অপরাধ ও বিচার

কুষ্টিয়ায় ভুয়া চিকিৎসকের ২ বছরের কারাদণ্ড

মেডিসিন বিষয়ে এমবিবিএস, এমসিপিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক গত পাঁচ বছর ধরে রোগীদের চিকিৎসা করে আসছেন। গতকাল সোমবার জানা যায়, তিনি আসলে এসএসসির গণ্ডিও পার করেননি।
ভুয়া ডাক্তার এম কে এইচ খান বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

মেডিসিন বিষয়ে এমবিবিএস, এমসিপিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক গত পাঁচ বছর ধরে রোগীদের চিকিৎসা করে আসছেন। গতকাল সোমবার জানা যায়, তিনি আসলে এসএসসির গণ্ডিও পার করেননি।

গতকাল কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আটক করে এই ভুয়া ডাক্তার এম কে এইচ খান বিজয়কে।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রমাণ ও তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বিজয়কে। রাতেই কুষ্টিয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়ার কমান্ডার মেজর মাহফুজুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে গতকাল দুপুরে অভিযান পরিচালনা কর হয় কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। হাসপাতালটি কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের পাশে অবস্থিত।

অভিযানের সময় র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বিজয় জানান, তার বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়।

তিনি দাবি করেন, সিলেটের ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। এমবিবিএসের সার্টিফিকেটের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ইস্যু করা একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ডও দেখান।

মেজর মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘বিএমডিসির রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নথি পর্যালোচনা করে এম কে এইচ খানকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে নিশ্চিত করেন। বিএমডিসির ইস্যু করা যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড তিনি দেখান সেটা সাতক্ষীরার একজন চিকিৎসকের, যিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।’

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন ডা. রাকিবুল হাসান।

র‌্যাব জানায়, দুবছর আগে কুষ্টিয়ায় বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছিলেন বিজয়। বাড়ি ভাড়া নিয়ে তৈরি করেছিলেন হাসপাতাল।

হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার, কেবিন, সাধারণ ওয়ার্ড সবই রয়েছে। রোগীদের অস্ত্রোপচারও করতেন বিজয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ স্বীকার করে নিলে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে সহযোগিতা করার দায়ে বাড়ি মালিক সায়েদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।

Comments

The Daily Star  | English

'Why haven't my parents come to see me?'

9-year-old keeps asking while being treated at burn institute

10m ago