শীর্ষ খবর

গণমাধ্যম জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করে: শশী থারুর

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর ও দ্য ডেইলি স্টারের ৩০ বছর ‘গ্লোরিয়াস ফিফটি ইয়ার্স অব ইনডিপেনডেন্স কারেজিয়াস থার্টি ইয়ার্স অব জার্নালিজম’ উদযাপন অনুষ্ঠানে গত শনিবার যোগ দিয়েছিলেন খ্যাতনামা লেখক, ভারতের সংসদ সদস্য ও সাবেক কূটনীতিক শশী থারুর। ভার্চুয়াল এই আয়োজনে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত আলাপচারিতা করেছেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের নানাবিধ দিক নিয়ে।
শশী থারুর। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর ও দ্য ডেইলি স্টারের ৩০ বছর ‘গ্লোরিয়াস ফিফটি ইয়ার্স অব ইনডিপেনডেন্স কারেজিয়াস থার্টি ইয়ার্স অব জার্নালিজম’ উদযাপন অনুষ্ঠানে গত শনিবার যোগ দিয়েছিলেন খ্যাতনামা লেখক, ভারতের সংসদ সদস্য ও সাবেক কূটনীতিক শশী থারুর। ভার্চুয়াল এই আয়োজনে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামের সঙ্গে তিনি বিস্তারিত আলাপচারিতা করেছেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের নানাবিধ দিক নিয়ে।

মাহফুজ আনাম: একইসঙ্গে একজন লেখক এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার জীবনের দুই ধারার পথচলা। এর প্রথমটি নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত আর দ্বিতীয়টি আপস এবং বাস্তববাদের সঙ্গে। এমন দুই বিপরীত জগতের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে করেন?

শশী থারুর: বিষয়টা মোটেই সহজ নয়। দুটি আলাদা জগতের কোনটির চাহিদা আমি পূরণ করব সেটি আমাকে বেছে নিতে হয়। এটা মূলত, জগৎ সম্পর্কে একই মানুষের আলাদা দুটি অবস্থান, একটি লেখার সঙ্গে সম্পর্কিত আর অন্যটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ। যখন কিছু দেখে আমার মনে হয় যে এই বিষয়ে আমি লিখতে চাই, তার মানে হলো তা নিয়ে আমি কিছু করতেও চাই। সে সময়টিতেই দুই জগৎ এক হতে পারে। আমার কাছে রাজনীতির প্রাধান্য বেশি, কারণ, লাখো মানুষ সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। অবশ্য, আমার ভেতরে আরেকটি অংশও আছে, যা কখনোই ভোলে না যে আমি একজন লেখক। সেটাই আমার স্থায়ী পরিচয়, রাজনীতি নয়।

মাহফুজ আনাম: অর্থাৎ, সাহিত্যের মানুষ হিসেবে মূল্যবোধ এবং রাজনীতি, যেখানে মাঝে মধ্যেই খারাপ দিকও জড়িয়ে যায়, এ দুয়ের মধ্যে সংঘাত। আমাদের এই অঞ্চলের রাজনীতি অনেক সময়ই ছল চাতুরির জন্য পরিচিত। আপনি এমন দুটি পৃথিবীতে একসঙ্গে কীভাবে থাকেন?

শশী থারুর: সবসময় করতে হয় তা নয়, তবে আপস প্রায়ই করতে হয়। নিজস্ব চিন্তাধারা আছে এমন একজন মানুষ যখন একটি নির্দিষ্ট নীতির রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তখন দ্বন্দ্ব হওয়া স্বাভাবিক। দল এবং আপনার মতাদর্শ সবসময়ই যে এক হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। দল এবং দলের রাজনীতির প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব আছে। একইভাবে ব্যক্তি হিসেবেও আমার কিছু দায়িত্ব আছে। কাজেই আমি যা করি তা হলো, দলের প্রতি অনুগত থাকি, কিন্তু কখনোই এমন কথা বলি না যা আমি বিশ্বাস করি না। আমি একমত নই, দলের এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে হলে তা নিয়ে সাফাই না গেয়ে শুধুমাত্র দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করি, অথবা চুপ থাকি। এমন অনেকবার হয়েছে যে দলের সিদ্ধান্তের পর আমি নীরব ছিলাম। কারণ তা না করলে যাদের সঙ্গে আমি কাজ করি তাদের ক্ষতি হতে পারত। আমি এর বাইরে আর আপস করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্বকে আমার নীতি ও নৈতিকতা উপহার দিতে পারি। সেটা না করে যদি আমাকে সত্ত্বা বিক্রি করে দিয়ে কলুষিত হতে হয় তাহলে আমি রাজনীতিতে নাও থাকতে পারি। এমন অনেক রাজনীতিবিদ পাবেন যাদেরকে সাময়িক সুবিধা দিলে যা খুশি তাই করিয়ে নেয়া যায়। 

মাহফুজ আনাম: সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

শশী থারুর: সত্যি বলতে কী, দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। অবস্থা এতটা খারাপ নয়, যেমনটা হতাশাবাদীরা বলেন। এমনকি পাকিস্তানে সামরিক শাসনের সময় অনেক নির্ভিক সাংবাদিক তাদের মতামত লিখেছেন। বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বত্বেও দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অনেক এগিয়েছে। ভারতে অনেক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিক্রি হয়ে যাওয়া কিংবা সমঝোতার অভিযোগ আছে। আবার গণমাধ্যমেই এমন অনেকে কাজ করছেন যারা এখনো তাদের বিশ্বাস নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সেগুলো হতে পারে ছোটখাটো ওয়েবসাইট, কিন্তু কোথাও না কোথাও তো সত্যটা বলা হচ্ছে। আপনাকে শুধু জানতে হবে এগুলো কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়। সেগুলো অনেককিছুর মধ্যে মিশে আছে। এটা সত্যি যে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের কোনো সরকারই সমালোচনাকে সহজভাবে নেয় না। তেমনি এটাও সত্য যে আমাদের গণমাধ্যমগুলোতেই এমন অনেক সাংবাদিক এখনো আছেন যারা তাদের লক্ষ্য জানেন এবং তাদের সাহস আছে।

মাহফুজ আনাম: আমাদের সরকারগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে এতোটা বৈরী কেন?

শশী থারুর: আমাদের দেশগুলো গণতান্ত্রিক হলেও এতে নানা ধরনের ত্রুটি আছে। প্রতিটি সরকারই বিশেষ কিছু কারণে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। কাজেই তারা চায়, তারা  ‘কতটা পরিশ্রম’ করে  ‘কীভাবে দেশ চালাচ্ছে’ সে সম্পর্কে গণমাধ্যমে ভালো ভালো কথা লেখা হোক। যখনই কারো লেখায় তা অনুপস্থিত থাকে, তাদের প্রতি সরকার রুষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং তাদের চুপ করিয়ে দিতে চায়। সংজ্ঞা অনুযায়ী গণমাধ্যমের কাজই সমালোচনামূলক বিষয় তুলে ধরা। গণমাধ্যমের কাজই বিরোধীতা। বেশিরভাগ পশ্চিমা গণমাধ্যমে এটি একটি মৌলিক ধারণা। গণমাধ্যমের কাজ জনসাধারণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করা, সরকারকে প্রশ্ন করা, সরকারের দাবি কতটা সত্য তা খুঁটিয়ে দেখা। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বৈশিষ্টই এই বৈরীতা। আমাদের অনেকেই মনে করেন এটিই স্বাধীন লেখক হিসেবে আমাদের বৈশিষ্ট্য। 

তারপর আছেন জনপ্রিয়তা চান এমন কিছু ভ্রষ্ট নেতা, যারা মনে করেন তারা জনগণের কণ্ঠস্বর। এই অনির্বাচিত সাংবাদিকরা তাদের টেনে নামানোর কে? তারা বিশ্বাস করেন, আপনি তাদের আক্রমণ করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

মাহফুজ আনাম: আপনি একজন লেখক, কলামিস্ট এবং এখন একজন রাজনীতিবিদ। একেকটি অবস্থান থেকে গণমাধ্যমকে আপনি কি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখেন? একজন রাজনীতিবিদ এবং লেখক হিসেবে আপনি কি আমাদেরকে আলাদাভাবে দেখেন? ২০০৯ সালে মন্ত্রী থাকাকালে গণমাধ্যমের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি ভিন্ন ছিল?

শশী থারুর: প্রথমত, ভারতের গণমাধ্যমের প্রচলিত সংস্কৃতি ছিল মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি। যে গণমাধ্যম আমাকে আক্রমণ করবেই, রাজনীতি করার কারণে এটি আমার প্রাপ্য। আমি কখনোই ভাবিনি যে গণমাধ্যমকে তুষ্ট করে, হুমকি কিংবা ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়া যায়। আমি মিডিয়ার সমালোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং মেনে নিয়েছি যে সেই সমালোচনা করার অধিকার তাদের আছে। তবে গত কয়েকবছর ধরে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে তা হলো ক্ষমতায় নতুন যারা এসেছেন তারা বিষয়টি একই ভাবে দেখছেন না। তাদের আচরণ এমন হয়ে উঠেছে যে, আপনি হয় তাদের পক্ষে না হয় বিপক্ষে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে সরকারের সব ধরনের ক্ষমতার ব্যবহার করতে তারা দ্বিধা করছেন না। বিজেপির ক্ষেত্রে, তারা যদি মনে করে পছন্দমতো না লেখা সম্পাদকের চাকরি যাওয়া উচিত অথবা সেজন্য ওই সংবাদমাধ্যমের মালিকের বিরুদ্ধে ট্যাক্স রেইড চালানো উচিত তাহলে সেটা তারা করতে পারে। আমি জানি যে এমন কিছু হয়েছে সেটা অফিসিয়ালি বলা আমার উচিত নয়, তবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং অনেকের দাবি তেমনটা ঘটেছে।

ভারতের একজন নেতার কথাই ধরুন, যিনি সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারতেন, তিনি গণমাধ্যমগুলোকে একরকম অবজ্ঞাই করতেন, কারণ তাদেরকে তার দরকার ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন এবং প্রচলিত গণমাধ্যমকে তিনি বাদ দিয়েছেন। তার দল সামাজিক মাধ্যমের যোগাযোগে নিপুণ। তিনি ভাবেন প্রচলিত গণমাধ্যমের প্রয়োজন নেই। তিনিই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ভারতে কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি এবং পূর্বনির্ধারিত প্রশ্ন ছাড়া কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না। তার কাছে আসা প্রতিটি প্রশ্নই পূর্ব নির্ধারিত। বিষয়টি তার কাছে থিয়েটারে অভিনয়ের মতো—এটা স্বাধীনভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নয়। জবাবদিহিতায় তার কোনো আগ্রহ নেই। 

মাহফুজ আনাম: প্রচলিত গণমাধ্যমকে পাশ কাটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার এই উত্থানকে আপনি কীভাবে দেখেন?

শশী থারুর: আমি একই সঙ্গে একে উদ্বেগের এবং অনিবার্য বলে মনে করি। সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতা এমন একটি বিষয় যার প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। ভারতের শতকরা ৮০ ভাগ ভোটার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্ময়কর এগিয়ে যাওয়া এবং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা আমি দেখেছি। যেমন, আমরা দেখছি যে মি. মোদি তার মন্ত্রিসভার প্রত্যেক সদস্যের টুইটার অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করেছেন, কিন্তু তাদের সংবাদ সম্মেলন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এটাই পার্থক্য। সরকারের কাছে মূলধারার গণমাধ্যম দ্বিতীয় সারিতে চলে গেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ফিল্টার নেই। যে কেউই সেখানে চাইলেই পেশাদার সাংবাদিকের মতো করেই কথা বলতে পারেন। সেখানে সম্পাদকীয় নীতি বা সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হয় না। এখন সত্য-মিথ্যা যাচাই করার আলাদা ওয়েবসাইট থাকলেও সেগুলো ব্যবহারকারীর সংখ্যা সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদের ফলোয়ারের চাইতে অনেক কম। এর মানে হচ্ছে, যারা তাদের কথা মানুষকে বিশ্বাস করাতে চান তারা সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা না নিয়েই সেগুলো প্রচার করতে পারেন। এমন অনেক প্রচলিত গণমাধ্যমও পাবেন যারা এই সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তাগুলোই ফের প্রকাশ করে। 

মাহফুজ আনাম: ডিজিটাল স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আছে। কে কী পোস্ট করছে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  এ বিষয়ে ভারতের আইন কী?

শশী থারুর: তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি বলতে পারি, আমাদের আইন উনিশ শতকের। যেগুলোর সংস্কার হওয়া জরুরি। ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন- ১৮৮৫ দ্বারাই দেশের টেলিকমিউনিকেশনের সিংহভাগ বিষয় পরিচালিত হয়। সময় হয়েছে এর সংস্কারের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবার। অনেকের উদ্বেগ এই যে, সে সংস্কার এমন কোনো সরকারের হাত দিয়ে হবে কিনা, যারা মুক্ত গণমাধ্যমেই বিশ্বাস করে না। অনেক ভারতীয় আছেন যারা আধুনিক প্রযুক্তিতে স্বচ্ছন্দ্য। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকে বেশ কষ্ট করতে হবে। সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি এমন কিছু টুইটের কারণে কিছু একাউন্ট বাতিলের জন্য সরকারের অনুরোধে টুইটার কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেয়ায় তা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। টুইটার কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালা অনুযায়ী সেগুলো বন্ধ করেনি। এদিকে সরকার বলছে, ভারতের আইনে কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সে সিদ্ধান্ত নেয়ার তোমরা কে। আমরা বলছি এই একাউন্টগুলো বন্ধ করতে হবে তোমরা তা করবে নইলে শাস্তি পেতে হবে। তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে পারে কিন্তু তারা জনগণকে নিয়ে কাজ করে, তাদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে। বিশ্বজুড়েই এসব নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, উঠছে এমন চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন। কিন্তু, এর সুস্পষ্ট কোনো উত্তর নেই।

রাজ্যের আইন, বিচার এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার মূল ভারসাম্য নির্বাহী ক্ষমতার দিকে সরে যাচ্ছে। ক্যারিশম্যাটিক, জনপ্রিয় এবং কার্যকর নেতাদের হাত ধরেই এই পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। আর এতে অনেকটাই কমেছে সরকারের জবাবদিহিতা।

মাহফুজ আনাম: এ ক্ষেত্রে আপনার মতামত কী? এখানে কি গণমাধ্যমের কোনো ভূমিকা আছে?

শশী থারুর: আমরা আমাদের রাজনীতির একটা বিপজ্জনক অবস্থায় আটকে আছি। জাতীয়তাবাদী চেতনা এখন এমনভাবে চেপে বসেছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে চ্যালেঞ্জ করাকেও দেশদ্রোহীতা বলে বিবেচিত হয়। আপনি যখন বলবেন সাংবাদিক হিসেবে আমি কেবল আমার কাজ করছি আর সেজন্য সরকার আমাকে জেলে পুরতে চাইছে, সরকার তখন বলতে পারে, ‘আমি ইচ্ছেমতো সবই করতে পারি কারণ জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। তুমি কে?’ তারা গণতন্ত্রের বুলি আউড়ে গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করতে চায়।

ভারতে আমাদের অনেক গণমাধ্যমের মালিকের নানারকম ব্যবসা আছে।  ব্যবসার প্রয়োজনে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা খুব সহজ, আবার সেই ব্যবসায়িক স্বার্থের দুর্বলতাকে মিডিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করাও সহজ। কোনো সম্পাদক নাগালের বাইরে চলার চেষ্টা করলে মালিককে একটা ফোন করা কঠিন কিছু না। 

মাহফুজ আনাম: গণতন্ত্র তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে?

শশী থারুর: খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেহেতু গেল এক বছরে অনলাইনে কাজের পরিমাণ বেড়েছে, সেখানে নজরদারিও বেড়েছে। এমনকি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জনগণ যে অ্যাপ ব্যবহার করছে সেটা দিয়েও নজরদারি করা সম্ভব যে কে কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যারা গণতন্ত্রকে অবজ্ঞা করে তাদের হাতেই রয়েছে এই নজরদারির ক্ষমতা। যখন প্রথম প্রথম এসব প্রযুক্তি এসেছে তখন আমরা ভেবেছি ক্ষমতায়ন হচ্ছে। দুর্বলের কণ্ঠস্বর হবার কথা ছিল প্রযুক্তির, গণতন্ত্রের সহায়ক হবার কথা ছিল। এ্খন একে মনে হচ্ছে অগণতান্ত্রিক উন্নয়ন।

মাহফুজ আনাম: একজন সংসদ সদস্য হিসেবে, আপনি কি আপনার সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করতে পারছেন?

শশী থারুর: হ্যাঁ আবার না। আমার কথা বলার অধিকার আছে। অবশ্যই যখন সরকারের নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে এবং তাদের শোনার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে, সংসদ অন্তত আমাদের মত প্রকাশের সুযোগ দেয়। যেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে আরেকটু প্রাণ পায়। আর এখন পর্যন্ত এটি বন্ধ হয়নি। আমাদের একধরনের তীব্র জাতীয়তাবাদ আছে, যা ভারতের যে কোনো অর্জন তা বাস্তব হোক বা কাল্পনিক তার গুণকীর্তন করতে থাকে। এর বাইরে সামান্য প্রতিবাদকেও দেশবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একটি টুইটের কারণে আমার নামে পাঁচটি আলাদা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। আত্মসমর্থনের জন্য আমাকে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্যে যেতে হয়েছে। প্রায় প্রতিটি স্বাধীন সংস্থাকে ঠুনকো বানিয়ে তাকে সরকারের আধিপত্য বিস্তারের যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। সেটাই হবে যেটা সরকার চাইবে। ভিন্নমত পোষণকারীদের এই জাতীয়তাবাদে কোনো ঠাঁই নেই।

মাহফুজ আনাম: রাজনীতিতে ধর্মীয় শক্তির উত্থান পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই লক্ষণীয়। যেমন, শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধত্ববাদ, ভারতে হিন্দুত্ববাদ ও পাকিস্তানে ইসলাম। বাংলাদেশেও একই ধরনের উত্থান হচ্ছে। একজন 'চিন্তাশীল নেতা' হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ কোনটা বলে মনে করেন?

শশী থারুর: নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষদের জন্য আলাদা দেশের ধারণা থেকেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে। আপনি কোন ধর্মের সেটা কোনো বিবেচ্য ছিল না ভারতের কাছে, সমান অধিকার ছিল। তবে এখন দেখছি এ নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন উঠছে। সংবিধান নিয়ে এক আলোচনায় প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ভারতের কি হিন্দু দেশ হওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রজন্মের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে এবং তারা এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একসময় মনে করা হতো সমাজে সাম্প্রদায়িক বার্তা ছড়ানো কোনো শিষ্টাচার নয়। সে ধারণা বদলাচ্ছে। এর সঙ্গে বলতে হয় বাস্তব সমস্যা হলো আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ মুসলিম সংখ্যালঘু যারা এতদিন অস্তিত্বের কোনো সংকট অনুভব করেনি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি সেই সংখ্যালঘুদের শত্রু হিসেবে দেখতে শুরু করেন, প্রতিবেশী শত্রু দেশের চর হিসেবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন, আপনি যদি দেশের ১৫ শতাংশ মানুষকে বলেন যে প্রমাণ করার আগ পর্যন্ত তারা দেশদ্রোহী... টিকে থাকা  এবং উন্নয়ন নির্ভর করে একটি সমাজের মানুষগুলোর মধ্যকার সংহতির ওপর। এটাই আমাদের উন্নয়নের গোপন রহস্য। আমাদের সমাজের সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা খুবই ভুল হবে। এই সাম্প্রদায়িকতার বীজ সমূলে উৎপাটন করতে হবে। এই প্রথমবারের মতো রাজনৈতিকভাবে আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অত্যন্ত বিরূপ আচরণ করছি। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে একটি ধারণা দেওয়া হয় যে, সংখ্যালঘুদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনেক বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছে যা হিন্দুত্ববাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই মতের ধারক-বাহকরা ভিন্ন মত সহ্য করতে পারেন না। যারাই সমালোচনা করেন তাদেরকেই পাকিস্তান চলে যেতে বলেন মন্ত্রীরা। এটা বলার মাধ্যমে তাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়। কোনো আসন জয়ের জন্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এখন ক্ষমতাসীনদের সফল একটি কৌশল। সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোট একীভূত করার মাধ্যমে তারা সংখ্যালঘুদের আলাদা করে দিচ্ছে। মেরুকরণের এই অবস্থা এখন বেশ জমজমাট।  এটা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। কারণ, বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে একত্রিত করে রাখার যে শক্তি গণতন্ত্রের রয়েছে সেটাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির জায়গা সেটি যেখানে কোনো সংখ্যালঘু নেই। কিন্তু, এটা কোনো সমাধান নয়। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভই হচ্ছে নিজের থেকে আলাদা মানুষদের নিয়ে একসঙ্গে থাকতে পারা।

মাহফুজ আনাম: প্রতিবেশী হিসেবে চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা আমাদেরকে সন্ত্রস্ত করছে। আমরা চাই এই দুই বৃহৎ শক্তি শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যাক এবং তাদের এই সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দিক পুরো অঞ্চলে। কিন্তু, মনে হচ্ছে, সংঘাতে না গেলেও তারা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দারিদ্র্য বিমোচন না করে সম্পদের এমন ব্যবহারে প্রতিবেশী হিসেবে আমরা চিন্তিত। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য?

শশী থারুর: হ্যাঁ, ভারতে আমরা এটা নিয়ে আলাপ করেছি। আমরাও মনে করি যে আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকাটা আমাদের এবং এই গোটা অঞ্চলের জন্যই মঙ্গলজনক। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মসহ আন্তঃবাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেটা সম্ভব। ১৯৯১ সালের আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২০০ মিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে এক বছর আগে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমরা বিরোধ ভুলে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। হ্যাঁ, আমরা সীমানার বিষয়ে হয়তো একমত হতে পারিনি। তবে, আমরা বলেছিলাম এতে কিছু যায় আসে না। আমরা জনগণের উন্নয়নে মনোযোগী হবো, যাতে উভয়ের লাভ হয়। তবে রহস্যজনক কারণে চীন এ ধারণায় আর থাকেনি। তারা নিজের দেশের ভেতরে এবং এশিয়ায় থাকা তাদের সব সীমান্তে শক্তি প্রয়োগ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন, হংকংয়ের নতুন নিরাপত্তা আইন, তাইওয়ানকে হুমকি দেওয়া বেশ ভয়াবহ। আমার মতে সবচেয়ে বাজে ঘটনা হলো আমাদের সীমান্তে যুদ্ধ অবস্থা তৈরি করা। তারা ইতোমধ্যে ভুটানের বিশাল অংশ নিয়ে নিয়েছে, ভারত সীমান্তে লাইন অফ কন্ট্রোল এলাকার ভূমি দখলের চেষ্টা করছে। সীমান্তটি বিতর্কিত হলেও, এটা সামরিক শক্তি দিয়ে নিষ্পত্তি করা যাবে বলে কেউই বিশ্বাস করে না। তারা সামরিক শক্তি ব্যবহার করেছে, আমাদের ২০ জন সৈন্যকে হত্যা করেছে। এটা অগ্রহণযোগ্য। কোনো আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন দেশ এটা মেনে নেবে না। সত্যি বলতে, এই ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ। বিনা উস্কানিতে চীনের এমন কাজ আমরা মেনে নিতে পারি না। বোঝাই যাচ্ছে সামরিক কৌশলে এগিয়ে যেতে দুই নদীর সংযোগস্থলে কর্তৃত্ব বাড়াতে এটা চীনের একটা কৌশলগত ব্যবস্থা। ভারতীয় সৈন্যরা নিজেদের পথেই ছিল এবং তারা এসে তাদের হত্যা করে। চীনকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেনো তোমরা এমনটা করেছ।

মাহফুজ আনাম: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্রশ্ন আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের খুব ভালো সম্পর্ক। তবে, আমরা মনে করি আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও বেশি ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষেই ভারতের বাজি ধরাটা আমাদের হতাশ করেছে।

শশী থারুর: এটা আমাকেও হতাশ করেছে এবং আমি সংসদেও এ নিয়ে কথা বলেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে পলিসি নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব নির্বুদ্ধিতা ও গোঁড়ামি প্রকাশ পেয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষমতাসীন দল রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সাম্প্রদায়িক করে ফেলেছে। আপনি জানেন যে রোহিঙ্গারা মুসলমান, আর বার্মিজ সরকার বৌদ্ধ। যখন সমস্যার শুরু হয় তখন অং সান সু চিসহ বেসামরিক নেতৃস্থানীয়দের ভারতপন্থী বলে মনে করা হতো। তাই ভারত মিয়ানমারের বিরোধিতা করতে চায়নি। এছাড়াও মিয়ানমারের প্রাকৃতিক গ্যাস  ও জ্বালানি আছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আছে। তারচেয়ে বড় কথা, চীনা অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে মিয়ানমার আবার আগের মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সুতরাং, তারা চায় না এমন কিছু আবার হোক। মুসলিম শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে আমাদের সম্পর্ককে কেন হুমকির মুখে ফেলব- এমন একটি প্রশ্নের মুখে এই কঠিন সিদ্ধান্ত তাদের নিতে হয়েছে। এটা অতি মাত্রায় রূঢ় একটি সিদ্ধান্ত। ভারত স্বাভাবিকভাবেই কিছু রোহিঙ্গার আশ্রয় দিলেও, তাদেরকে হয়রানিও করেছে। দুঃখের সঙ্গে বলছি, সরকার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরতও পাঠিয়েছে যা আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য।

মাহফুজ আনাম: ক্ষমতাসীনরা যদি সত্যের সংজ্ঞা দেয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, কোনো সংবাদকে মিথ্যে সংবাদ বলতে শুরু করে তখন গণমাধ্যম কীভাবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কথা বলবে?

শশী থারুর: ভারতে আমরা দেখি মিডিয়ায় সমালোচনা এতটাই কম হয় যে বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। গণমাধ্যমগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে গেছে কিংবা বিক্রি হয়ে গেছে। গণমাধ্যম বন্ধ করতে সরকার প্রায়ই যে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলে তাতে আমি শঙ্কিত। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কথা বলবেন? আমি মনে করি এসব ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলতে গেলে আপনার সাহস থাকতে হবে। ভারতে ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু কিছু সাহসী সাংবাদিকতা হচ্ছে, তাদের কোনো সম্পদের মালিকানা নেই, কোনো ছাপাখানা নেই। আছে কেবল কয়েকজন কর্মচারী, আর অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার। প্রায়শই এগুলোর আর্থিক যোগান দেয় কোনো ফাউন্ডেশন বা অলাভজনক সংস্থা কিংবা সেগুলো চলে ভোক্তাদের অর্থে। এদের ওপর আঘাত করার সুযোগ কম। ফলে তারা অনেক সাহসী হয়ে উঠতে পেরেছে। অথচ, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো কোটি কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে এবং তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও আছে। কাজেই ক্ষমতাসীনদের সামনে উঠে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ওপর। ছোট ছোট স্বতন্ত্র কার্যক্রম পরিচালনাকারী অনেককেই হয়রানি করা হয়, মামলা করা হয়, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। তখন প্রায়ই দেখা যায় সাহসী আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে, বিনা পারিশ্রমিকে তাদের মামলা লড়তে। এ ধরনের ঘটনায় মানুষের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোকে সাহসী হিসেবে দেখা গেলেও, এতে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটি যুদ্ধ, যেখানে হেরে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। আমরা যেমন আমাদের দেশে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি, আপনারাও তেমনি আপনাদের দেশে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি রাখুন, এই কামনা করি।

Comments

The Daily Star  | English

'Why haven't my parents come to see me?'

9-year-old keeps asking while being treated at burn institute

1h ago