বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে না সরকার

বেসরকারি হাসপাতালে সরকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে না বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম।
ছবি: রাশেদ সুমন

বেসরকারি হাসপাতালে সরকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে না বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যদি কোনো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ভ্যাকসিন আমদানি করতে চায়, তাহলে সরকার অনুমোদন দেবে।

‘সেক্ষেত্রে সরকার ভ্যাকসিনের (বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের আমদানিকৃত) জন্যে একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে দেবে’, যোগ করেন তিনি।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, গণটিকাদান কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।

ওই দিন ঢাকার যে অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের নেতারাও। তারা সেখানে দাবি জানিয়েছিলেন, টিকাদান কর্মসূচিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যুক্ত করতে যাতে সরকার সহায়তা করে।

সেই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘বেসরকারি খাতকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রাথমিক আলোচনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তাদেরকে ভ্যাকসিন আমদানি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্যে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছেন।

সরকার প্রথমে শিক্ষকদের ভ্যাকসিন দিয়ে এরপর শিক্ষার্থীদের দেবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদেরকে টিকা দেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ক্যাটাগরি যোগ করেছি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রথম মাসে সরকার সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ৪০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী লোকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দিচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার তালিকায় শিক্ষকরা ছিলেন না। কিন্তু, সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শিক্ষকদের তালিকায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চলমান প্রেক্ষাপটে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে। শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, আগামী ৩০ মার্চ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল দেওয়া হয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জনকে। তাদের মধ্যে ২১ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা গেছে।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৮৯২ জন ভ্যাকসিনের জন্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

এদিকে গতকাল আবারও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর হার। ১৩ হাজার ৭৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনায় আক্রান্ত আরও ৫৮৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ৩১ শতাংশে। এর আগের দিন শনাক্তের হার ছিল দুই দশমিক ৮৭ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৮০১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, করোনায় মারা গেছেন আরও আট জন। তাদের মধ্যে চার জন পুরুষ ও চার জন নারী। এ পর্যন্ত মারা গেছেন আট হাজার ৪১৬ জন। মোট শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন চার লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ জন। মোট শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

Comments

The Daily Star  | English

Personal data up for sale online!

Some government employees are selling citizens’ NID card and phone call details through hundreds of Facebook, Telegram, and WhatsApp groups, the National Telecommunication Monitoring Centre has found.

7h ago