জ্বললেন রাহি-তাইজুল, তবুও চারশো পেরিয়ে থামল উইন্ডিজ

শেষদিকে আবু জায়েদ রাহি ও তাইজুল ইসলাম জ্বলে উঠলেও তাই বড় স্কোর গড়া থেকে সফরকারীদের থামাতে পারেনি বাংলাদেশ।
jayed
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

এনক্রুমা বনারকে থামানো গিয়েছিল দিনের প্রথম ঘণ্টায়। কিন্তু জশুয়া ডা সিলভা ও আলজারি জোসেফ উইকেটে গেঁড়ে ফেলেন শিকড়। তাদের জুটি যখন থামল, ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ চারশো ছুঁইছুঁই। শেষদিকে আবু জায়েদ রাহি ও তাইজুল ইসলাম জ্বলে উঠলেও তাই বড় স্কোর গড়া থেকে সফরকারীদের থামাতে পারেনি বাংলাদেশ।

শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৪০৯ রানে। আগের দিনের ৪ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিল তারা। এদিন ৫২.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করেছে ১৮৬ রান।

চট্টগ্রামে সিরিজের আগের টেস্টে না খেলা পেসার রাহি ৯৮ রানে নেন ৪ উইকেট। তাইজুলও পান ৪ উইকেট। এই বাঁহাতি স্পিনারকে খরচ করতে হয় ১০৮ রান।

৬ উইকেটে ৩২৫ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। এরপর কিছুটা রয়েসয়ে খেলতে শুরু করে তারা। তবে উইকেটে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে চাপে ফেলা যায়নি। লাইন-লেংথ নিয়ে ধুঁকতে থাকা নাঈম হাসানকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করেন আলজারি। সেজন্য তাকে মোকাবিলা করতে হয় ৮৪ বল।

জশুয়া ও আলজারির জুটি ৮৭ বলে পৌঁছেছিল পঞ্চাশে। বাংলাদেশকে আক্ষেপে মুড়িয়ে তাদের জুটিতে শতরান আসে ১৯০ বলে। ১৩৪তম ওভারের প্রথম ডেলিভারি স্কুপ করে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে জুটির সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আলজারি।

taijul
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ক্যারিবিয়ানরা ১৬ ওভারে তোলে ৪৯ রান। বাংলাদেশ এসময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই হতাশা বাড়ছিল স্বাগতিকদের। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু দিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন তাইজুল। টেস্টে দেশের মাটিতে এটি তার শততম উইকেট। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হয়ে যান জশুয়া। তিনিও বনারের মতো হন নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার। ১৮৭ বলে এই উইকেটরক্ষক করেন ৯২ রান। তার ইনিংসে ছিল ১০ চার।

জশুয়ার বিদায়ে ভাঙে ২১১ বলে ১১৮ রানের ম্যারাথন জুটি। সঙ্গী হারানোর পর দ্রুত রান তোলার চিন্তা খেলে যায় আলজারির মনে। তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়েই ডেকে আনেন বিপদ। রাহিকে টানা চার-ছক্কা মারার পর বড় শটে প্ররোচিত হয়ে লিটন দাসের তালুবন্দি হন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১০৮ বলে ৮২ রান। তার মারমুখী ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ৫ ছয়।

নিজের পরের ওভারে জোমেল ওয়ারিকানকেও লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন রাহি। এরপর শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে তাইজুল সাজঘরে পাঠালে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজের ইনিংস। শেষ ৪ উইকেট তারা হারায় মাত্র ২৫ রানের মধ্যে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ২২৩/৫) ১৪২.২ ওভারে ৪০৯ (বনার ৯০, জশুয়া ৯২, আলজারি ৮২, কর্নওয়াল ৪*, ওয়ারিকান ২, গ্যাব্রিয়েল ৮; রাহি ৪/৯৮, মিরাজ ১/৭৫, নাঈম ০/৭৪, তাইজুল ৪/১০৮, সৌম্য ১/৪৮)।

Comments

The Daily Star  | English

Bangladesh’s exports slip 6.05% in November

Exports from Bangladesh declined 6.05 percent year-on-year to $4.78 billion in November amid a continued slowdown in readymade garment shipments, official figures showed today

1h ago