।

প্রথম দুদিন চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উইকেট ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ ভালো। তৃতীয় দিনে স্পিনাররা টার্ন পেলেও টিকে থাকাও কঠিন ছিল না। কিন্তু শেষ দুদিনে পরিস্থিতিতি নিশ্চিতভাবেই হওয়ার কথা ভিন্ন।

উইকেট থেকে ধুলো উড়ছে। সেই ধুলো তৈরি করবে শার্প টার্ন। স্পিনাররা হয়ে উঠবেন ভয়ংকর। তার কিছু আভাস এর মধ্যে মিলেছে। তাইজুল, নাঈম ও মিরাজের বল মাঝে মাঝেই বিশাল বাঁক নিয়েছে।

উইকেটে তৈরি হওয়া ফাটলও বিপাকে ফেলবে ব্যাটসম্যানদের। বেশি বাঁক থাকলে সোজা বলেও উইকেট পড়ার সুযোগ বেড়ে যায় অনেক। দ্বিতীয় ইনিংসে তাই বাংলাদেশ আর একশো রানের মতো যোগ করলেই উইন্ডিজের জন্য শেষ ইনিংসে সেই রান তোলা হবে ভীষণ কঠিন।

আগের দিনের ২ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিল উইন্ডিজ। এদিন দুই সেশনের কিছুটা বেশি সময় ব্যাট করে তার যোগ করে ১৮৪ রান। চা-বিরতির সময়ই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা আছে শেষের পথে।

বিরতি থেকে ফিরে টেল এন্ডাররা প্রতিরোধের একদম কোনো চেষ্টাই করেননি। উল্টো তেঁড়েফুড়ে মারার চেষ্টা দেখা গেছে তাদের মাঝে। সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে যা করতে গিয়ে সফল হওয়া ছিল বেশ কঠিন। উইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড। ১৪৬ বলের ইনিংসে ৯ চার মারেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪৩০

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৯৬.১ ওভারে ২৫৯ (ব্র্যাথওয়েট ৭৬, ক্যাম্পবেল ৩, মোসলি ২, বোনার ১৭, মেয়ার্স ৪০, ব্ল্যাকউড ৬৮, জশুয়া ৪২, কর্নওয়াল ২, রোচ ০, ওয়ারিকান ৪, গ্যাব্রিয়েল ০*; মোস্তাফিজ ২/৪৬, সাকিব ০/১৬, মিরাজ ৪/৫৮, তাইজুল ২/৮৪, নাঈম ২/৫৪)।

Comments

The Daily Star  | English

Spend money on poverty alleviation than on arms

PM urges global leaders at an event to mark the International Day of United Nations Peacekeepers 2024

1h ago